নাড়ির টানে, ঘরের পানে
প্রকাশ : ০৬ আগস্ট ২০১৩, ২২:৩৮
মাঝে আর মাত্র একদিন। আগামীকাল বৃহস্পতিবার শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা গেলেই পবিত্র ঈদ উল ফিতর উদযাপিত হবে শুক্রবার। সে কারণে রাজধানী ঢাকাসহ সকল নগর-শহরের মানুষ এখন নাড়ীর টানে গ্রামের পথে। বাস, ট্রেন ও লঞ্চে লাখো মানুষের কাফেলা। নারী, পুরুষ, শিশু, যুবা, বৃদ্ধ সব বয়সের মানুষই আছে এই কাফেলায়। ঘরে ফেরার আনন্দের কাছে সব ঝামেলাই যেন তুচ্ছ। যে যার মতো ছুটছেন।
গতকাল মঙ্গলবারই অনেকখানি ফাঁকা হয়ে গেছে রাজধানী। বাস টার্মিনাল, লঞ্চঘাট ও রেলস্টেশন এবং নির্দিষ্ট শপিং জোন ছাড়া নগরীর অন্যসব সড়কগুলোতে যানজট ছিল না আগের দিনের মতো। দ্রুত কমে গেছে পথচারির সংখ্যাও। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন সমিতির এক নেতা বলেন, ঈদ উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষের নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করতে সরকারের পক্ষ থেকে নানা রকম পদক্ষেপ নেয়ার ঘোষণা দেয়া হলেও কিছু কিছু স্থানে ঘরমুখো যাত্রীদের বেশ ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। মহাসড়কের ব্যবস্থাপনা আরেকটু উন্নত করা গেলে এই যানজট এড়ানো যেতো।
হাইওয়ে পুলিশের উপ-মহাপরিদর্শক আসাদুজ্জামান মিয়া জানিয়েছেন, পরিস্থিতি মোকাবেলায় পুলিশের পর্যাপ্ত জনবল সবগুলো মহাসড়কে নিয়োজিত রয়েছে। তিনি নিজেও গাজীপুর চৌরাস্তায় দাঁড়িয়ে পরিস্থিতি তদারকি করছেন বলে জানান। পুলিশের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখা হয়েছে। তবে একইসঙ্গে ত্রুটিপূর্ণ গাড়ি রাস্তায় না নামানোর জন্য তিনি পরিবহন মালিকদের প্রতি অনুরোধ করেছেন। এদিকে ঈদ উপলক্ষে রাষ্ট্রায়াত্ত পরিবহন সংস্থা বিআরটিসির ঈদ স্পেশাল সার্ভিসের চলাচল শুরু হয়েছে গতকাল মঙ্গলবার থেকে। ঢাকার বিভিন্ন রুটে চলাচলকারী ৮৮টি বাস এই স্পেশাল সার্ভিসের আওতায় দূরপাল্লার রুটগুলোতে চাহিদা অনুযায়ী যাত্রী পরিবহন করছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, রাজধানী থেকে বাস, ট্রেন ও লঞ্চযোগে গ্রামের পথে মানুষের স্রোত শুরু হয় মূলত সোমবার দুপুর থেকে। পবিত্র শবে কদরের কারণে গতকাল মঙ্গলবার ছুটি থাকায় চাকরিজীবীদের অনেকেই বুধবারের দিনটি অতিরিক্ত বা ঐচ্ছিক ছুটি নিয়ে দুইদিন আগের বাড়ি পথে রওয়ানা দিয়েছেন। এ কারণে সোমবার বিকাল নাগাদ রাজধানীর তিনটি আন্ত:জেলা বাস টার্মিনাল, কমলাপুর ও বিমানবন্দর রেলস্টেশন এবং সদরঘাট নদীবন্দরে মানুষের ভিড় ছিল রীতিমতো উপচেপড়া। যাদের অগ্রিম টিকিট সংগ্রহ করা ছিল, তারা বেশ সহজেই নির্ধারিত বাহনে চেপে বসেন। আর যাদের অগ্রিম টিকিট ছিল না, তারা যে যার মতো তাত্ক্ষণিক টিকিট যোগাড় করে বাড়ি পথে রওয়ানা দেন। মঙ্গলবার দুপুরে কমলাপুর স্টেশনে কথা হয় চুয়াডাঙ্গার যাত্রী ইনামুল হোসেন রবির সাথে। তিনি বললেন, আজকে এসে টিকিট পেয়েছি, তবে দাঁড়িয়ে যেতে হবে। তার মতো আরো বহু মানুষকেই দেখা গেল তাত্ক্ষণিক টিকিট নিয়ে ট্রেনের অপেক্ষায় প্লাটফরমে দাঁড়িয়ে আছেন।
অন্যদিকে সদরঘাট নদীবন্দরে এখন শুধু মানুষ আর মানুষ। ঈদ উপলক্ষে দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন গন্তব্যের সঙ্গে চলাচলকারী সবগুলো লঞ্চ শুধু সান্ধ্যকালীন ট্রিপের পরিবর্তে এখন দিনে দু’টি করে ট্রিপ দিচ্ছে। তবুও যাত্রীর ভিড় কমছে না। লঞ্চ মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌচলাচল (যাত্রী পরিবহন) সংস্থার নির্বাহী সদস্য সিদ্দিকুর রহমান ভুঁইয়া বলেন, সদরঘাট থেকে প্রতিদিন গড়ে ৭০টি জাহাজ ছেড়ে যায়। কিন্তু ঈদ উপলক্ষে এই সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ হবে। প্রতিটি লঞ্চে সর্বনিম্ন ৫০০ থেকে সর্বোচ্চ ৮০০ যাত্রী ভ্রমণ করতে পারেন। ঈদ উপলক্ষে সংগঠনের পক্ষ থেকে গতকাল মঙ্গলবার থেকে আগামী ১৯ আগস্ট পর্যন্ত বিশেষ সেবা (অতিরিক্ত ট্রিপ পরিচালনা) দেয়া হচ্ছে। পাশাপাশি রাষ্ট্রায়াত্ত বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন সংস্থা- বিআইডব্লিউটিসির বিশেষ ঈদ সেবার আওতায় চলছে দু’টি স্টিমার।