অ্যাশেজ ধরে রেখেও সিরিজ জয়ে মনোযোগী ইংল্যান্ড
প্রকাশ : ০৬ আগস্ট ২০১৩, ২২:১১
ইংল্যান্ড অ্যাশেজ ধরে রাখার আনন্দে মাতোয়ারা হবার পরিবর্তে এখন সিরিজ জয়ের দিকে মনোযোগ দিচ্ছে। দলটির কোচ অ্যান্ডি ফ্লাওয়ার এমনটাই জানিয়েছেন। সে লক্ষ্যে গতকাল মঙ্গলবার তারা চতুর্থ টেস্টের জন্য দলও ঘোষণা করেছে।
স্বাগতিক ইংল্যান্ড গত সোমবার ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে শেষ হওয়া তৃতীয় টেস্টটিতে আবহাওয়ার আনুকূল্যে ড্র করার পর অ্যাশেজ ধরে রাখে। এ ড্রয়ের পরও অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে পাঁচ ম্যাচের সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকে অ্যালস্টেয়ার কুকের দল।
ফ্লাওয়ার জানিয়েছেন ইংল্যান্ডের খেলোয়াড়রা ইতোমধ্যেই চতুর্থ টেস্টের দিকে মনোনিবেশ করছেন। আগামি শুক্রবার থেকে ডারহ্যামের চেস্টার লি স্ট্রিটে শুরু হবে টেস্টটি। এ ব্যাপারে ইংল্যান্ড কোচ বলেন,‘খুব বেশি উদযাপনা নেই। আমরা সিরিজ জিততে চাই। আমরা পাঁচ ম্যাচের সিরিজে কেবল তৃতীয়টি পার করেছি এবং এগিয়ে আছি দুই শূন্য ব্যবধানে। কাজেই আমরা ডারহ্যামে জিততে চাই।’
কুকের দল ২০০৯ সালে জেতা এবং ২০১০-১১ সিরিজেও ধরে রাখা অ্যাশেজটি নিজেদের অধিকারে রেখে দিতে সক্ষম হয় ম্যানচেস্টারের অনুকূল বৃষ্টিতে। প্রথম ইনিংসে ১৫৯ রানে পিছিয়ে পড়ার পর ইংল্যান্ড এই টেস্টে জয়ের জন্য পেয়েছিল ৩৩২ রানের লক্ষ্য। পঞ্চমদিনে খেলা শুরুর আগে অস্ট্রেলিয়রা ১৭২/৭ সংগ্রহে নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংস ডিক্লেয়ার করে দিলে পাওয়া এই লক্ষ্যে খেলতে নেমে ৩৭ রানে তিন উইকেট খুঁইয়ে বসেছিল। কিন্তু দুপুরে বৃষ্টি নামলে লাঞ্চ পরবর্তী সময়ে কেবল তিন বল খেলা সম্ভব হয়। শেষ পর্যন্ত উভয় পক্ষ ড্রয়ে সম্মত হলে মাত্র ১৪ দিনের লড়াইয়েই অ্যাশেজ ধরে রাখে ইংলিশরা।
পরে অধিনায়ক কুক বলেন,‘এ গেমটিতেও আমরা অনেক লড়াকু মনোভাব দেখিয়েছি। আমরা হয়তো আমাদের সেরা খেলাটা খেলিনি। তবে আমরা প্রমাণ করে চলেছি আমরা কতটা কঠিন এক দল।’
ইংল্যান্ডে বর্তমানে যে আবহাওয়া বিরাজ করছে তাতে ডারহ্যামের খেলাটিও কতটা নির্বিঘ্নে হতে পারবে তা নিয়ে বৃটিশ গণমাধ্যমে শংকা প্রকাশ করা হয়েছে। বিবিসি জানিয়েছে গতকালও ভেন্যুটি পানিতে ভেজা ছিল। আকাশ ছিল মেঘাচ্ছন্ন। কাজেই দুইদিনের মধ্যে চেস্টার লি স্ট্রিটের রিভারসাইড গ্রাউন্ড শুকিয়ে খেলার উপযোগী করা কঠিন হয়ে উঠবে। এর মধ্যে শুক্রবার টেস্টটি শুরুর দিন রোদ উঠবে বলে বলা হলেও আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বৃষ্টিরও উল্লেখ আছে। এরপর দিন শনিবার বেশি বৃষ্টি হতে পারে বলে বলা হয়েছে। কাজেই ইংলিশরা বর্তমান ব্যবধানটি ধরে রেখেই সিরিজ জয়ের দিকে এগিয়ে যেতে পারে।
সব মিলিয়ে অস্ট্রেলিয়ার জন্য এ সিরিজে আশা জাগানিয়া কিছু নেই। বিশেষ করে প্রথম টেস্টে নাটকীয় লড়াইয়ের পর হার, দ্বিতীয়টিতে এক রকম আত্মসমর্পণের পর ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে মাইকেল ক্লার্কের দলটি ঘুরে দাঁড়িয়ে সিরিজে বলতে গেলে সেরা নৈপুণ্যই দেখিয়েছিল। বিশেষ করে ম্যান অব ম্যাচ হওয়া অস্ট্রেলিয়া অধিনায়কের ব্যাটিং। কিন্তু ইংলিশ বৃষ্টি ক্লার্কের দলের জয়ের পথে কাঁটা হয়ে দাঁড়ায়। ফলে ১৯৮৯ থেকে ২০০২-০৩ মৌসুমের মাঝে টানা আটবার অ্যাশেজ জয়ী অস্ট্রেলিয়াকে নভেম্বরে নিজেদের দেশে ফিরতি সিরিজের আগে অনুপ্রেরণা জোগানোর মতো কিছু নৈপুণ্য দেখাতে হবে।
এদিকে ইংল্যান্ডের ঘোষিত ১৩ সদস্যের দলে সুযোগ পেয়েছেন পেসার গ্রায়েম ওনিয়ন্স। প্রথম টেস্টে দলে থাকলেও খেলার সুযোগ পাননি। পরের দুই টেস্টে অবশ্য ডাক পাননি। তবে চতুর্থ টেস্টের জন্য পেস আক্রমণ শক্তিশালী করতে নয় টেস্টে ৩২ উইকেট নেয়া ৩০ বছর বয়সী ওনিয়ন্সকে আবারো দলে ডেকেছে ইংল্যান্ড এন্ড ওয়েলশ ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি)।
ইংল্যান্ড দল : অ্যালিস্টার কুক (অধিনায়ক), জো রুট, জোনাথন ট্রট, কেভিন পিটারসেন, ইয়ান বেল, জনি বেয়ারস্টো, ম্যাট প্রিয়র (উইকেটরক্ষক), টিম ব্রেসনান, স্টুয়ার্ট ব্রড, গ্র্যায়েম সোয়ান, জেমস অ্যান্ডারসন, গ্রায়াম ওনিয়ন্স ও ক্রিস টিমলেট।