ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে চাঁদাবাজির অভিযোগ
মিরসরাই (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা
প্রকাশ : ০৭ আগস্ট ২০১৩, ২২:০৫
দেশের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ত ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বেহাল দশা বিরাজ করছে। চালকরা ভুগছেন চাঁদাবাজি আতংকে। একাধিক চালক জানায়, ঈদ এলেই পুলিশ ও সন্ত্রাসীদের চাঁদাবাজি বেড়ে যায়। গত ২৪ জুলাই হাইওয়ে পুলিশের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ এনে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মিঠাছড়া এলাকায় সড়ক অবরোধ করেন সিএনজি চালকরা। পরে স্থানীয় সংসদ সদস্যের আশ্বাসে অবরোধ তুলে নেয়া হয়। একাধিক চালক নাম প্রকাশ না করা শর্তে বলে, ঈদ এলেই মহাসড়কে চাঁদাবাজি বেড়ে যায়। থানা পুলিশ ও হাইওয়ে পুলিশের পাশাপাশি স্থানীয় সন্ত্রাসীদের চাঁদা দিতে হয়। অন্যদিকে মহাসড়কে বেহালদশা বিরাজ করছে। ফলে যানজট আতংকে রয়েছে মহাসড়কে চলাচলরত যাত্রীরা।
চট্টগ্রাম পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোজাফফর আহম্মদ জানান, মহাসড়কের নাজুক অবস্থায় ভারী যানগুলো স্বাভাবিক গতিতে চলতে না পারায় অনেক স্থানে ডাকাতের কবলে পড়ে। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে গত এক মাসে ৭টি পণ্যবাহী ট্রাকে ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে।
এদিকে সড়কের বারইয়ারহাট পৌরবাজারে চারলেনের কাজে অত্যন্ত ধীর গতির কারণে সামান্য বৃষ্টিতেই যানজট মারাত্মক আকার ধারণ করে। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ও ঢাকা-চট্টগ্রাম পুরাতন মহাসড়কেও দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়েছে। সরেজমিনে দেখা গেছে বারইয়ারহাট পৌরবাজারে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মাঝের অংশে চারলেন প্রকল্পের কাজ চলতি বছরের এপ্রিল থেকে শুরু হয়। এছাড়া মহাসড়কের উভয় পাশে অবৈধ স্থাপনা, সিএনজি অটোরিকশা, পিকআপ, বাস ও মিনিবাসের অঘোষিত স্ট্যান্ড যানজটের প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। চলতি বছরে যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের চারলেনের এই প্রকল্পের কাজ দুইবার পরিদর্শন করেন। এসময় তিনি আসন্ন রমজানের আগে কাজ সম্পন্ন করারও নির্দেশ দেন। মন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী রমজানের মধ্যে কাজ সম্পন্ন হওয়া নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে।
এ ব্যাপারে জোরারগঞ্জ হাইওয়ের পুলিশ ইনচার্জ মেহেদী হাসান বলেন, সড়কে খানাখন্দের কারণে যানবাহন ধীরে চলতে গিয়ে যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। তবে আমরা যানজট নিরসনে সচেষ্ট রয়েছি। চাঁদাবাজির অভিযোগ অস্বীকার করেন তিনি।