চলনবিলে নির্বিচারে পোনা মাছ নিধন:কর্তৃপক্ষ নিরব
চলনবিল (সিরাজগঞ্জ) সংবাদদাতা
প্রকাশ : ০৫ আগস্ট ২০১৩, ২১:৪৯
চলনবিলের ৯ উপজেলার বন্যা প্লাবিত অঞ্চলে নির্বিচারে পোনা মাছ নিধন চলছে। যমুনা নদীর এসব পোনা মাছ বাঘাবাড়ির হুড়াসাগর ও বড়াল-গুমানি হয়ে বন্যার পানির সাথে চলনবিলে প্রবেশ করেছে। প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় অবিরাম পোনা ও মা মাছ নির্বিচারে নিধন করা হলেও প্রশাসন ও মত্স্য বিভাগ নিরব।
জানা যায়, শুষ্ক মৌসুমে চলনবিলে কোথাও পানি থাকে না। পার্শ্ববর্তী আত্রাই, নন্দকুজা, গুমানি, করতোয়া এবং ভদ্রাবর্তীও পানি শূন্য হয়ে পড়ে। যার ফলে মা মাছ কোথাও অবস্থান করতে পারছে না। অপর-দিকে চলনবিলের অভ্যন্তরে বাঘাবাড়ি থেকে তাড়াশ পর্যন্ত দীর্ঘ বাঁধের পার্শ্বের খালের পানি সেচ করে প্রভাবশালীরা সকল প্রকার মা মাছ নিধন করায় আষাঢ় মাসে ডিম ছাড়ার মত জীবিত মাছ থাকছে না। যমুনা নদীর রেণু পোনাই বর্ষা মৌসুমে চলনবিলে মাছের বংশ বৃদ্ধির একমাত্র ভরসা। জানা যায়, আষাঢ়-শ্রাবণ মাসে যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধির সময় চলনবিলে বন্যার পানি প্রবেশ করে। এ সময় রুই, কাতলা, মৃগেলসহ বিভিন্ন জাতের দেশীয় মাছের পোনা হুড়াসাগর ও বড়াল হয়ে চলনবিলে প্রবেশ করে। বিলের ৯ উপজেলার নিম্নাঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে। বন্যার পানি বৃদ্ধির সাথে সাথে মাঝারি উচ্চ অঞ্চলে আমন ধানের জমিতে প্রবেশ করে দ্রুত বেড়ে উঠে। কিন্তু এ বছর চলনবিলের নিচু অঞ্চলেই বন্যার পানি সীমাবদ্ধ থাকায় পোনা মাছ অনেকাংশেই ধান ক্ষেতে প্রবেশের সুযোগ পাচ্ছে না। এতে মত্স্য নিধনকারীদের পোনা মাছ নিধনের সুযোগ হয়েছে।
বিলের পুর্বাঞ্চলের শাহজাদপুর থেকে ফরিদপুর, ভাঙ্গুড়া, উল্লাপাড়া, তাড়াশ, চাটমোহর, গুরুদাসপুর সিংড়া ও আত্রাই উপজেলার বিলের সর্বস্থানেই বাদাই জাল, কারেন্ট জাল ও খোড়ার ঘনজাল দিয়ে দিন-রাত পোনা মাছ নিধন অব্যাহত রয়েছে। রাতভর জাল সেচে তোলা এসব মাছ মহিষলুটি, লাহিড়ী, মোহনপুরসহ বিভিন্ন আড়তে সকালে পাইকারদের নিকট বিক্রি করছে। এ সব পোনা মাছ স্থানীয় হাট-বাজারেও বিক্রি হচ্ছে।