বিভিন্নস্থানে ৬ জন খুন
প্রকাশ : ১১ আগস্ট ২০১৩, ২২:০১
বিভিন্নস্থানে আপনজনের হাতে ও বিভিন্ন তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ৬ জন খুন হয়েছে। খবর ইত্তেফাক প্রতিনিধি, সংবাদদাতাদের।
বেড়া (পাবনা)
পাবনার বেড়া পৌর এলাকার বাঙাবাড়িয়া মহল্লায় ভাগ্নের হাতে মামা খুন হয়েছেন। শনিবার রাতে এ ঘটনাটি ঘটে। পারিবারিক ও প্রতিবেশীদের সূত্রে জানা যায়, পারিবারিক কলহের জের ধরে শনিবার রাত আটটার দিকে বাঙাবাড়িয়া মহল্লার আত্তাব হোসেনের (৩২) সঙ্গে তার ভাগ্নে ফারুক হোসেনের (২৮) মারামারি শুরু হয়। এরই এক পর্যায়ে ভাগ্নে ফারুকের লাঠির আঘাতে মামা আত্তাব গুরুতর আহত হন। এ ঘটনায় গতকাল রবিবার দুপুর দুইটা পর্যন্ত বেড়া থানায় কোনো মামলা হয়নি।
কুমিল্লা
কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় মেরাজ হোসেন নামে এক যুবক ছুরিকাঘাতে খুন হয়েছে। গত শুক্রবার বিকালে উপজেলার উত্তর তেতাভূমি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ব্রাহ্মণপাড়া থানায় একটি মামলা হয়েছে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঈদের দিন বুড়িচং উপজেলার আজ্ঞাপুর গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা আনোয়ার হোসেনের পুত্র মেরাজ হোসেন (২২) একটি পিকআপ ভ্যান ভাড়া করে আনন্দ-উল্লাস করছিল। বিকাল সোয়া ৩টার দিকে ওই পিকআপটি নিয়ে ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার উত্তর তেতাভূমি যাওয়ার পর ওই গাড়িতে থাকা তার চাচাতো ভাই হরমুজ আলীর পুত্র কবির হোসেনের (২৫) সাথে মাইক বাজানো নিয়ে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে কবির মেরাজকে ছুরিকাঘাত করে। হাসপাতালে নেয়ার পথে সে মারা যায়।
শ্রীপুর (মাগুরা)
মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার বরিশাট গ্রামে ঈদের রাতে টিভি দেখাকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের হাতে সাজ্জাদ শেখ (২৬) নামের এক যুবক খুন হয়েছে। নিহত সাজ্জাদ শেখ বরিশাট গ্রামের বেলায়েত শেখের পুত্র। শ্রীপুর থানার ওসি বিপ্লব কুমার নাথ ও নিহতের স্বজনেরা জানান, ঈদের দিন রাতে শ্রীপুর উপজেলার বরিশাট গ্রামের শামসুল আলমের স্ত্রী আকলিমা বেগম পার্শ্ববর্তী জনৈক সাজ্জাদের বাড়িতে টিভি দেখতে যায়। এ টিভি দেখতে যাওয়াকে কেন্দ্র করে শামসুল আলমের ছোট ভাই রইচ উদ্দিন ক্ষিপ্ত হয়ে সাজ্জাদকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে মারাত্মক জখম করে। পরে গুরুতর জখম অবস্থায় পরিবারের লোকজন তাকে উদ্ধার করে মাগুরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করলে কিছুক্ষণ পরে কর্তব্যরত চিকিত্সক মৃত ঘোষণা করেন।
বাউফল (পটুয়াখালী)
