যাত্রীদের জিম্মি করে চলছে ঢাকা-দিনাজপুর কোচ
প্রকাশ : ০৬ আগস্ট ২০১৩, ২২:৩৭
যাত্রী নিরাপত্তাকে জিম্মি করে চলাচল করছে ঢাকা-দিনাজপুর কোচগুলো।এই রুটটিতে চলাচলকারী কোচ চালনার জন্য নিযুক্ত আছেন চুক্তিবদ্ধ একজন ড্রাইভার। ঢাকা থেকে কোচ চালিয়ে নিয়ে এসে, দেড় থেকে দু’ঘন্টা বিশ্রামের পর তাকেই আবার, ওই কোচ ফিরিয়ে নিয়ে যেতে হয় ঢাকায়। এ ট্রিপ শেষ হবার পর তিনি পান চুক্তি অনুযায়ী টাকা। কোথাও সপ্তাহওয়ারী, কোথাও বা দিনওয়ারী। একটি কোচের ঢাকা থেকে দিনাজপুর আসতে ন্যূনতম ৮ ঘন্টা সময় লাগে। দুই ঈদের প্রায় পুরো মাস সময় লাগে কমপক্ষে ১০/১২ ঘন্টা। অর্থাত্ সর্বনিম্ন ১৬-২৪ ঘন্টার গাড়ী চালনার মত কষ্টদায়ক এবং ঝুঁকিপূর্ণ শ্রম দিতে হয় একজন কোচ চালককে। যা যাত্রীদের জানমাল রক্ষার প্রশ্নে অত্যন্ত বিপজ্জনক।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কোচ চালক জানান, প্রথম ট্রিপের পর কোচ চালানোর শারীরিক যোগ্যতা তাদের আর থাকে না। এতে অনেক সময় তাদের দুর্ঘটনার সম্মুখীনও হতে হয়। একদিকে খারাপ রাস্তা অন্যদিকে প্রবল যানজটের কারণে কোচ চালানো আরও দুরূহ হয়ে পড়ে। ঈদকে কেন্দ্র করে যানজটের কারণে ৮ ঘন্টার স্থলে ১২/১৪ ঘন্টাও লেগে যাচ্ছে এক ট্রিপেই। অর্থাত্ ফিরতি ট্রিপে আরও ১৪ ঘন্টা প্রায় ২৮ ঘন্টা গাড়ি চালাতে হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হাইওয়ে সংলগ্ন রেস্টুরেন্টগুলো থেকে চালকরা উপহার হিসাবে পেয়ে থাকেন এক বোতল করে ফেন্সিডিল এবং গাঁজা বা সিদ্ধি দেয়া পাঁচ খিলি করে পান। এসবের কল্যাণে যে তাত্ক্ষণিক উজ্জীবন শুরু হয় এর বদৌলতে তারা শারীরিক ও মানসিক জড়তা কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হন। নেশায় বুঁদ বুঁদ হয়ে গাড়ী চালান চালকেরা। যার মাশুল দিতে হয় যাত্রী সাধারণকে, সড়ক দুর্ঘটনায় পতিত হয়ে।
মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক জানান, কোচ ড্রাইভারদের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেশের প্রচলিত শ্রম আইনবিরোধী বিধায় অবৈধ। তিনি এ ব্যাপারে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নিতে সরকারের কাছে দাবি জানান।