শোলাকিয়ায় এবারও লাখো মুসল্লির ঢল
সুবীর বসাক, কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১১ আগস্ট ২০১৩, ২২:৩৮
প্রায় সাত একর আয়তন বিশিষ্ট ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ। কিশোরগঞ্জ শহর থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে নরসুন্দা নদীর পার ঘেঁষে এর অবস্থান। যতদূর চোখ যায়, শুধু মানুষ আর মানুষ। নতুন পায়জামা-পাঞ্জাবি গায়ে দিয়ে, মাথায় রঙিন টুপি পরে মুসল্লিরা ছুটছেন মাঠের দিকে। নামাজ শুরুর আগেই মাঠ যেন জনসমুদ্রের রূপ লাভ করে। এটিই ছিল ঈদুল ফিতরের দিনে নামাজ শুরু হওয়ার পূর্বে শোলাকিয়া ঈদগাহের চিত্র।
দুই-তিন দিন আগে থেকেই মাঠ সংলগ্ন মসজিদ ছাড়াও শহর ও আশপাশের সকল মসজিদে মুসল্লিরা অবস্থান নেয়ায় সেগুলোতেও তিল ধারণের ঠাঁই ছিল না। আবাসিক হোটেলসমূহের সকল কক্ষই আগে থেকেই ‘বুকিং’ হয়ে গিয়েছিল। ঠিক সকাল দশটায় নামাজ শুরু হয়। নামাজ শুরুর ১৫ মিনিট আগে তিনটি, পাঁচ মিনিট আগে দুইটি ও এক মিনিট আগে একটি শটগানের ফাঁকা গুলি ছুঁড়ে মুসল্লিদের নামাজের প্রস্তুতির জন্য নির্দেশনা দেয়া হয়। এ বছর শোলাকিয়া ঈদগাহে ঈদুল ফিতরের ১৮৬তম জামাতে তিন লাখ মুসল্লি অংশগ্রহণ করেন। আবহাওয়া ছিল সম্পূর্ণ অনুকূলে। জামাতে ইমামতি, খুতবা পাঠ ও মোনাজাত পরিচালনা করেন বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ মাওলানা ফরীদ উদ্দীন মাসউদ। মাঠের পাশেই পর্দাঘেরা জায়গায় মহিলাদের জন্য পৃথক নামাজের ব্যবস্থা করা হয়।
প্রতি বছরের মতো কড়া নিরাপত্তা বলয় ভেদ করে বিভিন্ন প্রবেশ মুখ দিয়ে মুসল্লিদের মাঠে প্রবেশ করতে হয়। তবে এই প্রথমবারের মতো বসানো হয়েছিল ৬০টি সিসি ক্যামেরা এবং নির্মাণ করা হয়েছিল বেশ কয়েকটি পর্যবেক্ষণ টাওয়ার।