মিল্কী হত্যাকাণ্ডে র্যাবের সন্দেহের তালিকায় আছেন বডিগার্ড সাগর
প্রকাশ : ০৭ আগস্ট ২০১৩, ২৩:০৮
যুবলীগ মহানগর (দক্ষিণ) রিয়াজুল হক খান মিল্কী হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গতকাল বুধবার যুবলীগের (উত্তর) সাংগঠনিক সম্পাদক শাখাওযাত হোসেন চঞ্চলের গাড়িচালক জাহাঙ্গীর আলম মণ্ডল আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। মিল্কীর বডিগার্ড মারুফ রেজা সাগর হত্যাকাণ্ডের প্রত্যক্ষ সাক্ষী হিসেবে গতকাল একই আদালতে জবানবন্দি দেন। সাগরের স্ত্রী ফাহিমা ইসলাম লোপা মিল্কী হত্যাকাণ্ডের প্রধান খুনি যুবলীগ (দক্ষিণ) যুগ্ম সম্পাদক জাহিদ সিদ্দিক তারেকের প্রেমিকা। এদিকে র্যাব জানায়, তাদের সন্দেহের খাতায় রয়েছে সাগরেরও নাম।
সাগর জবানবন্দিতে বলেন, ঘটনার দিন মিল্কীর চালক বিল্লাল হোসেন না থাকায় তিনি নিজে গাড়ি চালিয়ে গুলশান ভাসাবি সপে প্রথমে আসেন। তখন রাত ১১টা। এরপর মিল্কীকে নিয়ে শপার্স ওয়ার্ল্ডের উদ্দেশে রওয়ানা দেন। তখন তার স্ত্রী লোপা ফোন করে শপার্স ওয়ার্ল্ডে যাওয়ার কথা তার কাছ থেকে জানেন। রাত ১টায় শপার্স ওয়ার্ল্ডের প্রবেশ গেটে গাড়ি থেকে মিল্কী নামার পর পরই পাঞ্জাবি, পায়জামা ও টুপি পরিহিত তারেক কাছ থেকে মিল্কীকে পরপর কয়েক রাউন্ড গুলি করে। ওই সময় সাগর ৪ থেকে ২ ফুট দূরে অবস্থান করছিলেন। তবে গুলি করার দৃশ্য দেখে তিনি দৌড়ে একপাশে সরে দাঁড়ান। তবে তারেকের হত্যা করার পুরা দৃশ্য সাগর দেখেছেন বলে জবানবন্দীতে উল্লেখ করেন।
চঞ্চলের গাড়ির চালক জাহাঙ্গীর জবানবন্দীতে উল্লেখ করে যে, খুনিদের নিয়ে ঘটনার দিন চঞ্চল গুলশান জব্বার টাওয়ারের নিজ অফিসে ইফতার করেছেন। রাত সাড়ে তিনি ৯টায় খুনিদের হাতে অস্ত্র তুলে দেন এবং মোটর সাইকেল দিয়ে চঞ্চল মিল্কীকে হত্যার উদ্দেশে পাঠিয়ে দেয়। চঞ্চলের লাল রংয়ের এলিয়ান গাড়ি নিয়ে অফিসের নিচে অবস্থান করেন জাহাঙ্গীর। রাত ১টার পর খুনিরা চঞ্চলের অফিসের পাশে ডেসা অফিসে নীচে আসে। সেখানে অস্ত্র ও মোটর সাইকেল চঞ্চলের কাছে জমা দেয়। অপর একটি মোটর সাইকেল যোগে তারেক এখানে আসেন। তার দেহে মিল্কীকে হত্যা করার সময় গুলিবিদ্ধ হয়। তাকে নিয়ে জাহাঙ্গীর মগবাজার রাশমনো হাসপাতালে যায়। সেখান থেকে ঘন্টা খানেক পর উত্তরা ফরচুন হাসপাতালে জাহাঙ্গীর পৌঁছে দেয়। তবে যাওয়ার সময় গাড়িতে ডাঃ পাপ্পু নামে এক ব্যক্তিসহ ২ জন ছিল। জাহাঙ্গীর হত্যাকাণ্ডে সাহয্যকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করে বলে জবানবন্দীতে উল্লেখ করে। জবানবন্দী শেষে চালক জাহাঙ্গীর আলম মণ্ডলকে জেলা হাজতে প্রেরণ করা হয়।
লোপা মিল্কী হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনাকারীদের একজন। লোপার সঙ্গে তারেকের এক বছর ধরে পরকীয়া প্রেম ছিল। তারা দুজনই কক্সবাজারসহ বিভিন্ন স্থানে ভ্রমণে যেতেন। সাগরের ধানমন্ডির বাসাসহ বিভিন্ন স্থানে গিয়ে লোপার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক গড়েন তারেক। লোপা হত্যাকাণ্ডের দেড় ঘন্টা আগে সাগরকে ফোন করে মিল্কীর সর্বশেষ অবস্থান ও গন্তব্য কোথায় জেনে তারেককে জানিয়েছেন। এসব ঘটনা এক বছর ধরে লোপা ও তারেকের মধ্যে এবং মিল্কী হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা হয়েছে।
র্যাব বলছে তারেকের সঙ্গে লোপার সম্পর্ক আছে সাগর তা জানে না কিংবা খোঁজ রাখেননি তা বিশ্বাসযোগ্য নয়। বিষয়টি তাদের কাছে সন্দেহজনক। সাগর মিল্কী হত্যাকাণ্ডে র্যাবের সন্দেহের তালিকায় রয়েছে। খুনিদের সঙ্গে তার আগেই যোগাযোগ হয়েছিল কিনা এটিও তদন্ত করে দেখছে র্যাব। এছাড়া মিল্কী হত্যাকাণ্ডে গ্রেফতারকৃত তুহিনুর রহমান ফাহিম, সৈয়দ মোস্তফা ওরফে মুজতবা আলী রুমি, মোঃ রাশেদ মাহমুদ, সাইদুল ইসলাম ওরফে নুরুজ্জামান ও মোঃ সুজন হাওলাদারকে আদালতে হাজির করা হয়। পরে তাদেরকে জেল-হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।