২০১৪ সালের এসএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতি : পদার্থবিজ্ঞান
স্নেহাংশু শেখর উপাধ্যক্ষ মাসকট ইনোভেটিভ কলেজ
প্রকাশ : ০৬ আগস্ট ২০১৩, ১৯:৩১
প্রথম অধ্যায়
প্রিয় শিক্ষার্থীবৃন্দ,
নৈর্ব্যক্তিক প্রশ্নোত্তরের জন্য অধ্যায় ভিত্তিক বিশ্লেষণমূলক কিছু চিন্তাশীল বিষয় আলোচনা করা হল। যা এখন থেকে ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হবে। যা থেকে যেকোন নৈর্ব্যক্তিক প্রশ্নের উত্তর দিতে পারবে। অধিকন্তু এটি পড়লে সৃজনশীল প্রশ্নের জ্ঞানমূলক অংশেরও উত্তর করতে পারবে।
ভৌত বিজ্ঞানের বিকাশে ভারতীয় উপমহাদেশের অবদান
মহাবীর “সিদ্ধান্ত” নামক গ্রন্থে ভারতীয় জ্যোতিবিদ্যা বিষয়ক কাজ তুলে ধরেন। যোগ-বিয়োগ, গুণ,ভাগের কাজ এবং শূন্যের ব্যবহার আলোচনা করেন।
আর্যভক্ট দ্বিঘাত সমীকরণ সমাধানের প্রচেষ্টা নেন।
উপমহাদেশের দার্শনিক কণাদ পদার্থের ক্ষুদ্রতম কণার নাম দেন পরমাণু।
প্রাচীন ভারতের অন্যতম জ্যোতির্বিদ ভাস্করাচার্য পৃথিবীর ব্যাস নির্ভুলভাবে নির্ণয় করতে সমর্থ হন।
তার গণনায় পৃথিবীর ব্যাস ছিল ৭১৮২ মাইল। বর্তমানকালের গণনায় যার মান ৭৯২৬ মাইল।
ভাস্করাচর্য কেএর মান হিসাব প্রচার করেন।
মধ্যযুগে ভৌতবিজ্ঞানের বিকাশ
ত্রয়োদশ শতকের সবচেয়ে পন্ডিত মানুষ ছিলেন অ্যালবার্টাস ম্যাগনাস।
তার মতে-‘বিজ্ঞান যা শোনা যায় তাকেই বিশ্বাস করা নয়। বিজ্ঞান হল প্রাকৃতিক ঘটনার যথার্থ কারণের অনুসন্ধান।
রজার বেকন ছিলেন পরীক্ষামূলক বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির প্রবক্তা।
তার মতে পর্যবেক্ষণ ও পরীক্ষার মাধ্যমেই বিজ্ঞানের সব সত্য যাচাই করা উচিত।
লিউনার্দো দা ভিঞ্চি পনের শতকের শেষ দিকে পাখির ওড়া পর্যবেক্ষণ করে উড়োজাহাজের একটি মডেল আবিষ্কার করেন।
তিনি ছিলেন একজন চিত্রশিল্পী।
ড. গিলবার্ট চুম্বকত্ব নিয়ে বিস্তারিত গবেষণা ও তত্ত্ব প্রদানের জন্য চিরস্মরণীয়।
জার্মান বিজ্ঞানী স্নেল আলোর প্রতিসরণের (দ্বিতীয়) সূত্র আবিষ্কার করেন।
হাইগেন পেন্ডুলামীয় গতি পর্যালোচনা করেন, ঘড়ির যান্ত্রিক কৌশলের বিকাশ ঘটান এবং আলোর তরঙ্গ তত্ত্ব উদ্ভাবন করেন।
রবার্ট হুক বিক্রিতকরণ বলের ক্রিয়ার স্থিতি স্থাপক বস্তুর ধর্ম অনুসন্ধান করেন।
রবার্ট বয়েল বিভিন্ন চাপে গ্যাসের ধর্ম বের করার জন্য পরীক্ষণ করেন।
ভনগুয়েরিক বায়ু পাম্প আবিষ্কার করেন।
