বঞ্চিতদের দুই দিনের আল্টিমেটাম, বিক্ষোভ

দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতি করে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে পদ না পাওয়ায় বিক্ষোভ কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছেন পদবঞ্চিতরা। তাদের অভিযোগ, বিভিন্ন অপরাধমূলক মামলার আসামি, নিষ্ক্রিয়, বিবাহিত, অছাত্র ও চাকরিজীবীদের কেন্দ্রীয় কমিটিতে পদ দেওয়া হয়েছে। তাই কেন্দ্রীয় কমিটি পুনর্গঠনের দাবিতে দুই দিনের আল্টিমেটাম দিয়েছেন বিক্ষোভকারীরা। তা না হলে গণপদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন তারা। গতকাল মঙ্গলবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে সংবাদ সম্মেলন করে এই হুমকি দেন তারা।

সোমবার রাতে সংঘর্ষের ঘটনায় আহত পদবঞ্চিতদের দেখতে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে যান সংগঠনটির সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী। এ সময় তাদেরকে অবরুদ্ধ করে রাখেন পদবঞ্চিতরা। তখন বিক্ষোভকারী ও নারী নেত্রীদের উপর কেন হামলা হলো তার জবাব চান তারা।

এ ঘটনায় তাত্ক্ষণিক তিন সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করেন সংগঠনটির শীর্ষ নেতারা। তদন্ত কমিটির সদস্যরা হলেন নবগঠিত কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয়, আইনবিষয়ক সম্পাদক ফুয়াদ হোসেন শাহাদাত্ ও তথ্য গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক পল্লব কুমার বর্মণ। তদন্ত কমিটিকে আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সরেজমিন অনুসন্ধান করে তথ্য-উপাত্তসহ প্রতিবেদন দফতর সেলে জমা দেওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ছাত্রলীগের ২৯তম জাতীয় সম্মেলনের এক বছর পর পূর্ণাঙ্গ কমিটির অনুমোদন দেন ছাত্রলীগের শীর্ষ দুই নেতা। এরপর পদবঞ্চিতরা কমিটি পুনর্বিবেচনার জন্য বিক্ষোভ মিছিল করেন। সেখানে হামলা করেন পদপ্রাপ্তরা। এর প্রতিবাদে মঙ্গলবার মধুর ক্যান্টিনে সংবাদ সম্মেলন করেন তারা। এ সময় ছাত্রলীগের বিভিন্ন পর্যায়ের দুই শতাধিক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

এসময় কেন্দ্রীয় কমিটিতে পদ না পাওয়া সংগঠনটির সাবেক প্রচার সম্পাদক সাইফুদ্দিন বাবু বলেন, যারা বিগত সময়গুলোতে সক্রিয়ভাবে ছাত্রলীগের সঙ্গে জড়িত ছিল তাদের একটি বৃহত্ অংশকে বাদ কিংবা সঠিক পদে মূল্যায়ন করা হয়নি। যারা নিষ্ক্রিয়, সাবেক চাকরিজীবী, বিবাহিত, অছাত্র, গঠনতন্ত্রের অধিক বয়স্ক, বিভিন্ন মামলার আসামি, মাদকসেবী, মাদক ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন অপকর্মের দায়ে যারা ছাত্রলীগ থেকে আজীবন বহিষ্কার হয়েছিল তাদেরকেই ছাত্রলীগে পদায়ন করা হয়েছে। এটা আমাদের ব্যথিত করেছে। তিনি আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কমিটি পুনর্গঠনের দাবি জানান। এসময় দাবি না মানলে অনশন ও গণপদত্যাগের ঘোষণা দেন নতুন কমিটির সাংস্কৃতিক বিষয়ক উপ-সম্পাদক নিপু তন্বী। তিনি শামসুন নাহার হলের সাবেক সভাপতি ও ডাকসুর সদস্য।

রোকেয়া হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি বি এম লিপি আক্তার বলেন, আমি রোকেয়া হলের সভাপতি ও ডাকসুর কমনরুম ও ক্যাফেটেরিয়া সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করা অবস্থায় আমাকে ছাত্রলীগের উপ-সম্পাদক পদ দেওয়া হয়েছে। আমি ছাত্রলীগের সেক্রেটারিকে জিজ্ঞেস করেছি যে, কোন ক্রাইটেরিয়ার ভিত্তিতে আপনি আমাকে ছাত্রলীগের উপ-সম্পাদক পদ দিয়েছেন। তিনি উত্তর দিয়েছেন, ডাকসুর গুরুত্বপূর্ণ পদে আছি বলে আমাকে এই পদ দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ব্যাপারটা এমন আপনি এবার এমপি নির্বাচন করেছেন, এবার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচন করেন। আমার প্রশ্ন হলো— আপনি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক পদে থেকেও কেন ডাকসু নির্বাচন করলেন।