সিলেটে এবার প্রবাসীদের অন্যরকম ঈদ
হুমায়ূন রশিদ চৌধুরী, সিলেট অফিস
প্রকাশ : ০৭ আগস্ট ২০১৩, ২৩:০৬
ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে সিলেট নগরীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নেয়া হয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা। ঈদের আগে, ঈদের দিন ও ঈদের পরে নগরীর নিরাপত্তার জন্য তিন ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে পুলিশ বিভাগ। এছাড়াও র্যাব-৯ এর সদস্যরাও সার্বিক নিরাপত্তায় থাকবে। সিলেট মেট্রোপলিটান পুলিশ ‘ঈগল’ নামে একটি বিশেষ টিম গঠন করেছে। ঈদের আগে, ঈদের দিন ও পরে নগরীতে বিশেষভাবে পাহারা দেবে ঈগল। সূত্র জানায় এর সাথে থাকছে সাদা পোশাকধারীসহ র্যাব-পুলিশের প্রায় দুই হাজার সদস্য নগরীতে মোতায়েন করা হয়েছে। এসএমপির ডিসি হেড কোয়ার্টার এজাজ আহমদ গতকাল ইত্তেফাককে নগরীতে নেয়া সার্বিক নিরাপত্তার কথা জানান, বিভিন্ন মার্কেটে আলাদা পুলিশ ফোর্স কাজ করছে। তাছাড়া ঈদে বাড়ী ফেরা মানুষের বাসাবাড়ী, ঈদগাহ ময়দান গুলিতেও নিরাপত্তা বেষ্টনী থাকবে বলে জানান। তবে সিলেটে এবার প্রবাসীরা ঈদের আনন্দ নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন।
এদিকে রাজনৈতিক টানাপোড়েন-অস্থিরতার মধ্যে প্রবাসী অধ্যুষিত সিলেটে এবার ঈদের কেনাকাটা, ইফতার মাহফিল, জনসংযোগ, বিত্তহীনদের মধ্যে শাড়ী-লুঙ্গি, টাকা ইত্যাদি বিতরণ হচ্ছে। কিন্তু বরাবরের মত এবার সিলেটে ঈদের আনন্দ নেই- এক অন্যরকম ভাব যেন বিরাজ করছে এই অঞ্চলে। ঈদের অনাবিল আনন্দে যেন চ্ছেদ পড়ে গেছে।
রমজানের শুরুতে ছিল জামায়াতের হরতাল। আবার ঈদের পরেই দু’দিন হরতাল কর্মসূচি ঘোষণা যেন সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে। যদিও হরতাল একদিন পিছিয়েছে তবুও মানুষের মনে তেমন স্বস্তি আসেনি। সাধারণত ঈদের পরে পর্যটনের এই শহরে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ছুটে আসেন অসংখ্য মানুষ। ওলিকূল শিরমনি হযরত শাহজালা (র:) এর মাজারে আসেন হাজারো ভক্ত। মনের আনন্দে ঘুরে বেড়ান সিলেটের চা-বাগান, জাফলং, মাধবকুন্ডসহ অনেক দর্শনীয় স্থান। কিন্তু রাজনৈতিক অস্থিরতা, হরতাল কর্মসূচীর জন্য হোটেল-মোটেল এবার ফাঁকাই থেকে যাবে। অনেকেই হোটেল বুকিং দিয়েও বাতিল করে দিয়েছেন। ফলে সিলেটে বিপুল পরিমাণ প্রবাসী বিনিয়োগে নির্মিত হোটেল ব্যবসায়ও বেশ ক্ষতির সম্মুখখীন হবে। সিলেটের প্রবাসীরা প্রতি রমজানের শুরুতে বা ঈদের আগ মুহূর্তে বাড়ী আসেন আত্মীয়-স্বজনদের সাথে সময় কাটাতে। অনেকেই প্রবাসে কর্মজীবন বা সন্তানদের শিক্ষাকালীন ছুটির সাথে সমন্বয় করে দেশে আসেন। কিন্তু এবার রমজানের শুরু ও শেষে হরতালের মত কঠোর কর্মসূচী তাদের বিপাকেই ফেলেছে। তারা মনে করেন নির্ধারিত সময়গুলা নষ্ট হবে শুধু-শুধুই। তারা হয়তো প্রিয়জনের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে পারবেন না। তাই তারা ত্যাক্ত-বিরক্ত, বিষণ্নও বটে। গত ৫ জুলাই যুক্তরাজ্য থেকে আসা এক দম্পতির সাথে কথা হয় এদিন রাতে সিলেটের নয়াসড়কস্থ আড়ং-এর সামনে। আর কেনা কাটা শেষে এভাবেই অনুভূতি ব্যক্ত করেন তারা বলেন, ‘‘আমরা দেশে আসি মাঠির টানে। ঈদে সবার সাথে আনন্দ শেয়ার করতে। কিন্তু দেশের পরিস্থিতি দেখে বাচ্ছরা এবার দেশে আসার ইন্টারেস্ট হারিয়ে ফেলে।’’ নাম প্রকাশ না করার শর্তে তারা বলেন ‘‘ভবিষ্যতে আমাদের বাচ্চারা আস্তে আস্তে হয়তো শেকড় হরা হয়ে যাবে। মনে হলে বড়ই দু:খ লাগে।’’