কুতুপালং বস্তিতে ঢুকে পড়েছে আরো সহস্রাধিক রোহিঙ্গা
উখিয়া (কক্সবাজার) সংবাদদাতা
প্রকাশ : ০৭ আগস্ট ২০১৩, ২২:০৩
সীমান্তরক্ষী বিজিবি, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও স্থানীয় প্রশাসনের ঈদ ব্যস্ততার সুযোগে সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে অনুপ্রবেশকারী সহস্রাধিক রোহিঙ্গা নাগরিক কুতুপালং রোহিঙ্গা বস্তিতে আশ্রয় নিয়েছে। স্থানীয় গ্রামবাসী ঘটনার সত্যতা স্বীকার করলেও ক্যাম্প ইনচার্জ বলছেন, রোহিঙ্গা বস্তি প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণের বাইরে বিধায় অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গা আশ্রয় নেওয়ার বিষয়টি তার জানার কথা নয়।
জানা গেছে, কুতুপালং শরণার্থী ক্যাম্পে প্রায় সাড়ে ১০ হাজার রেজিস্টার্ড রোহিঙ্গা কাগজে কলমে লিপিবদ্ধ থাকলেও বাস্তবে তা নেই। এসব রোহিঙ্গাদের অনেকেই গলাকাটা পাসপোর্ট নিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থান করছে। প্রায় দুই হাজারেরও অধিক রোহিঙ্গা নাগরিক জেলার বিভিন্ন স্থানে স্থায়ী আবাসন গড়ে তুলে বসবাস করলেও তাদের বিপরীতে ক্যাম্প থেকে বরাদ্দ দেওয়া রেশন বুক নিয়ে যাবতীয় সরকারি ত্রাণ সামগ্রীসহ অন্যান্য সুবিধাদী ভোগ করছে তারা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক রোহিঙ্গা জানান, ক্যাম্প ইনচার্জকে ম্যানেজ করে অনুপস্থিত রোহিঙ্গাদের ত্রাণ সামগ্রী তোলার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
এদিকে ২০০৪ সালে আরো প্রায় ৬০ হাজার অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গা নাগরিক কুতুপালং বনভূমির পাহাড় দখল করে ঝুপড়ি বেধে আশ্রয় নিয়েছে। সরকার এসব রোহিঙ্গাদের অবৈধ অনুপ্রবেশকারী ঘোষণা করে তাদেরকে কোন প্রকার সাহায্য সহযোগিতা না করার জন্য এনজিও সংস্থাগুলোর প্রতি নির্দেশ প্রদান করেছে যাতে ওই সব রোহিঙ্গা স্বেচ্ছায় মিয়ানমারে চলে যায়। প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকায় এসব রোহিঙ্গা তাদের ইচ্ছামতো আসা-যাওয়া ও চলাফেরা করার সুযোগ পেয়ে নানা অপরাধের সাথে তারা জড়িত হয়ে পড়েছে। বস্তি এলাকা পরিণত হয়েছে অপরাধের স্বর্গরাজ্যে।
ঈদে প্রশাসনের ব্যস্ততার সুযোগ নিয়ে সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে অনুপ্রবেশ করা সহস্রাধিক রোহিঙ্গা কুতুপালং বস্তিতে ঢুকে আত্মগোপন করেছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। স্থানীয় গ্রামবাসী নুর আহমদ, খলিল ও সাহাব মিয়াসহ অনেকে জানান, হঠাত্ করে অচেনা অজানা সহস্রাধিক রোহিঙ্গা নাগরিককে সেখানে চলাফেরা করতে দেখা গেছে। এসব রোহিঙ্গা নতুন করে ঝুপড়ি নির্মাণ করার প্রস্তুতি নিচ্ছে জানিয়ে গ্রামবাসী অভিযোগ করে বলেন, এভাবে অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গারা আশ্রয় ও বসবাস করার সুযোগ পেলে স্থানীয় গ্রামবাসীর জন্য তারা হুমকি হয়ে দাঁড়াবে।
অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গাদের চিহ্নিত করে আটকপূর্বক মিয়ানমারে পুশব্যাক করার দাবি জানান গ্রামবাসী। তাদের দাবির প্রতি একাত্মতা প্রকাশ করে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সংগ্রাম কমিটির আহ্বায়ক অধ্যক্ষ হামিদুল হক চৌধুরী জানান, অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গারা এখানে আশ্রয় নিতে পারলে তাদের অনুসরণ করে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ আশঙ্কাজনকভাবে বাড়তে পারে। সময় থাকতে সদ্য অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গাসহ অবৈধভাবে বসবাসরত ৬০ হাজার রোহিঙ্গাকে মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে। কুতুপালং ক্যাম্প ইনচার্জ জালাল উদ্দিন বলেন, বস্তি এলাকা নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকায় কে আসলো আর কে গেল তা আমার জানার কথা নয়। তথাপিও বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখা হবে বলে জানান।