বিভিন্ন জেলায় পানিতে ডুবে শিশুসহ নিহত ১৪
প্রকাশ : ১১ আগস্ট ২০১৩, ২২:০০
ঈদের ছুটিতে গত কয়েকদিনে নেত্রকোনার কেন্দুয়া, কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর, পাবনা, কুড়িগ্রামের রাজীবপুর, কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে ১৪ জন শিশু পানিতে ডুবে মারা যায়। ইত্তেফাকের জেলা প্রতিনিধি ও সংবাদদাতাদের পাঠানো।
কেন্দুয়া (নেত্রকোনা)
নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় পুকুরের পানিতে ডুবে সাদিয়া আক্তারের (৪) মৃত্যু হয়েছে। গত শুক্রবার ঈদের দিন বিকালে গোসল করতে গিয়ে সে পানিতে ডুবে যায়। পরে ভাসমান অবস্থায় তার লাশ উদ্ধার করা হয়। সাদিয়া কেন্দুয়া পৌর এলাকার কমলপুর গ্রামের ইনছান মিয়ার কন্যা।
হোসেনপুর (কিশোরগঞ্জ)
হোসেনপুর উপজেলার কাওনা গ্রামের নরসুন্দা নদীতে গোসল করতে গিয়ে পানিতে ডুবে গত শনিবার দুই বোনের মৃত্যু হয়েছে। উপজেলার কাওনা গ্রামের আব্দুল খালেকের দুই মেয়ে লিপু আক্তার (১৩) ও খাদিজা আক্তার (১০) নরসুন্দা নদীতে গোসল করতে গিয়ে পানিতে ডুবে মারা যায়। তাদেরকে উদ্ধার করে হোসেনপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিত্সক দুই বোনকে মৃত ঘোষণা করেন।
পাবনা
পাবনার সুজানগর উপজেলার খলিলপুর গ্রামের তিন পরিবারের তিন শিশু পানিতে ডুবে মারা যায়। গত শুক্রবার সকালে এ ঘটনা ঘটে। নিহত শিশুরা হল লিটন শেখের ছেলে রোহান (৫), গোলাম আজমের ছেলে অমি (৮) ও টুটুল শেখের মেয়ে সুমাইয়া (৭)। তারা সম্পর্কে চাচাতো ভাইবোন। খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে দুপুর একটার দিকে ওই ডোবা থেকে তাদের মৃতদেহ উদ্ধার করে স্বজনরা। এ ঘটনায় গ্রামে শোকের ছায়া নেমে আসে।
রাজীবপুর (কুড়িগ্রাম)
ব্রহ্মপুত্র নদে খেয়ার নৌকা ডুবির ঘটনা ঘটেছে। এতে ৬ বছর বয়সী এক শিশুর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে আর ১২ জন নিখোঁজ হয়েছে বলে জানা গেছে। গত বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে ব্রহ্মপুত্র নদে ওই নৌকা ডুবির ঘটনাটি ঘটে রাজীবপুর উপজেলার বড়বেড় চরে। নিহত শিশুর নাম মানিক মিয়া (৬)। নৌকায় ৭০/৮০ জন যাত্রী ছিল। এরা সবাই ভিজিএফ’র চাল নেয়ার জন্য মোহনগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদে যাওয়ার পথে এ ঘটনা ঘটে।
নাঙ্গলকোট (কুমিল্লা)
নাঙ্গলকোট উপজেলার ঢালুয়া গ্রামে পানিতে ডুবে গত শনিবার দু’সহোদরের মৃত্যু হয়েছে। ছেরাজুল হকের মেয়ে তানিয়া আক্তার ও তার জেঠা সায়েদুল হকের মেয়ে ফারজানা আক্তার পপি (১৩) বাড়ির পাশের পুকুরে গোসল করতে গিয়ে পানিতে ডুবে এ দু’জনের মৃত্যু হয়। ফারজানা ৭ম শ্রেণি এবং তানিয়া চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী।
সিরাজদিখান (মুন্সীগঞ্জ)
সিরাজদিখান উপজেলার পাউসার গ্রামে ঈদের দিন শুক্রবার সকালে ইছামতি নদীতে গোসল করতে গিয়ে পানিতে ডুবে পিতা খোকন মিয়া (৩২) ও ছেলে এহসান (৭) মারা গেছে। ঘটনার পর হতে পরিবারের অপর সদস্য অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূ মা রিপা আক্তার (২৫) স্টোক করে অসুস্থ অবস্থায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিত্সাধীন রয়েছে।
কুড়িগ্রাম
ব্রহ্মপুত্র নদে গত বৃহস্পতিবার নৌকাডুবির ঘটনায় দুইজন নিহত হয়েছে। নিহতরা হলেন লিমন (৩) ও আনোয়ার (১৭)। নিখোঁজ রয়েছে পাঁচজন। নিখোঁজরা হলেন নিহত শিশু লিমনের মা লিপি আক্তার, অমেছা বেগম, আনিছুর রহমান, ইদু মিয়া ও জোবেদা বেগম। এদের বাড়ী রাজীবপুর উপজেলার বড়বেড় চরে। কুড়িগ্রামের ধরলা নদীতে ডুবে রাজু মিয়া (১৮) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। সে কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার বেলগাছা ইউনিয়নের পশ্চিম কল্যাণপাড়ার সাইফুল ইসলামের পুত্র।