খুলনার ফুটপাতের ‘ঈদ-বাজারে’ ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড়
প্রকাশ : ০৫ আগস্ট ২০১৩, ২২:২৫
শেষ মুহূর্তে শিল্প নগরী খুলনার ফুটপাতের ‘ঈদ বাজারে’ ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়। নিম্নবিত্ত, মধ্যবিত্ত ও স্বল্প আয়ের ক্রেতাদের পদভারে মুখরিত হয়ে উঠেছে ফুটপাতের দোকানগুলো। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ফুটপাতের দোকানে চলছে অবিরাম বেচা কেনা। ক্রেতা-বিক্রেতা কারোই যেন দম ফেলবার ফুরসত নেই।
ঈদে চাই নতুন জামা-জুতা। তাই ক্রেতারা সাধ্য অনুযায়ী ছুটছেন পছন্দের মার্কেটে। তবে খুলনা মহানগরীসহ আশপাশ এলাকার নিম্নবিত্ত, মধ্যবিত্ত ও স্বল্প আয়ের মানুষের পছন্দ নগরীর প্রাণকেন্দ্র ডাকবাংলা মোড়, পিকচার প্যালেস মোড়, ক্লে রোড, কেডিঘোষ রোড ও সিমেট্রি রোডের ফুটপাতের দোকানগুলো। নিউ মার্কেট, সেভ অ্যান্ড সেভ, খুলনা শপিং সেন্টার, আক্তার চেম্বার, এশা চেম্বার, জলিল টাওয়ারসহ বড় বড় বিপণী কেন্দ্র ও অভিজাত শপিং মলগুলোর চেয়ে ফুটপাতের দোকানগুলোতেই স্বল্প আয়ের ক্রেতাদের ভিড় বেশি।
খুলনা মহানগরীর ফুটপাতের দোকানগুলোতে পাওয়া যাচ্ছে নারী-পুরুষের বিভিন্ন ধরনের পোশাক, গেঞ্জি, টি শার্ট, জামা, জিন্সের প্যান্ট, ছোট বাচ্চাদের পোশাক, খেলনা, জুতা-স্যান্ডেল, ভিউকার্ড, টুপি, আতর, সুরমা, সেমাই, চিনি ও মশলাসহ ঈদের খুঁটিনাটি সকল জিনিসপত্র। ফুটপাতের দোকানগুলোতে গেঞ্জি বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকা থেকে ১৫০ টাকায়। টি শার্ট বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকা থেকে ২৫০ টাকায়। ১০০ টাকা থেকে ১৫০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে লুঙ্গি। টুপির দাম ১০ টাকা থেকে ৮০ টাকা পর্যন্ত। ভাসানী, জিন্নাহ, সাঈদী, গোল ও লম্বা টুপির চাহিদা বেশি। টুপির পাশাপাশি আতর-সুরমা বিক্রি হচ্ছে দেদারছে। এগুলো ৫ টাকা থেকে ৫০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।
সিমেট্রি রোড থেকে ক্লে রোডের ফুটপাতের দু’ পাশ জুড়ে বসেছে অজস্র জুতা-স্যান্ডেলের দোকান। এ দোকানগুলোতে নিম্নবিত্ত ও স্বল্প আয়ের ক্রেতাদের ভিড় বেশি। এছাড়াও ডিসকাউন্টের দোকানগুলোতেও ক্রেতাদের প্রচন্ড ভিড়। ঈদের শেষ মুহূর্তে ক্রেতাদের পদভারে খুলনা মহানগরীর ফুটপাতই হয়ে উঠেছে ভ্রাম্যমাণ বাজার।
ঈদের বিক্রি সম্পর্কে ফুটপাতের কাপড়ের দোকানদার ইমরান ও মঞ্জু বলেন, গত বছরের তুলনায় এবারের ঈদের বিক্রি অনেক ভালো। অপরদিকে সেমাই, চিনি ও মশলার দোকানগুলোতেও ভিড় বাড়তে শুরু করেছে। দোকানীরা জানান, দুই-একদিনের মধ্যে তাদের দোকানগুলোতেও আরো ক্রেতা বৃদ্ধি পাবে।