ময়মনসিংহ জেলা যুবলীগ নেতা ও জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি রেজাউল করিম রাসেল ওরফে রাসেলকে (৩৬) এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। মঙ্গলবার মধ্যরাত ২টার দিকে নগরীর মৃতুঞ্জয় স্কুল রোড মহল্লায় ডিফেন্স পাটির কার্যালয়ে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। আভ্যন্তরীণ কোন্দলের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে পুলিশ প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে। তার পিঠে, গালে ও কপালের একাধিক স্থানে কোপের চিহ্ন রয়েছে। নিহত রাসেল শহরতলীর শম্ভুগঞ্জ হরিপুর এলাকার জালাল উদ্দিন ওরফে জালাল ডিলারের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন যাবত্ শহরের আমলাপাড়া এলাকার একটি বাসায় ভাড়া থাকতেন।
রাসেলের বড় ভাই আনোয়ার হোসেন লিমন ও পরিবারের লোকজনের দাবি, বছরখানেক আগে জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আব্দুল্লাহ আল মামুন আরিফের বাহিনী রাসেলের একটি আঙুল কেটে নিয়ে যায়। তখন থেকেই তারা তাকে হত্যার হুমকি-ধামকি দিয়ে আসছিল। আরিফ ও তার বাহিনীর সদস্যরাই রাসেলকে হত্যা করেছে।
ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজের ফরেনসি বিভাগের প্রভাষক ডা. লুত্ফর রহমান জানান, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণেই রাসেলের মৃত্যু হয়েছে। স্থানীয়রা জানায়, প্রতিদিনের মতো রাসেল ডিফেন্স পার্টি অফিসে একদল বন্ধুর সঙ্গে আড্ডা দিচ্ছিলেন। গভীর রাতে ওই চিত্কারের শব্দ শুনতে পাওয়া যায়। সকালে ওই অফিসে রক্তের ছোপ ছোপ দাগ এবং সেখানকার চেয়ার-টেবিলসহ আসবাবপত্র তছনছ অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা গেছে। জেলা যুবলীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট আজহারুল ইসলাম হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানিয়ে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও খুনিদের অবিলম্বে গ্রেফতার দাবি করেন।
কতোয়ালি মডেল থানার ওসি মাহমুদুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, এ ঘটনায় এখনো মামলা হয়নি কিংবা কেউ গ্রেফতার হয়নি।