নামেই ওরা যুবলীগ নেতা ২ দলেই আছে গডফাদার

যুবলীগ নামধারী কিছু সন্ত্রাসী রাজধানীর বিভিন্ন কমিটিতে টাকার বিনিময়ে নাম লিখিয়েছেন। তারা যুবলীগের নামে টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি, দখল বাণিজ্য ও মাদক ব্যবসা করে আওয়ামী লীগের এই আমলে কোটি কোটি টাকা কামিয়ে নিয়েছে। এই সন্ত্রাসীদের সঙ্গে আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃত্বের সম্পর্ক তো আছেই, পাশাপাশি রয়েছে বিএনপির কেন্দক্ষণ) সাংগঠনিক সম্পাদক রিয়াজুল হক খান মিল্কী হত্যাকাণ্ডের পর বেরিয়ে এসেছে এসব চাঞ্চল্যকর তথ্য। মিল্কীর বডিগার্ড মারুফ রেজা সাগরের স্ত্রী ফাহিমা ইসলাম লোপার আদালতে দেয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে বেরিয়ে এসেছে অনেক যুবলীগ নেতার উত্থান কাহিনী ও তাদের গডফাদারদের নাম। এদিকে মিল্কী হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী যুবলীগ ঢাকা মহানগরের (উত্তর) সাংগঠনিক সম্পাদক শাখায়াত হোসেন চঞ্চলের ভগ্নিপতি মহানগর বিএনপির নেতা পাপ্পুকে র্যাব গ্রেফতার করেছে। পাপ্পু কিলারদের নানাভাবে সহায়তা করেন। এদিকে চঞ্চলের গাড়ি চালক জাহাঙ্গীর বিশ্বাস এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত কিলারদের সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য র্যাবকে জানিয়েছে। আজ মঙ্গলবার আদালতে জাহাঙ্গীর বিশ্বাসকে হাজির করা হবে। জাহাঙ্গীর বিশ্বাস জানায়, মিল্কীকে হত্যা করার দিন অর্থাত্ ২৯ জুলাই গুলশানে জব্বার টাওয়ারের কাছে চঞ্চলের অফিসে খুনিরা একসঙ্গে ইফতার করে। রাত সাড়ে ৯টায় সোহেলের নেতৃত্বে খুনিরা মিল্কীকে হত্যার উদ্দেশ্যে বের হয়। জাহাঙ্গীরের দায়িত্ব ছিল ওইদিন চঞ্চলের লাল রংয়ের এলিয়ন প্রাইভেটকারটি নিয়ে প্রস্তুত থাকা। কিলিং মিশনে অংশগ্রহণকারীদের দায়িত্ব বুঝিয়ে দেন চঞ্চল। রাত ১১টার পর মিল্কীকে নিয়ে সাগর রাজধানীর গুলশানের অভিজাত দোকান ভাসাবিতে আসেন। সেখান থেকে খুনিরা একটি মোটর সাইকেলে করে মিল্কীকে অনুসরণ করতে থাকেন। ওই সময় সাগরের স্ত্রী লোপা তারেককে ফোন করে জানান মিল্কী যাচ্ছেন শপার্স ওয়ার্ল্ডে। তারেকের নেতৃত্বে খুনিরা অবস্থান নেন ওই মার্কেটের সামনে। রাত ১টায় নিজ গাড়ি থেকে নেমে মিল্কী শপার্স ওয়ার্ল্ডের দিকে যাওয়ামাত্রই অস্ত্র উঁচিয়ে ৬ রাউন্ড গুলি করেন তারেক। মিল্কী মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে সোহেল আরো দুই রাউন্ড গুলি করে মিল্কীর মৃত্যু নিশ্চিত করেন। সেখান থেকে গুলিবিদ্ধ তারেক মোটর সাইকেলযোগে চঞ্চলের অফিসে যায়। খুনিরা মোটর সাইকেলটি ও অস্ত্র জমা দেয় চঞ্চলের কাছে। কাছের ডেসা অফিসে রাখা হয় মোটর সাইকেল। চঞ্চলের টেন্ডারবাজির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা আয়ের উত্স এই ডেসা অফিসে তার গাড়ি ও তার ক্যাডারদের মোটর সাইকেল রাখা হত। জাহাঙ্গীর জানান, তারেককে চিকিত্সার জন্য তিনিই প্রথমে নিয়ে যান মগবাজারের রাশমনো হাসপাতালে। হত্যাকাণ্ডের সময় কথা বলার জন্য মোবাইলসহ অন্যান্য জিনিস দিয়ে সাহায্য করেছেন বিএনপি নেতা পাপ্পু। পরদিন ভোরে উত্তরার ফরচুন হাসপাতালের নিচ থেকে র্যাব জাহাঙ্গীর বিশ্বাসকে গ্রেফতার করে। র্যাব জানায়, একটি প্রাডো জিপ নিয়ে জাহাঙ্গীর হাসপাতালের নিচে অপেক্ষা করছিলেন। জানা গেছে, চঞ্চল ডেসা অফিস ছাড়াও বাড্ডা, গুলশান, উত্তরা, খিলক্ষেত এলাকায় চাঁদা আদায়, জমি দখল ও মাদক ব্যবসাসহ কোটি কোটি টাকার অবৈধ বাণিজ্য করে আসছিল। দলীয় কয়েকজন নেতাকে ভাগ দেয়ার পাশাপাশি ভাগ যেত বিএনপির কিছু নেতার কাছে। তারেকেরও বিএনপিতে ভালো যোগাযোগ ছিল। তার তিন নিকটাত্মীয় বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের নেতা। এদের একজনের সঙ্গে ছিল তার ব্যবসা। তারেকের ভগ্নিপতি রফিক যুবলীগের নেতা। রফিক ওয়াসায় টেন্ডারবাজি করে কোটি কোটি টাকা কামাচ্ছেন। রফিকও হত্যাকাণ্ডে নানাভাবে তারেককে সহযোগিতা করেছে। র্যাব জানায়, তারেক, চঞ্চল ও রফিকসহ একডজন নেতাকর্মী যুবলীগের নাম ব্যবহার করে টেন্ডারবাজি, চাঁদা আদায়, দখল ও মাদক ব্যবসা করে কোটি কোটি টাকা কামানোই মূল পেশা। তারা কোন দলীয় লোক নয়। যে সরকার ক্ষমতায় আসবে সেই সরকারের দলীয় নেতাকর্মী সেজে একই বাণিজ্য করে। মিল্কী হত্যাকাণ্ডে তদন্ত করতে গিয়ে র্যাব কর্মকর্তারা এসব তথ্য পেয়েছেন।