দেশবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধী দলীয় নেতার
প্রকাশ : ০৭ আগস্ট ২০১৩, ২৩:১৪
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিরোধী দলীয় নেতা খালেদা জিয়া দেশবাসীকে পবিত্র ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। গতকাল বুধবার পৃথক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তারা দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানান। জাতীয় পার্টি-জাপা চেয়ারম্যান এইচএম এরশাদ এবং জাতীয় পার্টি-জেপি চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু ও মহাসচিব শেখ শহীদুল ইসলাম পৃথক বিবৃতিতে দেশবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়ে মুসলিম উম্মাহর শান্তি কামনা করেন।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শুভেচ্ছা বাণীতে বলেন, ঈদ শান্তি, সহমর্মিতা ও ভ্রাতৃত্ববোধের অনুপম শিক্ষা দেয়। সাম্য, মৈত্রী ও সমপ্রীতির বন্ধনে আবদ্ধ করে সকল মানুষকে। ব্যক্তি, সমাজ ও জাতীয় জীবনের সর্বক্ষেত্রে ঈদুল ফিতরের শিক্ষার প্রতিফলন ঘটাতে আমি সকলের প্রতি আহ্বান জানাই।
আওয়ামী লীগের উপ-দপ্তর সম্পাদক মৃণাল কান্তি দাস জানান, ঈদের দিন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার সরকারি বাসভবন গণভবনে সকাল সাড়ে ৯টা থেকে রাজনীতিক, কবি, সাহিত্যিক, লেখক, সাংবাদিক, শিক্ষক, বুদ্ধিজীবীসহ বিভিন্ন শ্রেণী-পেশাসহ সর্বস্তরের জনসাধারণের সঙ্গে এবং সাড়ে ১১টায় কূটনীতিক ও বিচারপতিদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন।
বিরোধী দলীয় নেতা খালেদা জিয়া শুভেচ্ছা বাণীতে বলেন, বিশ্ব মুসলিমের সবচেয়ে বড় উত্সব ঈদুল ফিতর। ঈদুল ফিতরের উত্সবে সমাজের সব ভেদরেখা ও সীমানা অতিক্রম করে মানুষে-মানুষে মহামিলন ঘটায় ও সৃষ্টি করে পরস্পরের প্রতি আন্তরিক শুভেচ্ছাবোধ। জানা গেছে, বিরোধী দলীয় নেতা ঈদের দিন সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত রাজধানীর ইস্কাটনে লেডিস ক্লাবে সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন।
জাপা চেয়ারম্যান এরশাদ বিবৃতিতে বলেন, ঈদুল ফিতর আমাদের সকলের জন্য শান্তি ও সৌহার্দ্যের বার্তা নিয়ে আসে। তাই সময় এসেছে সব ভেদাভেদ ভুলে সব মুসলমানকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার।
জাতীয় পার্টি-জেপি’র চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এবং মহাসচিব ও সাবেক মন্ত্রী শেখ শহীদুল ইসলাম বিবৃতিতে বলেন, পবিত্র রমজান মাসের একমাস সিয়াম সাধনার মাধ্যমে আত্মসংযম, আত্মসুদ্ধি ও ধৈর্যের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ মুসলমানদের জন্য পরম করুণাময় আল্লাহ তায়ালার অনন্য উপহার পবিত্র ঈদুল ফিতর। পবিত্র ঈদুল উদযাপনে আমরা সমাজের কম সৌভাগ্যবানদের সঙ্গে যদি আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে পারি, তবেই পবিত্র রমজানে যে শিক্ষা আমরা নিয়েছিলাম তার সঠিক প্রয়োগ হবে। আমরা রমজানের যে শিক্ষা, সে শিক্ষাকে আমাদের জাতীয় জীবনে ধারণ করে আগামী দিনের চলার পথকে তৈরি করবো; পবিত্র ঈদুল ফিতরে এটাই হোক আমাদের প্রতিজ্ঞা। এই উপলক্ষে আমরা বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে মজলুম মুসলিম জনগণের সঙ্গে আমাদের একাত্মতা ঘোষণা করছি এবং বাংলাদেশ তথা বিশ্বের মুসলমানদের জানাচ্ছি- ঈদ মোবারক।
জাতীয় পার্টি-জেপি’র চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু ডেমরা রোড, কাজলারপাড়স্থ বাইতুল জান্নাত জামে মসজিদে পবিত্র ঈদুল ফিতরে নামাজ আদায় করবেন এবং ধানমন্ডিস্থ বাসভবনে দলীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন। একই সঙ্গে জাতীয় পার্টি-জেপি’র মহাসচিব শেখ শহীদুল ইসলাম গুলশান কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ, দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য আব্দুর রহিম রাজধানীর ফকিরাপুল জামে মসজিদ এবং দলের অতিরিক্ত মহাসচিব সাদেক সিদ্দিকী রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইন মাঠে পবিত্র ঈদুল ফিতর-এর নামাজ আদায় করবেন এবং স্ব স্ব বাসভবনে দলীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর আমির মুফতি সৈয়দ মোহাম্মদ রেজাউল করীম পীরসাহেব চরমোনাই পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দেশবাসীর প্রতি আন্তরিক মোবারকবাদ ও অভিনন্দন জানিয়েছেন। শুভেচ্ছা বাণীতে তিনি বলেন, সকল ভেদাভেদ ভুলে সকলকে মানবতার কল্যাণে কাজ করা উচিত। সরকার ও বিরোধী দলকে নিজেদের ক্ষমতায় আঁঁকড়ে থাকা ও ফিরে পাবার বদলে দেশ ও মানবতার কল্যাণে আত্মনিয়োগ করা উচিত।
এছাড়াও জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি) সভাপতি আসম আবদুর রব ও সাধারণ সম্পাদক আবদুল মালেক রতন, জামায়াতে ইসলামীর ভারপ্রাপ্ত আমির মকবুল আহমাদ, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি) চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান এমপি, বাংলাদেশ মুসলিম লীগ-বিএমএল সভাপতি অ্যাডভোকেট জিএ খান ও মহাসচিব আতিকুল ইসলাম দেশবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।