নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড হলে আন্দোলন করবো না
প্রকাশ : ১১ আগস্ট ২০১৩, ২২:৩৭
বিরোধী দলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, আমরা নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলন করছি। সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য সরকার যদি লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করে তাহলে আমরা আন্দোলন করবো না। জনগণ যে রায় দেয় তা মেনে নেবো।
পবিত্র ঈদের দিন দুপুরে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দে বিভিন্ন কূটনীতিক-বিশিষ্ট নাগরিক ও নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা বলেন খালেদা জিয়া।
খালেদা জিয়া বলেন, অবাধ সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্রের ধারা অব্যাহত রাখা সরকারের দায়িত্ব। কিন্তু নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন ছাড়া তা সম্ভব নয়। কারণ সরকার প্রশাসন, নির্বাচন কমিশন, আদালতকে দলীয়করণ করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশন ব্যর্থ ও সরকারের আজ্ঞাবহ প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। তত্ত্বাবধায়ক দাবি জনদাবিতে পরিণত হয়েছে। সরকার যদি দেশ ও মানুষকে ভালোবাসে তাহলে তত্ত্বাবধায়ক সরকার পুনর্বহাল করে ক্ষমতা ছেড়ে নির্বাচন দেবে। যদি দেশ ও জনগণের জন্য কাজ করে থাকেন তবে মিথ্যা প্রচারণা বাদ দিয়ে অবিলম্বে তত্ত্বাবধায়ক বিল পাস করুন।
মহাজোট সরকারের উন্নয়ন বিলবোর্ড নিয়ে খালেদা জিয়া বলেন, রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে অর্থ ব্যয় করে এই প্রচারণা চালানো হচ্ছে। ওইসব মিথ্যা প্রচারণা। জনগণ এই সরকারের আমলে কোনো উন্নয়ন দেখেনি। বিদ্যুত্খাতে কি উন্নয়ন হয়েছে? বিদ্যুত্ সমস্যার সমাধান হয়নি। এখনও গ্রামের মানুষ বিদ্যুত্ পাচ্ছে না। এই মিথ্যা প্রচারণায় কোন লাভ হবে না। জনগণ সব বোঝে।
খালেদা জিয়া বলেন, সরকার জাতিকে বিভক্ত করে ফেলেছে। আমরা সবাইকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করে দেশকে এগিয়ে নিতে চাই। দেশকে এগিয়ে নেয়ার জন্য নতুন প্রজন্মের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সরকারের দুঃশাসনে দেশের মানুষ ভালো নেই, তারা শান্তিতে ঈদ করতে পারছে না।
দেশের জনগণের সঙ্গে ঈদ করতে পেরে খালেদা জিয়া সন্তোষ প্রকাশ করেন। এ সময় তিনি বলেন, পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মোবাইলে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেছি। সর্বস্তরের জনসাধারণের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেছি। জনগণই আমার পরিবার। এটাই আমার সবচেয়ে বড় আনন্দ। আমি আনন্দিত।
এর আগে ঐ দিন বেলা ১১টায় রাজধানীর শেরে বাংলা নগরের বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দে পৌঁছান বিএনপি চেয়ারপারসন। পরে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময়ের জন্য মঞ্চে ওঠেন তিনি। এ সময় সঙ্গে ছিলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আর এ গণি, ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, জমির উদ্দিন সরকার, এমকে আনোয়ার, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ, লে জে. (অব.) মাহবুবুর রহমান, আ স ম হান্নান শাহ, গয়েশ্বর রায়, ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া, ভাইস চেয়ারম্যান সাদেক হোসেন খোকা, সেলিমা রহমান।
এছাড়া ব্যারিস্টার রফিক উল হক, রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক এমাজ উদ্দিন আহমেদ, আ ফ ম ইউসুফ হায়দার, বিজেএমইএ নেতা আতিকুল ইসলাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. সুকোমল বড়ুয়া, বিএনপির অধ্যাপক এম এ মান্নান, অ্যাডভোকেট আহমেদ আজম খান, আলতাফ হোসেন চৌধুরী, জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য ড. আব্দুল্লাহ মো. তাহের, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির সভাপতি শফিউল আলম প্রধান, লেবার পার্টির সভাপতি ডা. মুস্তাফিজুর রহমান ইরান, ন্যাপের চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গানি, পিপলস পার্টির গরীবে নেওয়াজ, বিকল্প ধারার মহাসচিব মেজর (অব.) মান্নান, চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্ব চাষী নজরুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
কূটনীতিক ও বিশিষ্ট নাগরিকদের সঙ্গে কুশল বিনিময়
খালেদা জিয়া সকালে কূটনীতিক ও বিশিষ্ট নাগরিকদের সঙ্গে ঈদের কুশল বিনিময় করেন। বেগম জিয়া অতিথিদের জর্দা, সেমাই ও মিষ্টি দিয়ে অপ্যায়ন করেন। ৪৭টি দেশের কূটনীতিকরা বিরোধী দলীয় নেতার সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। পরে বিরোধী দলীয় নেতার পক্ষ থেকে কূটনীতিকদের সম্মানে আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দে মধ্যহ্ন ভোজ দেয়া হয়। সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী এম মোরশেদ খান, সাবেক পররাষ্ট্র উপদেষ্টা রিয়াজ রহমান, সাবেক পররাষ্ট্র সচিব শমসের মবিন চৌধুরী এই সময় উপস্থিত ছিলেন।
জিয়ার মাজার জিয়ারত
ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় শেষ করে খালেদা জিয়া তার স্বামী শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরে পুস্পমাল্য অপর্ণ করেন। এ সময় তিনি ফাতেহা পাঠ ও আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন।