ঢাকাবাসীর ঐতিহ্যবাহী ঈদ আনন্দ শোভাযাত্রা

পুরনো ঢাকার ঐতিহ্যবাহী ঢাকাবাসী সংগঠন-এর উদ্যোগে প্রতি বছরের ন্যায় এবারও ঈদ আনন্দ শোভাযাত্রা বের করা হয়। গত শনিবার ঈদ আনন্দ শোভাযাত্রা শিশু একাডেমী প্রাঙ্গণ থেকে বের হয়। বিপুল উত্সাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে বের হওয়া এই শোভাযাত্রার নেতৃত্ব দেন আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী কামরুল ইসলাম এমপি। বিশেষ অতিথি ছিলেন শিক্ষা বিষয়ক সংসদীয় কমিটির সদস্য রাশেদ খান মেনন এমপি, ঢাকাবাসীর প্রধান উপদেষ্টা ইনাম আহমদ চৌধুরী, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধুরী, ঢাকাবাসীর উপদেষ্টা নাগিনা চৌধুরী। ঢাকাবাসীর সভাপতি ও ঢাকার ঈদ আনন্দ শোভাযাত্রা উদযাপন পরিষদ-এর আহবায়ক শুকুর সালেকের সভাপতিত্বে আলোচনায় অংশ নেন ঢাকাবাসীর মহাসচিব শেখ খোদা বকস, উপদেষ্টা আজফারুজ্জামান সোহরাব ও সদস্য রাশেদ মাহমুদ এবং এলিট কসমেটিকা লিমিটেড-এর ডিজিএম মো. মনোয়ারুল ইসলাম স্বপন। রং-বেরংয়ের বেলুন পোস্টার ফেস্টুন ব্যানার বহন করা হয় এই শোভাযাত্রায়। শিশু ও কিশোরীরা যেমন খুশি তেমন সাজ সেজে ঘোড়ার গাড়িতে চড়ে শোভাযাত্রায় অংশ নেয়। এতে পুরনো ঢাকার কাসিদা পরিবেশন করা হয়। পুরনো ঢাকার কালাচাঁন ব্যান্ড পার্টির দল তাদের বাজনা বাজিয়ে দর্শকদের উত্সাহিত করেন। এবারের শোভাযাত্রার শ্লোগান ছিল ঢাকার পণ্য কিনে হও ধন্য, বাংলাদেশের পণ্য সকলের জন্য। বক্তারা পুরনো ঢাকার ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা রুপলাল হাউজ, ছোট কাটরা, বড় কাটরা দখলমুক্ত ও সংস্কার চান। তারা ঢাকার বুড়িগঙ্গা ও বুড়িগঙ্গার শাখা নদী বাবুপুরা ব্রিজ থেকে আমিনবাজার পর্যন্ত বেড়িবাঁধ সংলগ্ন নদীর দখলমুক্ত চান এবং সেখানে ওয়াটার বাস চালু করার দাবি জানান। বক্তারা শাঁখারীবাজারের পুরাকৃতি রক্ষার আহবান জানান। নাগরিক সুযোগ-সুবিধা প্রাপ্তির লক্ষ্যে ধুলোবালি ও মশকমুক্ত নগরের দাবি জানান তারা। বক্তারা ঢাকার জেলখানা ও ট্যানারি শিল্প এলাকা উঠে গেলে সেখানে উদ্যান ও মাঠ করার দাবি জানান। দলমত নির্বিশেষে সকলকে এই ঢাকাকে বসবাসের যোগ্য করে গড়ে তোলার আহবান জানান। শোভাযাত্রাটি শিশু একাডেমী হয়ে নগরীর বিভিন্ন স্থান প্রদক্ষিণ করে ঢাকা হাজারীবাগে গিয়ে শেষ হয়।