মানলেই বছরে ক্ষতি হাজার কোটি টাকা!
প্রকাশ : ০৭ আগস্ট ২০১৩, ২৩:০৬
বিদেশ থেকে টেলিফোন কল আনার ক্ষেত্রে গেটওয়েগুলোর (আইজিডব্লিউ) ট্যারিফ কাঠামো এবং রাজস্ব ভাগাভাগির ক্ষেত্রে নতুন একটি প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। এর ফলে সরকারের বছরে অন্তত এক হাজার ৭৩ কোটি টাকা ক্ষতির ‘আশংকা’ তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিটিআরসি তাদের মতো করে তথ্য দিয়ে হিসেব তৈরি করেছে বলে এই ক্ষতির হিসেব বেরিয়েছে। আসলে প্রকৃত ক্ষতি দেড় হাজার কোটি টাকার চেয়েও বেশি হবে। বিটিআরসি গত সপ্তাহে টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ে এই হিসেব জমা দিয়েছে।
বিটিআরসির সিস্টেম এন্ড সার্ভিস বিভাগের পরিচালক লে. কর্নেল রাকিবুল হাসানের স্বাক্ষর করা মন্ত্রণালয়ের পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, প্রতিদিন সাড়ে ৩ কোটি মিনিট টেলিফোন কল দেশে আসে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বৈধ কলের হিসেব এখনই প্রায় ৫ কোটি মিনিট। বিটিআরসি তথ্য ‘লুকিয়ে’ প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। প্রতি মিনিট টেলিফোন কল দেশে আসে ৩ সেন্ট বা আড়াই টাকার মতো। এই টাকা আইজিডব্লিউ, আইসিএক্স, মোবাইল বা ল্যান্ডফোন অপারেটর এবং সরকারের মধ্যে ভাগাভাগি হয়। বিটিআরসি একই সঙ্গে প্রতি মিনিটের কল আসার ক্ষেত্রে ট্যারিফ ৩ সেন্ট থেকে কমিয়ে দেড় সেন্ট করা এবং রাজস্ব ভাগাভাগি হিসেবেও পরিবর্তন করার সুপারিশ করেছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ট্যারিফ দেড় সেন্ট করলে এমনিতেই দেশে ডলার অনেক কম আসবে। সেখান থেকে সরকারের আয়ও কমে যাবে। আবার উল্টো সরকারের রাজস্বের অংশ ৫১ দশমিক ৭৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৪০ শতাংশ করার প্রস্তাব করেছে বিটিআরসি। বর্তমান কাঠামো অনুসারে আইজিডব্লিউ’র আনা আয়ের ৫১ দশমিক ৭৫ শতাংশ পায় সরকার। বাকি অর্থের মধ্যে ১৫ শতাংশ পায় আইসিএক্স, ২০ শতাংশ পায় যে মোবাইল বা ল্যান্ডফোনে কলটি যায় এবং ১৩ দশমিক ২৫ শতাংশ পায় আইজিডব্লিউ অপারেটর। এই কাঠামো বদলে সরকারের জন্যে ৪০ শতাংশ, আইজিডব্লিউদের জন্য ২০ শতাংশ, আইসিএক্সদের জন্য ১৭ দশমিক ৫০ শতাংশ এবং যে মোবাইল বা ল্যান্ডফোনে কলটি যায় তাদের জন্য ২২ দশমিক ৫০ শতাংশ রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।
টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা বলছেন, বিটিআরসি’র এমন প্রস্তাব আমলে নিলে সরকারের দেড় হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হবে। এই দেড় হাজার কোটি টাকার দায়িত্ব কে নেবে? তারা বলেন, সরকার যেখানে এই খাত থেকে তাদের আয় বাড়ানোর জন্য কাজ করছে সেখানে কাদের চাপে বিটিআরসি এমন প্রস্তাব করছে সেটাও বোঝা দরকার। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এর আগে ২০০৮ সালে নিলামের মাধ্যমে ৪টি আইজিডব্লিউকে লাইসেন্স দেয়া হলেও নীতিমালা বদলে এই সরকার রাজনৈতিক বিবেচনায় আরো ২৫টি লাইসেন্স দেয়। তাতেই পরিস্থিতি জটিল হয়ে পড়ে। এখন পরিস্থিতি সামাল দিতে নানা রকম ‘এলোমেলো’ সিদ্ধান্ত নেয়া হচ্ছে।
বিটিআরসি’র চেয়ারম্যান সুনীল কান্তি বোস এ বিষয়ে কোন কথা বলতে রাজি হননি। তবে ২০০৮ সালে নিলাম পরিচালনাকারী ব্যারিস্টার অনিক আর হক বলেন, নিলামের শর্ত ভঙ্গ করে লাইসেন্সের সংখ্যা বাড়িয়ে আগেই বিটিআরসি আইন লংঘন করেছে। আর এখন রাজস্ব ভাগাভাগি অংশে পরিবর্তন এনে আরো এক দফা তারা আইন ভঙ্গ করেছে। এ বিষয়ে যে কারো আইনের আশ্রয় নেয়ার সুযোগ আছে বলেও তিনি মনে করেন। উল্লেখ্য, বিটিআরসি তাদের চিঠিতে স্বীকার করেছে, ‘পরিস্থিতি’ নিয়ন্ত্রণ তাদের পক্ষে অনেক কঠিন হয়ে গেছে। এ কারণে তারা নানা রকম প্রস্তাব করছে।