সরকারি জমিতে বাড়ি বানানোয় এমপি রনিকে প্রশাসনের নোটিস
প্রকাশ : ০৫ আগস্ট ২০১৩, ২২:৫৭
সরকারি খাস জমি একসনা বন্দোবস্ত নিয়ে শর্ত ভঙ্গ করে সেখানে দোতলা পাকা বাড়ি নির্মাণ করায় পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা-দশমিনা) আসনের সংসদ সদস্য গোলাম মাওলা রনি, তাঁর স্ত্রী কামরুন নাহার রুনু, বাবা সামসুদ্দিন মুন্সি এবং মা মনোয়ারা বেগমকে কারণ দর্শানোর নোটিস দয়েছে গলাচিপা উপজেলা ভূমি প্রশাসন।
গলাচিপা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ মাহবুব আলম গত ৩১ জুলাই ওই নোটিসে স্বাক্ষর করেন। নোটিসে গলাচিপার উলানিয়া বন্দরের উলানিয়া মৌজার অকৃষি খাস জমি চান্দিভিটির জন্য একসনা বন্দোবস্ত নিয়ে বন্দোবস্তের শর্ত ভঙ্গ করে সেখানে দোতলা বাড়ি নির্মাণ করার কারণে কেন তাঁদের(বিবাদী) বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে না তা জানতে চেয়ে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে বিবাদীদের কারণ
দর্শাতে বলা হয়েছে।
উপজেলা ভূমি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বিবাদীদের মধ্যে গোলাম মাওলা রনির বাবা সামসুদ্দিন মুন্সি ২০১০ সালের নভেম্বর মাসে মারা যান। সাংসদ গোলাম মাওলা রনি একটি মামলায় গাজীপুরের কাসিমপুর জেলখানায় বন্দী রয়েছেন। অপর দুই বিবাদী এলাকায় না থাকায় তাঁদের কাছে নোটিস পৌঁছানো যায়নি। তাঁদের পক্ষে কোনো আত্মীয়ও নোটিস গ্রহণ করেননি। এ অবস্থায় গতকাল সোমবার সাংসদ রনির উলানিয়া বন্দরের ওই বাড়ির দেয়ালে নোটিসটি টানিয়ে দেয়া হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনার(ভূমি) মোঃ মাহবুব আলম দেয়ালে লটকিয়ে নোটিস জারির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনার(ভূমি) মো: মাহবুব আলম জানান, তার উপজেলা ভূমি অফিসের লোক নোটিস নিয়ে ঐ বাড়িতে গেলে কেউ নোটিস গ্রহণ না করায় গতকাল আনুষ্ঠানিকভাবে ঐ বাড়ির দেয়ালে লটকিয়ে নোটিস জারি করা হয়েছে।
সামসুদ্দিন মুন্সি ১৯৭৪ সালে ফরিদপুরের সদরপুর এলাকা থেকে জীবিকার সন্ধানে গলাচিপা উপজেলার উলানিয়া বন্দরে আসেন। ইউনিয়নের তত্কালীন চেয়ারম্যান পরিবার পরিজন নিয়ে থাকার জন্য তাকে উলানিয়া বন্দরে খাস জমিতে ঘর তোলার অনুমতি দেন। সেখানে ঘর তুলে বসবাস করছিলেন সামসুদ্দিন মুন্সির পরিবার। ২০০৮ সালের পর সেখানে দুই তলা একটি বাসভবন নির্মাণ করা হয়।