বিজ্ঞানী রোমার বৃহস্পতির একটি উপগ্রহের গ্রহণ পর্যবেক্ষণ করে আলোর বেগ পরিমাপ করেন।
কেপলার, গ্যালেলিও ও নিউটন এবং আধুনিক বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির উদ্ভব
কেপলার কোপার নিকাসের সৌরকেন্দ্রিক তত্ত্বের সাধারণ গাণিতিক বর্ণনা দেন তিনটি সূত্রের সাহায্যে।
আধুনিক বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির প্রথম সূচনা ঘটে ইটালীর বিখ্যাত বিজ্ঞানী গ্যালিলিওর অবদানের ভেতর দিয়ে।
গাণিতিক তত্ত্ব নির্মাণ ও পরীক্ষার মাধ্যমে সে তত্ত্বের সত্যতা যাচাইয়ের বৈজ্ঞানিক যে ধারা তা প্রতিষ্ঠা করেন নিউটন। তিনি পরীক্ষণ ও প্রাপ্ত ফলাফলকে গাণিতিক সূত্রের মাধ্যমে প্রকাশের প্রতি জোর দিতেন।
নিউটন আবিষ্কার করেন বলবিদ্যা ও বলবিদ্যার তিনটি বিখ্যাত সূত্র, ক্যালকুলাস নামক গণিতের নতুন শাখা, মহাকর্ষ সূত্র।
সরণ, গতি, ত্বরণ, সময় ইত্যাদির সংজ্ঞার্স ও এদের মধ্যে সম্পর্ক নির্ধারণ করেন বিজ্ঞানী গ্যালেলিও।
নিউটনের অবদান এত গভীর ও সুদূরপ্রসারী যে সনাতনী পদার্থ বিজ্ঞানকে নিউটনীয় পদার্থবিজ্ঞান বলা হয়। বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির বিকাশে চারজন বিজ্ঞানীর অবদান অনস্বীকার্য। তারা হলেন-অ্যারিস্টটল, ফ্রান্সিস বেকন, গ্যালিলিও ও আইজ্যাক নিউটন। ফ্রান্সিস বেকন কোন ঘটনা বা সত্যের পর্যবেক্ষনের উপর বেশি গুরুত্ব আরোপ করেন।
গ্যালিলিও ছিলেন পরীক্ষা নির্ভর বিজ্ঞানী। তিনি কোনকিছু কেন ঘটে এবং কিভাবে ঘটে তা পর্যবেক্ষণ ও পরীক্ষা করে যাচাই করতেন। তিনি অ্যারিস্টটলের “কেন” প্রশ্নের পরিবর্তে “কেমন” করে প্রশ্নটি প্রবর্তন করেন।
অ্যারিস্টলের কাজের দ্বারার বৈশিষ্ট্য ছিল যে, তিনি শুধু প্রশ্ন করতেন এবং প্রশ্নের উত্তর দানের জন্য তত্ত্ব তৈরি করতেন।
বিংশ শতাব্দীতে আকাশ ভ্রমণ, মহাশূন্য ভ্রমণ, পারমাণবিক শক্তি, ইলেকট্রনিক্স ইত্যাদির বিপুল উন্নতি হয়। পেনিসিলিন ও এন্টিবায়োটিক আবিস্কৃত হয়। ম্যালেরিয়া, পোলিও ও যক্ষ্মা প্রভৃতি কয়েকটি মারাত্মক রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়।
বাংলাদেশের কয়েকজন বিজ্ঞানী যারা বিংশ শতাব্দীতে বিজ্ঞানে গুরুত্বপূর্ণ মৌলিক অবদান রেখে দুনিয়ায় পরিচিত হয়েছেন-জগদীশচন্দ্র বসু, সত্যেন্দ্রনাথ বসু, আচার্য প্রফল্ল চন্দ্র রায়, মেঘনাদ সাহা,কুদর-ই-খুদা।
রয়েল একাডেমী প্রতিষ্ঠিত হয় ১৬৬০ সালে।