নেতৃত্ব দিচ্ছেন আইসিসির প্রধান নির্বাহী
আজ আসছে আকসু রিপোর্ট
প্রকাশ : ১১ আগস্ট ২০১৩, ২১:২৫
সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আজই ঢাকায় এসে পৌঁছাচ্ছে সেই বহুল প্রতীক্ষিত আইসিসির দুর্নীতি দমন ও নিরাপত্তা ইউনিটের (আকসু) রিপোর্ট! বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) দ্বিতীয় আসরের অন্তত দুটি ম্যাচ নিয়ে দীর্ঘ তদন্তশেষে আজ বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) হাতে এই রিপোর্ট তুলে দেবে আকসু প্রতিনিধি দল। আর অত্যন্ত চমকপ্রদভাবে আকসুর এই দলটির নেতৃত্ব দেয়ার কথা আছে আইসিসির প্রধান নির্বাহী ডেভ রিচার্ডসনের!
যতদূর জানা গেছে, পাঁচ সদস্যের ‘হাই প্রোফাইল’ এই দলের উপস্থিতিতে রিপোর্টের সারাংশ ও সে অনুযায়ী বিসিবির নেয়া সিদ্ধান্ত আগামীকাল গণমাধ্যমের সামনে তুলে ধরা হবে। বিসিবি সূত্র ও দুবাই থেকে আইসিসির একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে, ঢাকায় উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দলই আসছে আজ।
আকসুর যে প্রতিনিধি দলটি দফায় দফায় বাংলাদেশ সফর করেছে, তাতে কখনো আইসিসির উচ্চপদস্থ কোনো কর্মকর্তা আসেননি। কিন্তু এবার বিসিবি সূত্রে জানা গেল, রিপোর্ট নিয়ে আকসুর যে দলটি আসবে তার নেতৃত্বে থাকতে পারেন আইসিসির প্রধান নির্বাহী নিজেই! এ ছাড়াও প্রতিনিধি দলে দু’ জন তদন্তকারী কর্মকর্তা থাকছেন। আরও উল্লেখযোগ্যভাবে আইসিসির মিডিয়া ও কমিউনিকেশন বিভাগের ম্যানেজার সামিউল হাসান এবং আইন বিভাগের প্রধান ইয়াইন হিগিন্সও থাকছেন এই দলে।
ঢাকা সফরে আসা দলটিতে ঠিক কারা কারা থাকছেন, সেটি নিশ্চিত না করলেও বিসিবির ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী নিজামউদ্দিন চৌধুরী বলেছেন, ‘আগামীকাল আইসিসির একটি প্রতিনিধি দল আসছে। যদিও দলে কারা কারা থাকবেন কিছু এখনও আমাদের নিশ্চিত করা হয়নি। তবে আমরা জানতে পেরেছি যে, প্রতিনিধি দলে আইসিসির প্রধান নির্বাহী ডেভ রিচার্ডসন থাকছেন।’
ঈদের আগেই বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন বলেছেন, আকসু প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতেই সংবাদ সম্মেলন করে বিসিবি রিপোর্ট জানিয়ে দেবে। সে প্রতিশ্রুতিও বিসিবি রক্ষা করতে চলেছে বলেই জানা গেল। নিজামউদ্দিন চৌধুরী জানালেন, আগামীকাল, ১৩ আগস্ট এক সংবাদ সম্মেলন করা হবে। সে সংবাদ সম্মেলনে আকসুর বা আইসিসির পক্ষে কে বা কারা উপস্থিত থাকবেন, সেটা অবশ্য জানানো হয়নি।
তবে সংবাদ সম্মেলনে যারাই উপস্থিত থাকুন না কেন, এই উচ্চ ক্ষমতার প্রতিনিধি দল আকসু রিপোর্ট নিয়ে আসছেন শুনে ক্রিকেট পাড়ায় ব্যাপক বিস্ময় তৈরি হয়েছে। অভিজ্ঞ সংগঠকরা, এমনকি বিসিবি সংশ্লিষ্ট অনেকেই নাম প্রকাশ না করার শর্তে নিজেদের বিস্ময়ের কথা জানিয়েছেন। এমনকি এই প্রতিনিধি দলে আইসিসির উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের উপস্থিতি দেখে অনেকে ‘বড় কিছু’ ঘটতে চলেছে বলেও শঙ্কায় আছেন।
উল্লেখ্য, বিপিএলের দ্বিতীয় আসরের দুইটি ম্যাচ নিয়ে খেলা শেষ হওয়ার পর থেকেই শুরু হয় এই আকসু তদন্ত। মূলত বিপিএলের প্রতিটি ম্যাচে নজরদারি করার জন্য বিসিবিই আকসুকে অর্থের বিনিময়ে দায়িত্ব দিয়েছিল। টুর্নামেন্ট শেষে আকসুর তরফ থেকে বিসিবিকে জানানো হয়, টুর্নামেন্টের কমপক্ষে দুটি ম্যাচ এবং কয়েকজন খেলোয়াড়কে নিয়ে তাদের সন্দেহ আছে। ম্যাচ দুটি হল ২ ফেব্রুয়ারির ঢাকা-বরিশাল এবং ১২ ফেব্রুয়ারির ঢাকা-চিটাগাং ম্যাচ। আকসু এ পর্যায়ে অধিকতর তদন্তের জন্য বিসিবির কাছে অনুমতি চায়। বিসিবি সঙ্গে সঙ্গে অনুমোদন দেয়ার পর দেশে বিদেশে শতাধিক খেলোয়াড়, আম্পায়ার, কর্মকর্তা, দল মালিক, খেলোয়াড়দের এজেন্টের সাক্ষ্য গ্রহণ করে আকসু প্রতিনিধিরা।
এই তদন্তের একপর্যায়ে সংবাদ মাধ্যমে খবর আসে যে, জাতীয় দলের তারকা ক্রিকেটার মোহাম্মদ আশরাফুল, মোশাররফ হোসেন রুবেল ও মাহবুবুল আল রবিন এই ফিক্সিং কাণ্ডে জড়িত। এ ছাড়া সাবেক কয়েকজন জাতীয় ক্রিকেটারের নামও আসে এই প্রক্রিয়ায়। এর মধ্যে আশরাফুল নিজে সংবাদ মাধ্যমের কাছে সব দোষ স্বীকার করে জাতির উদ্দেশ্যে ক্ষমা চেয়ে বিবৃতিও দেন।
সেই থেকে তদন্ত শেষের রিপোর্ট পাওয়ার জন্য চলছে অপেক্ষা। সর্বশেষ লন্ডনে আইসিসির সভায় রিপোর্ট পাওয়ার সম্ভাবনা ছিল। সেখান থেকে ফিরে বিসিবি সভাপতি জানান, আগস্টের প্রথম দিকে এই অপেক্ষার পালা শেষ হতে পারে।
অবশেষে আজ হয়তো শেষ হতে যাচ্ছে অপেক্ষার পালা। এবার উত্তেজনা ও শঙ্কা—কে কতোটুকু অপরাধী বলে বের হয়ে আসে!