দুবলার চর থেকে র্যাব উঠে যাওয়ায় বনদস্যুরা বেপরোয়া

দুবলার চর থেকে র্যাবের ক্যাম্প প্রত্যাহার করার পর থেকে গত কয়েকদিনে আবারও সুন্দরবনে ডাকাতের উপদ্রব দেখা দিয়েছে। তিনদিনে বিভিন্ন জেলে আশ্রয় এলাকা ও সাগরে হানা দিয়ে অর্ধশতাধিক জেলেকে অপহরণ ও ১০টি ফিশিং বোট ছিনিয়ে নিয়েছে। জুলাই মাসের শেষ সপ্তাহে দুবলার চরের আলোরকোলে যে র্যাবের টহল দলটি অবস্থান করছিল তা হঠাত্ করে প্রত্যাহার করা হয়। এরপর ডুবোজাহাজ এলাকা ও নীলবাড়িয়ার চর এলাকা থেকে রামপালের পেরিখালী ও বাগেরহাটের বগা এলাকার দু’জন মত্স্য ব্যবসায়ীর দু’টি ফিশিং বোট ডাকাতরা নিয়ে যায়। এ সময় আশেপাশের আরও কয়েকটি জেলে নৌকায় হানা দিয়ে কয়েক লাখ টাকার আহরিত মাছ, রসদপত্র, জাল ও জ্বালানি লুট করা হয়। পাশাপাশি নারিকেলবাড়িয়া, দুবলার চর ও কটকা বনাঞ্চলে জেলেদের শতাধিক ফিশিং বোটে হানা দিয়ে ব্যাপক লুটতরাজ চালানো হয়। গত বৃহস্পতিবার থেকে শনিবার বিভিন্ন বোট থেকে ৫০ জন জেলেকে অপহরণ ও মোট আটটি জেলে নৌকা নিয়ে যাওয়া হয়। সুন্দরবন ও বঙ্গোপসাগরে ইলিশ আহরণ মৌসুমে ডাকাতি প্রতিরোধের জন্য দুবলার চর এলাকায় কোষ্টগার্ড ও র্যাবের ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়নে আলোরকোলে একটি বহুমুখী সাইক্লোন শেল্টারে এই ক্যাম্প ছিল। অর্থায়নকারী সংস্থার সাথে চুক্তি ছিল এই শেল্টারে শুধু কোষ্টগার্ড অবস্থান করবে। কিন্তু র্যাবও সেখানে ক্যাম্প করায় উক্ত বিদেশি সংস্থা আপত্তি জানায়। যে কারণে র্যাব ক্যাম্প প্রত্যাহার করে চলে আসে বলে জেলেদের সূত্রে জানা গেছে।