বেদখল প্লটে জামানত গ্রহণ অনিশ্চিত ফ্ল্যাট নির্মাণ

অবৈধ দখল ও মামলা সংক্রান্ত জটিলতায় অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে ধানমন্ডি আবাসিক এলাকা ও মোহাম্মদপুর হাউজিং এস্টেটের ১০টি পরিত্যক্ত প্লটের উপর বহুতল ভবন নির্মাণ প্রকল্প। ফ্ল্যাট বরাদ্দ প্রাপ্তদের কাছ থেকে তিন ক্যাটাগরিতে ৮১ কোটি ৮৭ লাখ ১ হাজার ৪২৫ টাকা জামানত আদায় করা হলেও এখনো নির্মাণ কাজ শুরু করতে পারেনি জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ। ফলে ফ্ল্যাটের জন্য জামানত দিয়ে ভোগান্তিতে পড়েছেন আবেদনকারীরা।

ভুক্তভোগীরা বলছেন, ফ্ল্যাটের জন্য জামানত দিয়েছেন প্রায় দুই বছর হয়েছে। অথচ এখনো ফ্ল্যাট নির্মাণের কোনো অগ্রগতি নেই। আদৌ ওইসব প্লট দখলমুক্ত করে ফ্ল্যাট নির্মাণ হবে কিনা তা নিয়ে অনিশ্চিয়তা দেখা দিয়েছে। এ নিয়ে তারা দুঃশ্চিন্তায় আছেন।

জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা যায়, ঢাকার ধানমন্ডি ও মোহাম্মদপুরস্থ ১০টি প্লটে বিভিন্ন ক্ষেত্রফলের ২৫৩টি আবাসিক ফ্ল্যাট নির্মাণ প্রকল্পের ২০২টি ফ্ল্যাট বিক্রয়ের জন্য বরাদ্দ প্রাপ্তদের কাছ থেকে তিন ক্যাটাগরিতে জামানত নেওয়া হয়েছে। প্রকল্প অনুযায়ী, ৫১টি ফ্ল্যাট অফিসার্স কোয়ার্টার হিসেবে ব্যবহারের জন্য কথা রয়েছে। বেসরকারি চাকরি, ব্যবসায়ী, পেশাজীবী, অনাবাসী বাংলাদেশি, মুক্তিযোদ্ধা, অন্যান্য পেশাজীবী এবং সংরক্ষিত কোটায় ফ্ল্যাট বরাদ্দ দেওয়ার কথা রয়েছে। বরাদ্দের জন্য অপেক্ষমাণ লোকজন ফ্ল্যাটের আয়তন ভেদে জামানত হিসেবে ছয় লাখ, চার লাখ এবং তিন লাখ টাকা করে জমা দিয়েছেন। তবে প্রকল্পের জন্য বেছে নেওয়া ১০টি প্লটের মধ্যে ৮টি এখনো বেদখল রয়েছে। শুধুমাত্র দুটি প্লট কর্তৃপক্ষের হাতে রয়েছে। ফলে ঢাকঢোল পিটিয়ে হাতে নেওয়া এ ফ্ল্যাট নির্মাণ প্রকল্প অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে সরকারের উচ্চ পর্যায়ের একজন কর্মকর্তা জানান, তিনি নিয়ম মেনে এ প্রকল্পে আবেদন করেছেন। সেখানে ৬ লাখ টাকা জামানতও দেওয়া হয়েছে। কিন্তু দুই বছর ধরে তা ঝুলে আছে। এখনো পর্যন্ত লটারি হচ্ছে না। এরই মধ্যে নিয়ম-নীতি না মেনেই সংরক্ষিত কোটার নামে ১০টি ফ্ল্যাট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

প্রকল্প সূত্রে জানা যায়, ১০টি প্লটের মধ্যে রয়েছে ধানমন্ডি আ/এ এর ১ নং সড়কের ২৯ নং বাড়ি, ৬/এ নং সড়কের ৬৩ নং বাড়ি এবং একই সড়কের ৩৮/বি নং বাড়ি, ১০/এ নং সড়কের ৫৩ নং বাড়ি, ২ নং সড়কের ৩০ নং বাড়ি, ১২/এ নং সড়কের ৭১ নং বাড়ি, ধানমন্ডি এলিফ্যান্ট রোডের ২১৫ নং বাড়ি, মোহাম্মদপুর হা/এ এর ব্লক-ই, আসাদ এভিনিউ, প্লট নং-৩৯/সি ও ৩৮/সি এবং একই এলাকার ইকবাল রোডের ব্লক-এ, প্লট নং ১২/৩ এবং হুমায়ুন রোডের ব্লক-বি এর ৬/২৪ নং প্লট। এসব প্লটে বসবাসকারীদের অনেকেরই দাবি, তারা সরকারি বিধি বিধান মেনে এসব প্লট বরাদ্দ পেয়েছেন। আবাসন পরিদপ্তর থেকে তাদের এ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

ধানমন্ডি ও মোহাম্মদপুরস্থ ১০টি প্লটে বিভিন্ন ক্ষেত্রফলের ২৫৩টি আবাসিক ফ্ল্যাট নির্মাণ প্রকল্পের জায়গার মূল্য গত বছরের ৭ জানুয়ারি পরিশোধ করা হয়েছে। প্রকল্পের কাজ ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে প্রকল্পের জায়গা বুঝিয়ে দেয়ার জন্য জেলা প্রশাসক বরাবর একটি চিঠিতে নির্দেশক্রমে অনুরোধ করেছে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ। তবে এখনো জায়গা বুঝে পায়নি কর্তৃপক্ষ। এ বিষয়ে জানতে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মো. রাশিদুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন ধরেননি। সদস্য (প্রশাসন) মুকেশ চন্দ্র বিশ্বাস(যুগ্ম সচিব) এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।