সারাদেশে এক লাখ ১৫ হাজার ঘনমিটার বায়োগ্যাস উত্পাদন
বিমল সাহা, ভ্রাম্যমান প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১১ আগস্ট ২০১৩, ২১:০৭
দেশে স্থাপিত বায়োগ্যাস প্লান্টগুলোতে দৈনিক এক লাখ ১৫ হাজার ৫শ’ ঘনমিটার বায়োগ্যাস উত্পাদন হচ্ছে। এ গ্যাস দিয়ে ৪৩ হাজার বাড়িতে রান্না চলছে। এছাড়া আরো প্রায় দুই হাজার বায়োগ্যাস প্লান্টের মাধ্যমে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান চলছে। তবে সৌর বিদ্যুত্ প্লান্ট যত দ্রুত হারে বাড়ছে, সে তুলনায় বায়োগ্যাস প্লান্ট স্থাপনের গতি মন্থর।
সরকারি সংস্থা ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড (ইডকল) এনজিওর মাধ্যমে বায়োগ্যাস প্লান্ট স্থাপন করছে। ২০১৬ সালের মধ্যে দেশে দেড় লাখ বায়োগ্যাস প্লান্ট স্থাপন করা হবে বলে ইডকলের প্রকৌশলী ওহিদুর রহমান জানান। ২০০৬ সাল থেকে অভ্যন্তরীণ বায়োগ্যাস ও সার তৈরি প্রকল্পের অধীন এনজিওর মাধ্যমে বায়োগ্যাস প্লান্টগুলো স্থাপন করা হচ্ছে।
এনজিও সৃজনী বাংলাদেশের এক তথ্যে জানা যায়, এক দশমিক ৬ ঘনমিটার গ্যাস উত্পাদনক্ষম একটি প্লান্ট স্থাপনে ২৬ হাজার টাকা লাগে। চালাতে ৪টি গরুর গোবরের দরকার হয়। দুই ঘনমিটার গ্যাস উত্পাদনক্ষম প্লান্ট স্থাপনে ৩২ হাজার টাকা লাগে। ৬টি গরুর গোবরে এটি চালানো যায়। দুই দশমিক ৪ ঘনমিটার গ্যাস উত্পাদনক্ষম প্লান্ট বসাতে ৩৬ হাজার টাকা ব্যয় হয়। এটি চালাতে ৮টি গরুর গোবর লাগে। ৩ দশমিক ২ ঘনমিটার গ্যাস উত্পাদনক্ষম বায়োগ্যাস প্লান্ট বসাতে ৪৩ হাজার টাকা লাগে। চালাতে ১০টি গরুর গোবর লাগে। ৪ দশমিক ৮ ঘনমিটার বায়োগ্যাস উত্পাদনক্ষম প্লান্ট স্থাপনে ৫২ হাজার টাকা ব্যয় হয়। চালাতে ১২-১৪টি গরুর গোবর লাগে।
১৯৯৩ সালে সরকার প্রথম বায়োগ্যাস প্লান্ট স্থাপনে পাইলট প্রকল্প গ্রহণ করে। বাস্তবায়নের দায়িত্ব ছিল বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদের উপর। প্রথম পর্যায়ে ৪ হাজার ৬শ’ ৬৪টি বায়োগ্যাস প্লান্ট স্থাপন করা হয়েছিল। দ্বিতীয় পর্যায়ে আরো ২০ হাজার প্লান্ট স্থাপনের কর্মসূচি ছিল। দুইটি পর্যায় মিলিয়ে মোট ২২ হাজার প্লান্ট বসানো হয়েছিল। ১৯৯৬ সালে এ প্রকল্পের কাজ শেষ হয়। এ সময়ে বসানো অনেক বায়োগ্যাস প্লান্ট নষ্ট হয়ে গেছে। তবে প্রকল্পের সাথে সংশ্লিষ্ট এক সূত্রে জানা যায়, শতকরা ৭০ ভাগ প্লান্ট চালু আছে। যত্ন করে ব্যবহার করলে এগুলো ২০-২৫ বছর পর্যন্ত ভালোভাবে চলে থাকে।
নগদ ও এনজিওর কাছ থেকে কিস্তিতে বায়োগ্যাস প্লান্ট বসানো যায়। তবে বাড়িতে প্লান্ট চালানোর মতো গরু থাকতে হবে। কিস্তিতে স্থাপন করলে বার্ষিক শতকরা ৬ টাকা সংশ্লিষ্ট এনজিওকে সার্ভিস চার্জ দিতে হয়। এক বছর গ্রেস পিরিয়ডসহ ৮ বছরের মধ্যে টাকা পরিশোধ করতে হবে।
বাংলাদেশে বড় আকারের বায়োগ্যাস প্লান্ট স্থাপনে জিআইজেড নামে একটি সংস্থা কারিগরি সহায়তা দিচ্ছে। তাদের স্থাপিত প্লান্টে দৈনিক ৫ ঘনমিটার থেকে ৫শ’ ঘনমিটার পর্যন্ত গ্যাস উত্পাদন হয়ে থাকে। কোন কোন প্লান্টের গ্যাস দিয়ে মুরগির খামারে বিদ্যুত্ উত্পাদন হচ্ছে। ৫ থেকে ৫০ কিলোওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুত্ উত্পাদন হচ্ছে। বিশ্বে চীন বায়োগ্যাস উত্পাদনে শীর্ষে। চীনে প্রায় ৪ কেটি বায়োগ্যাস প্লান্ট আছে। ভারতে প্রায় ৫০ লাখ এবং নেপালে তিন লাখ বায়োগ্যাস প্লান্ট স্থাপিত হয়েছে। এসব দেশে প্রতি বছর প্লান্ট বসানোর সংখ্যা বেড়ে চলেছে।
জিআইজেডের সিনিয়র এডভাইজার ড. খসরুদুল ইসলাম জানান, গোবর ছাড়াও মুরগির বিষ্ঠা দিয়ে বায়োগ্যাস তৈরি করা যায়। আমাদের দেশে যে পরিমাণ গোবর ও মুরগির বিষ্ঠা পাওয়া যায় তা দিয়ে প্রায় ৪০ লাখ বায়োগ্যাস প্লান্ট স্থাপন করা যেতে পারে। প্রাপ্ত সুবিধার শতকরা ১১ ভাগ কাজে লাগানো হচ্ছে বলে তিনি জানান।