যাত্রী কল্যাণ সমিতির অভিযোগ

অতিরিক্ত ভাড়ার নামে ১০ হাজার কোটি টাকা লুটপাট হচ্ছে

ঈদ মৌসুমকে কেন্দ্র করে দেশের সড়ক, রেল ও নৌ-পথে যাত্রীদের কাছ থেকে ঈদ বকশিস এবং অতিরিক্ত ভাড়ার নামে ১০ হাজার কোটি টাকা লুটপাট করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি। জাতীয় প্রেসক্লাবে গতকাল সোমবার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটি এ অভিযোগ করে। বক্তারা সংবাদ সম্মেলনে বলেন, গন্তব্যে যাতায়াত ও ঈদ বাজারসহ নানা কাজে ১৩ কোটি যাত্রীর প্রত্যেককেই বাধ্যতামূলকভাবে ঈদ বকশিস ও অতিরিক্ত ভাড়ার নামে বাড়তি ভাড়া গুনতে হচ্ছে। যাত্রী কল্যাণ সমিতির নেতারা বলেন, ঈদ মৌসুমে গন্তব্যভেদে ও ক্ষেত্র বিশেষে যাত্রী প্রতি টিকেটে ১০০ টাকা থেকে ৫০০ বা ৭০০ টাকার বেশি আদায় করা হচ্ছে। এছাড়াও কোনো কোনো ক্ষেত্রে টিকেটের কৃত্রিম সংকটের অজুহাত দেখিয়ে কৌশলে দালালদের মাধ্যমে আরো দ্বিগুণ বা তিনগুণ বাড়তি টাকা আদায় করা হয়। তারা আরো বলেন, সংগঠনের পক্ষ থেকে পর্যবেক্ষণ করে দেখা গেছে—সারাদেশে ৮০ হাজার বাস দৈনিক যাত্রী প্রতি গড়ে ৩০০ টাকা বাড়তি ভাড়া আদায় করে। এর ফলে দৈনিক বাস প্রতি গড়ে ১২ হাজার টাকার অধিক অতিরিক্ত ভাড়া আদায় হয়। এ হিসাবে ৮০ হাজার বাস দৈনিক ৯৬ কোটি টাকা এবং ঈদের ১৫ দিনে ১৪৪০ কোটি টাকা বাড়তি ভাড়া যাত্রীদের কাছ থেকে আদায় করছে। তারা জানান, এছাড়া ২০ হাজার মিনিবাস ৩শ’ কোটি টাকা, ২ লক্ষ অটোরিক্সা ৯শ’ কোটি টাকা, ২০ হাজার মাইক্রোবাস ও ট্যাক্সি ক্যাব ৩৬০ কোটি টাকা, ২ লক্ষ হিউম্যান হলার, নছিমন, করিমন, ভটভটি ইজি-বাইক ১৫শ’ কোটি টাকা, ৫ লক্ষ রিক্সাসহ পিকআপ, ট্রাক, মিনিট্রাক ৫শ’ কোটি টাকা যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়ার নামে লুটপাট করবে। এ সময় বক্তারা নৈরাজ্য ও যাত্রী হয়রানি বন্ধে তুলে ধরা উল্লেখযোগ্য দাবিগুলো হলো—গণপরিবহনের সংখ্যা বাড়ানো, মনিটরিং টিমে যাত্রীদের প্রতিনিধি রাখা ও টিমের কার্যক্রম জোরদার করা, শাস্তির বিধান নিশ্চিত করা, টিকিটের গায়ে দূরত্ব ও ভাড়ার পরিমাণ অংকে প্রিন্টের ব্যবস্থা করা এবং ট্রেনের টিকেট কালোবাজারি বন্ধে যাত্রীর জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর অথবা মোবাইল নম্বরসহ যাত্রীর নামে টিকিট ইস্যুর ব্যবস্থা করা। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন—সংগঠনের চেয়ারম্যান শরীফ রফিকউজ্জামান, মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী, সদস্য লায়ন মাহামুদুল হাসান রাসেল প্রমুখ।