জেএসসির চারু ও কারুকলা প্রস্তুতি
প্রকাশ : ০৫ আগস্ট ২০১৩, ২০:৪৯
অধ্যায় - ৪র্থ
প্রিয় ছাত্র-ছাত্রী, শুভেচ্ছা রইল। আশা করি সবাই ভালো আছ। আজ আমি ৮ম শ্রেণীর চারু ও কারুকলা বইয়ের চতুর্থ অধ্যায় “শিল্পকলা”থেকে আলোচনা করবো এবং কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উল্লেখ করবো। আশা করি তোমরা উত্তরগুলো সংগ্রহে রাখবে।
লোকশিল্প ও কারুশিল্পের পারস্পরিক সম্পর্ক ও পার্থক্য নির্ণয় কর।
নকশি কাঁথা, নকশি পাখা, খেলার পুতুল এ জাতীয় শিল্পকে আমরা লোকশিল্পের পর্যায়ে ফেললেও এগুলো কারুশিল্পের ধারায় সৃষ্টি। সাধারণ মানুষ মনের আনন্দ নিয়েই এ সমস্ত শিল্প তৈরি করে। চারুশিল্পের অন্তর্গত প্রতিটি শিল্পই আবার একটি অন্যটির সাথে কোনো না কোনোভাবে সম্পর্কিত। চারু ও কারুশিল্প উভয়ই আমাদের দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহারিক প্রয়োজনে কাজে লাগে, পাশাপাশি মনের আনন্দ যোগায়।
লোকশিল্প মূলত কারুশিল্পের ধারাতেই তৈরি শিল্পকর্ম; যেমন কৃষক যখন মাটির হাঁড়ি, কলসি ইত্যাদি বানায়, তখন তা কারুশিল্প। এই হাঁড়ি-পাতিলের মধ্যে রং করে তাতে নকশা বা ছবি এঁকে যখন একে শখের হাঁড়ি বানানো হয় তখন তা হয় লোকশিল্প।
তবে লোকশিল্পের সাথে কারুশিল্পের পার্থক্য হলো; কারুশিল্প দক্ষ কারিগরের তৈরি এবং তা ব্যবহারিক প্রয়োজন মেটায়। অন্য দিকে লোকশিল্প সাধারণ মানুষের তৈরি শিল্প সামগ্রী। যেমন গ্রামের সাধারণ মেয়ের তৈরি নকশি কাঁথা। কাঁথায় সূতোর ফোড়ে অত্যন্ত যত্ন ও আবেগ দিয়ে ফুটিয়ে তোলা হয় ছবিগুলো। নকশি কাঁথার ব্যবহারিক দিক আছে। আবার মাটি টিপে টিপে যে সব হাতি, ঘোড়া, পুতুল ইত্যাদি বানানো হয় বা কাঠের তৈরি ছোট-বড় হাতি, ঘোড়া ইত্যাদি লোকশিল্পের কোনো ব্যবহারিক প্রয়োজন নেই।
লোকশিল্প ও কারুশিল্পের পার্থক্য নিম্নরূপ:
কারুশিল্প লোকশিল্প
১। মাটির হাঁড়ি, কলসি ইত্যাদি বানানোর প্রক্রিয়া কারুশিল্প।
২। কারুশিল্প দক্ষ কারিগরের তৈরি।
৩। ব্যবহারিক প্রয়োজন আছে।
১। মাটির হাঁড়ি, পাতিলে রং করে নকশা বা ছবি এঁকে শখের হাঁড়ি বানানো হলো লোকশিল্প।
২। লোকশিল্প সাধারণ মানুষের তৈরি।
৩। ব্যবহারিক প্রয়োজন নেই।