বিনোদন কেন্দ্রে সাজ সাজ রব
প্রকাশ : ০৬ আগস্ট ২০১৩, ২১:৪৫
পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে রাজধানীর বিনোদনকেন্দ্রগুলোতে আয়োজনের কমতি নেই। ঈদের আনন্দকে নগরবাসীর জন্য পরিপূর্ণ করে তুলতে রাজধানীর বিভিন্ন বিনোদন কেন্দ্রগুলোর প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে।
প্রতিবছরের মতো এ বছরও ঈদ সামনে রেখে বাড়তি কিছু প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। ঈদ উত্সবে নগরবাসীর আনন্দকে আরো বাড়িয়ে তুলতে বিনোদনকেন্দ্রগুলো আরো আকর্ষণীয় করে তোলা হয়েছে। বিভিন্ন ইভেন্ট রং করা, বাড়তি আলোকসজ্জা ছোটখাটো ত্রুটি ঠিক করা হচ্ছে। বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে এখনো চলছে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ। নেয়া হচ্ছে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা, যাতে বিনোদন পিয়াসীদের যাতায়াত ও অবস্থান নির্বিঘ্ন হয়। শাহবাগের শিশু পার্ক বিনোদনকেন্দ্র হিসেবে এখনো পছন্দের শীর্ষে। ছোট-বড় সকল বিনোদন পিয়াসীদের কাছে বছর জুড়েই এ পার্কটি থাকে আগ্রহের কেন্দ্রে।
ঈদ উপলক্ষে শিশুপার্ক ঈদের তিনদিন সকাল ৯টা থেকে টানা ১২ ঘণ্টা খোলা থাকবে। পার্কের রাইডারগুলোকে সংস্কার করা হয়েছে। পার্কের ভেতর-বাহির পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করে ইতোমধ্যেই প্রস্তুত করা হয়েছে ঈদের জন্য। রাজধানীর শ্যামলীতে রয়েছে শিশু মেলা। বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত এই বিনোদনকেন্দ্রটিকেও আকর্ষণীয় করে তোলা হয়েছে।
রাজধানীর বিজয় সরণিতে অবস্থিত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নভোথিয়েটার। এ নভোথিয়েটার দেশের ছাত্রসমাজ ও সাধারণ মানুষকে বিজ্ঞানমনষ্ক করতে এবং মহাকাশের গ্রহ-নক্ষত্র সম্পর্কে ধারণা দিতে ২০০৪ সাল থেকে শুরু হয় এ নভোথিয়েটারের কার্যক্রম।
এদিকে এ বছর ঈদে দর্শকদের পূর্ণ বিনোদন দিতে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে মিরপুর জাতীয় চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ। অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছরের ঢাকা চিড়িয়াখানার প্রস্তুতি অনেক ভালো। ইতোমধ্যে চিড়িয়াখানার পরিচ্ছন্নতার কাজ শেষ হয়েছে। এছাড়াও এ বছরে নতুন কিছু প্রাণী বাচ্চা দিয়েছে। বাঘ, ময়ূর, জলহস্তীর, জিরাফের বাচ্চা দর্শকদের কাছে অন্যতম আকর্ষণীয় হবে বলে মনে করছে চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ।
চিড়িয়াখানার ডেপুটি কিউরেটর ডা. মাকসুদুল হাসান ঈদের প্রস্তুতি সম্পর্কে বলেন, প্রতি বছরের তুলনায় এবার প্রস্তুতি অনেক ভালো। প্রতি বছর ঈদে একটি অতিরিক্ত কাউন্টার করা হয়। কিন্তু এবছরে ঈদে ৪টি টিকিট কাউন্টার অতিরিক্ত থাকবে। যাতে করে দর্শনার্থীদের কোনভাবেই হয়রানি হতে না হয়। তিনি বলেন, দর্শনার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনা করে ঈদের সময় একটি কন্ট্রোল রুম খোলা হবে। এর আওতায় পুরো চিড়িয়াখানায় নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা প্রহরায় থাকবেন যাতে কোন হকার বা ছিনতাইকারী দর্শনাশীদের অসুবিধা সৃষ্টি করতে না পারে। এবার ঈদে প্রকৃতিক পরিবেশ ভালো থাকলে গড়ে প্রতিদিন ৮০ থেকে ৯০ হাজার দর্শনার্থী হবে বলেও আশা করছেন কর্তৃপক্ষ।
এছাড়াও জাতীয় চিড়িয়াখানার পাশেই জাতীয় উদ্ভিদ উদ্যান, বোটানিক্যাল গার্ডেন নামে যার পরিচিতি সমধিক। এ দুটো বিনোদন কেন্দ্রে বিশেষ উপলক্ষে দর্শনার্থীদের ঢল নামে, আসন্ন ঈদেও তদ্রূপ ভিড় হতে পারে বলে সংশ্লি¬ষ্টরা ধারণা করছেন।
জাতীয় জাদুঘর, আহসান মঞ্জিল জাদুঘর, লালবাগ কেল্লা ও জাদুঘর, বলধা গার্ডেনও ঈদ উত্সবের আনন্দ বাড়াতে প্রস্তুতি নিচ্ছে। আর জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা, শেরে বাংলা নগরস্থ চন্দ্রিমা উদ্যান, রমনা পার্ক, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, গুলশান লেক এলাকা, ধানমন্ডি লেক এলাকায়ও বিনোদন পিয়াসীদের পদভারে মুখরিত থাকবে ঈদের দিনগুলো।
রাজধানীর পাশে আশুলিয়া ফ্যান্টাসি কিংডম, নন্দন পার্ক, হেরিটেজ পার্ক ও ওয়াটার কিংডম যেন অন্যরকম এক বিনোদন পল্ল¬ী। ঈদের ছুটিতে এ পল্ল¬ী সর্বস্তরের মানুষের পদভারে মুখর থাকবে বলে আগাম ধারণা করা হচ্ছে।