টার্মিনাল কেন্দ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকলেও ছিনতাই থেমে নেই
প্রকাশ : ০৬ আগস্ট ২০১৩, ২২:৫০
সাবধান! ঈদে ঘরে ফিরতে বাসার সামনেই ওত পেতে আছে ছিনতাইকারী। ট্যাক্সিক্যাব বা প্রাইভেটকার দিয়ে ছোঁ মেরে ছিনতাই করা হচ্ছে রিকশা যাত্রীর নগদ টাকা, মোবাইল ফোন ও গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র। কোন আগ্নেয়াস্ত্র বা ধারালো অস্ত্র নয়, স্রেফ ট্যাক্সিক্যাব বা প্রাইভেটকার দিয়ে এ ধরনের ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটছে। খুব ভোরে রিকশায় বাস, ট্রেন বা লঞ্চ টার্মিনালের উদ্দেশে রওনা দেয়ার সময় চলন্ত ট্যাক্সিক্যাব বা প্রাইভেটকার দিয়ে রিকশার কাছাকাছি এসে যাত্রীর হাতে থাকা ভ্যানিটি ব্যাগ বা সাইড ব্যাগ টান দিয়ে নিয়ে দ্রুত চলে যায় ছিনতাইকারীরা। গত ৪ দিনে এভাবে অর্ধশত চলন্ত ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। এরা সবাই গ্রামের বাড়িতে ঈদ করতে রাজধানী ছাড়ছিলেন। ছিনতাইকারীর হাতে নগদ টাকা, মোবাইল ফোন ও গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র খুইয়ে এদের ঈদ পালন অনেকটা বিষাদময় হয়ে উঠেছে। অথচ ভোর বেলা পুলিশের চেক পোস্টগুলোতে সন্দেহভাজন যানবাহন তল্লাশির নির্দেশ থাকলেও পুলিশ তা করছে না। তবে এ ব্যাপারে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার মাসুদুর রহমান বলেন, ভোর সাড়ে ৫টা থেকে সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত টার্মিনাল কেন্দ্রিক রাস্তাগুলো ফাঁকা থাকে বলে যাত্রীরা ছিনতাইকারীর কবলে পড়ছেন। এ ব্যাপারে চেকপোস্টের পুলিশকে ঐ সময় এ্যালার্ট থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এছাড়া সাদা পোশাকে পুলিশ ছদ্মবেশে ঐসব এলাকার সড়কগুলোতে টহল দিচ্ছে।
অন্যদিকে পুলিশের পাশাপাশি র্যাবও এসব এলাকায় টহল দিচ্ছে। র্যাবের মিডিয়া এ্যান্ড লিগ্যাল শাখার পরিচালক উইং কমান্ডার হাবিবুর রহমান বলেন, বাস টার্মিনাল, লঞ্চ টার্মিনাল ও রেলস্টেশন কেন্দি ক র্যাবের চেকপোস্ট রয়েছে। তাছাড়া র্যাবের কয়েকটি টহল টিম এসব এলাকায় ভোরে এবং রাতে টহল দিচ্ছে। এর পাশাপাশি সাদা পোশাকে ছদ্মবেশে র্যাব সদস্যরা নজরদারি করছে।
সূত্র জানায়, ঈদে বাড়ি যেতে সকালের বাস, ট্রেন বা লঞ্চ ধরতে নগরবাসীকে বাড়ি থেকে খুব ভোরে বের হতে হয়। ছিনতাইকারীদের টার্গেট থাকে রিকশা যাত্রীর ওপর। সাধারণত গাবতলী, কল্যাণপুর, শ্যামলী, মহাখালী, কলাবাগান, ফকিরাপুল, আরামবাগ, সায়দাবাদ, গুলিস্থান ও সদরঘাট এলাকার আশেপাশের সড়কগুলোতে এ ধরনের ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। এদের মধ্যে পান্থপথ মোড় থেকে রাসেল স্কোয়ার, শ্যামলী ক্রসিং থেকে আগারগাঁও, গুলশান-১ নম্বর ক্রসিং থেকে গুলশান লিংক রোড দিয়ে মহাখালী বাস টার্মিনাল, মিরপুর টেকনিক্যাল মোড় থেকে মিরপুর-১ নম্বর গোলচক্কর, মতিঝিল শাপলা চত্বর থেকে নটরডেম কলেজের সামনে দিয়ে আরামবাগ মোড়, দয়াগঞ্জ মোড় থেকে স্বামীবাগ, গোপীবাগ থেকে সায়দাবাদ বাস টার্মিনাল, নর্থ সাউথ মোড় থেকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে দিয়ে সদরঘাট পর্যন্ত সড়কে এক ধরনের ছিনতাইকারী ওত পেতে থাকে।
গত রবিবার ভোর সাড়ে ৫ টায় গৃহবধূ শারমিন আক্তার তার পরিবারের সঙ্গে কলাবাগানে বাসে উঠতে রিকশায় রওনা দেন। রিকশাটি স্কয়ার হাসপাতাল অতিক্রম করে রাসেল স্কোয়ার দিকে যেতে একটি সাদা রঙের প্রাইভেট কার রিকশার খুব কাছাকাছি আসে। কার থেকে একজন ছিনতাইকারী হাত বাড়িয়ে রিকশা যাত্রী শারমিনের ভ্যানিটি ব্যাগ টান দিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়। একই ভাবে শুক্রবার সকাল ৬ টার দিকে রাজশাহীগামী জাহিদুল ইসলাম রিকশায় শেওড়াপাড়া থেকে শ্যামলীতে যান বাস ধরতে। রিকশাটি বাংলাদেশ বেতার ভবনের সামনে আসার পর একটি হলুদ রঙের ট্যাক্সিক্যাব রিকশার কাছাকাছি এসে আচমকা ট্যাক্সিক্যাব থেকে এক ছিনতাইকারী জাহিদের স্ত্রীর ভ্যানিটি ব্যাগ টান দিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়।
এদিকে গাবতলী, মহাখালী ও সায়দাবাদ বাস টার্মিনালে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। গাবতলী ও সায়দাবাদ বাস টার্মিনালে কোন যাত্রী হয়রানির শিকার না হয় সেজন্য পুলিশের পক্ষ থেকে স্থাপন করা হয়েছে সাব-কন্ট্রোল রুম। মহাখালী বাস টার্মিনালে র্যাবের পক্ষ থেকে অস্থায়ী ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। টার্মিনালে র্যাব-২ এর অস্থায়ী ক্যাম্পের ইনচার্জ ডিএডি মোহাম্মদ নাসির জানান, এখন পর্যন্ত কোনো ঝামেলা হয়নি। টিকিট কালোবাজারি কিংবা যাত্রী ভোগান্তির কোনো অভিযোগ আসেনি। মহাখালী বাস টার্মিনালে পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই আজিজুল হাকিম জানান, র্যাব-পুলিশ, বিআরটিএ ও মালিক-শ্রমিকদের সংগঠনের সমন্বয়ে তদারকি চলছে। যে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে সচেষ্ট সবাই। পুরো টার্মিনাল এলাকা সিসি ক্যামেরায় নজরদারি করা হচ্ছে।
অন্যদিকে কমলাপুর ও বিমানবন্দ রেলস্টেশন কেন্দি ক পুলিশ ও র্যাব যৌথভাবে নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে। তবে রেলস্টেশন কেন্দি ক এসব নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হলেও এই দুই রেলস্টেশনের সংযোগ সড়কগুলোতে পুলিশ ও র্যাবের কোন টহল নেই।