পটুয়াখালীর বাউফলের কালাইয়া গ্রামে শুক্রবার রাতে ওবায়দুল শরীফ (৩০) নামের এক যুবককে গলাকেটে হত্যা করা হয়েছে। নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ঢাকায় নির্মাণ শ্রমিকের কাজ করত ওবায়দুল। ওবায়দুলের স্ত্রী সেলিনা বেগম দশমিনা উপজেলায় হাজিরহাট গ্রামে তার বাবা-মায়ের সাথে থাকত। ঈদের ১ দিন পূর্বে ওবায়দুল তার নিজ বাড়িতে আসলে সেলিনা বেগমও স্বামীর বাড়িতে আসে। ঘটনার রাতে খাবার শেষে স্বামী-স্ত্রী ঘরে ঘুমিয়ে পড়ে। রাত ৩ টার দিকে সেলিনা ঘরের দরজা খুলে ডাক-চিত্কার দিলে বাড়ির লোকজন ঘরে ঢুকে চৌকির উপর ওবাদুলের গলা কাটা লাশ দেখতে পায়। পরে স্থানীয় লোকজন থানা-পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ওবায়দুলের লাশ উদ্ধার করে মর্গে প্রেরণ করে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার বালিয়াডাঙ্গা ইউনিয়নের গোহালবাড়ি গ্রামে স্বামীর হাতে স্ত্রী খুন হয়েছেন। নিহত গৃহবধূ হচ্ছে, সুমনের স্ত্রী সোনিয়া আক্তার রাবু (২৫)। সদর মডেল থানার উপ-পরিদর্শক জাহাঙ্গীর আলম জানান, পারিবারিক কলহের জের ধরে শুক্রবার রাতে রাবুকে তার স্বামী সুমন হত্যা করে লাশ ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। শনিবার ভোরে গ্রামের লোকজনের মাধ্যমে খবর পেয়ে রাবুর লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে পুলিশ।
এ ঘটনায় নিহতের মামা সদর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, যৌতুকের জন্য সোনিয়াকে খুন করা হয়েছে।
গাইবান্ধা
গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার শিবপুর ইউনিয়নের মালঞ্চা গ্রামে গত শনিবার রাতে ছেলের ছুরিকাঘাতে পিতা নিহত ও মা আহত হয়েছে। ঘটনার পর ঘাতক পুত্র এনামুল হক (৩০) পালিয়ে গেছে। গোবিন্দগঞ্জ থানার ওসি দেলোয়ার হোসেন জানান, নিহত আব্দুর রাজ্জাক (৬০) কিছুদিন পূর্বে ঘাতক ছেলে এনামুলকে সংসার থেকে আলাদা করে দেন। জমি বা সম্পত্তি তাকে দেন নাই। বর্তমানে এনামুল অভাবের কারণে একটি ইজিবাইক কেনার জন্য পিতার কাছে টাকা চান। এ নিয়ে শনিবার রাত ৯টার দিকে রান্নাঘরে পিতাকে আকস্মিকভাবে ছোড়া দিয়ে আঘাত করতে শুরু করে। এ সময় তার মা এগিয়ে এলে তাকেও আঘাত করে। পরে প্রতিবেশীরা দুইজনকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে বগুড়া মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে।
গৌরনদী (বরিশাল)
বরিশালের গৌরনদী উপজেলার চন্দ্রহার গ্রামের এক গৃহবধূকে কুপিয়ে মারাত্মক জখম করেছে প্রতিপক্ষের লোকজনে। শনিবার দুপুরে একটি মেয়েলী ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওই গ্রামের ব্যবসায়ী সরোয়ার প্যাদার স্ত্রী সেলিনা বেগমকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। তাকে গৌরনদী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
বানারীপাড়া (বরিশাল)
বানারীপাড়ার বাইশারীতে পূর্ব বিরোধের জের ধরে হারুন বেপারী নামের এক যুবককে নৃশংসভাবে কুপিয়ে জখম করা হয়েছে। সে বাইশারী ইউপি চেয়ারম্যান মাইনুল হাসান মোহাম্মদের ঘনিষ্ঠ সহযোগী। গত বৃহস্পতিবার রাতে হারুন বেপারী বাইশারী বাজার থেকে ঈদের বাজার করে অটোবাইকে গরদ্দার গ্রামের বাড়িতে যাওয়ার পথে আ. হাই মালের বাড়ি সামনে রাস্তায় একদল সন্ত্রাসী অটোবাইক থামিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে। তার হাত ও পায়ের রগ কেটে যায়। লোকজন তাকে উদ্ধার করে প্রথমে বানারীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও পরে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি করে।