‘এদের অশুভ খেলা চিরতরে বন্ধ করতে চাই’
প্রকাশ : ০৭ আগস্ট ২০১৩, ২২:০১
জেলা ও বিভাগীয় সংগঠকদের সঙ্গে কী নির্বাচন নিয়েই কথা বললেন?
আমরা নির্বাচন আয়োজনের জন্য এনএসিকে চিঠি দিয়ে দিয়েছি। ঈদের পরপরই জেলা ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার কাছে কাউন্সিলর চেয়ে চিঠি দেব। আমরা গত কয়েকদিন ধরেই পত্র-পত্রিকায়, টিভিতে দেখছি একটা মহল থেকে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা হচ্ছে। সেটা নিয়েই আজ আমরা চট্টগ্রাম, রাজশাহী, রংপুর, মানিকগঞ্জ, বরিশালের বা এরকম কয়েকটি জেলা-বিভাগের সংগঠকদের সঙ্গে আলোচনায় বসেছিলাম। আমরা ওনাদের বলতে চেয়েছি, জেলা ও বিভাগীয় সংগঠকদের সঙ্গে আমাদের বিস্তর দূরত্ব আছে বলে বলা হচ্ছে, এটা আদৌ সত্যি নয়।
আপনারা কী এই সংগঠকদের নিজেদের অবস্থানটা বোঝাতে পেরেছেন?
আমরা ওনাদেরই জিজ্ঞেস করেছি, আমরা কী আপনাদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করছি? আমরা কোথাও এরকম কিছু করছি না। আমরা এবার বলে দিয়েছি, আমরা কোনো প্রভাব খাটাবো না। শুধু একজন বা দু’জন আমাদের পছন্দ আছে; তাও আপনারা যদি রাজী হন। এর মধ্যে আমি বলে দিচ্ছি, আকরামকে আমি বোর্ডে চাচ্ছি। আকরাম বোর্ডে আসলে চট্টগ্রামে আমূল পরিবর্তন আসবে। ও আসলে সারা দেশের ক্রিকেটে বিরাট পরিবর্তন আসবে। অবশ্য আমাদের এই চাওয়া মানে এই নয় যে, আকরাম চলে এসেছে। এটা ওনারাই ঠিক করবেন, তাকে পাঠাবেন কি না। আমাদের একটা রিকোয়েস্ট থাকতে পারে না?
এই আলোচনায় তো উল্লেখযোগ্য সংগঠকরাই আসেননি। বাকীদের সঙ্গে আলোচনা করবেন না?
ঈদের পর আমরা অন্য যারা আছেন, সবাইকেই ডাকব। আজ যেমন ওনারা বুঝতে পেরেছেন, বাকীরাও বুঝতে পারবেন বলে আশা করি। হাতেগোনা দু-’একজন ছাড়া কারো সঙ্গে আমার দ্বন্দ্ব নেই।
তাহলে আপনি কী ফোরামের একটা ভূমিকা আছে বলে মেনে নিচ্ছেন?
বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থা বা জেলা ক্রীড়া সংস্থার সঙ্গে আমাদের কোনো দ্বন্দ্ব নেই। ফোরাম বলে একটা সংগঠন আছে। আমি দ্যর্থহীন ভাষায় বলতে চাই। আমি এদের সঙ্গে বিসিবির কোনো সম্পর্ক খুঁজে পাই না। আমি এদের নামও কোনো জায়গায় দেখি না। এ জন্যই এদের আমি রিকগনাইজ করি না।
ফোরামের দাবিগুলো কিভাবে দেখছেন?
তাদের দাবি মতো সব কাউন্সিলর তাদের থেকেই আসতে হবে, এটা তো অগণতান্ত্রিক কথা। তারা ফুটবল নির্বাচনে এটা করে। যে কোনো নির্বাচন এলে এসব শুরু করে। আমি ক্রীড়াঙ্গন থেকে না পারলেও ক্রিকেট থেকে এদের অশুভ খেলাটা চিরতরে বন্ধ করতে চাই।
ফোরামের অনেক ইতিবাচক দিক আছে বলেই বলা হয়...
ফোরাম গঠনের উদ্দেশ্য তো মহত্ই ছিল। সে উদ্দেশ্য ধরে রাখলে তো ফোরামের প্রয়োজনীয়তা ছিলই। কিন্তু ফোরামের নাম নিয়ে গুটিকয়েক লোক প্রতিটি ফেডারেশনের নির্বাচন এলে অনৈতিক, অশুভ কাজ চালিয়ে যায়। আপনারা জানেন যে, বিসিবির আগের নির্বাচনে, এমনকি ফুটবলের নির্বাচনেও তারা যে কোটি কোটি টাকার খেলা খেলে, ক্রিকেটে অন্তত সেটা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এতেই কিছু লোকের গায়ে লেগেছে। ওনারা ভেবেছিলেন এখান থেকে কতো কোটি টাকা জানি কামাবেন! এই যেসব জেলা ও বিভাগের সংগঠক যারা আছেন, এরা কিন্তু এসব জানেন না, পানও না। কয়েক জন লোক এসব করে বেড়াচ্ছে।
আপনি কেন এদের বিরুদ্ধে লড়াই করছেন?
কারো না কারো তো এর মুখোমুখি হতেই হবে। এভাবে খেলা চলতে পারে না। প্রতিটা ফেডারেশন; আজ হকি, কাল ক্রিকেট, পরশু ফুটবল; সব ফেডারেশন তারা নিয়ন্ত্রণ করবে, তারাই ঠিক করবে কে পরিচালক হবে, কে সেক্রেটারি হবে; এটা হতে পারে না। এটা আমাদের বন্ধ করতেই হবে।
এই লড়াইয়ে জিততে পারবেন?
যুদ্ধে তো হারতেই পারি। এই যে অশুভ শক্তিকে সরাতে চাই, এটা একটা যুদ্ধ। যুদ্ধে হারতে পারি। হাতেগোনা কয়েকটা লোক যে অনিয়ম করে যাচ্ছে, সবাই তা মুখ বুজে সহ্য করে গেছে। এদের হটাতে হলে নির্বাচন করতে হলে করবো। তবে এদের সঙ্গে সমঝোতা করে নির্বাচন করবো না।
এই বলছেন, একটা চক্র; এরা কারা, নাম প্রকাশ করবেন?
এই প্রকাশ করার ভয়েই তো এতোকিছু। আগে তো এতোকিছু হয়নি। আপনাদেরই প্রশ্ন করি, আগেও তো নির্বাচন হয়েছে, এতো ঝামেলা দেখেছেন? ওনাদের অন্যায় যাতে প্রকাশ না পায়, সে জন্যই এতোকিছু করছেন। আপনারা যারা জানেন না, নির্বাচন শেষে তারাও জেনে যাবেন। যখন নাম ধরে মামলা হবে, সবাই জানবেন, এরা কারা।
বলা হচ্ছে, আপনি সভাপতি যাতে থাকতে পারেন, সেভাবেই নির্বাচন করছেন।
আমি নির্বাচন না করলেও তো থাকতে পারি। আমি থাকতে চাইলে তো নির্বাচন না দেয়াই সবচেয়ে সহজ ছিল। আমি কেন ঝুঁকি নিচ্ছি?