জিয়ানগরে ২ আওয়ামী লীগ নেতার বিরোধে গুলিবিদ্ধ ২ যুবক

ঈদের পরের দিন ২ আওয়ামী লীগ নেতার বিরোধে জিয়ানগরের প্রত্যন্ত গ্রামে ২ যুবক গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। পূর্ব শত্রুতার জের ধরে গত শনিবার দুপুর ৩ টার দিকে উপজেলার বালিপাড়ার চন্ডিপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। বালিপাড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমানের সমর্থকদের স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা মোস্তফা হাওলাদারের লাইসেন্স করা বন্দুক দিয়ে গুলি করলে আছাদুল (২৫) ও মহসিন (১৭) গুলিবিদ্ধ হন। তিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং অ্যাডভোকেট মতিউর রহমানের চাচাতো ভাই। ঘটনার পর আহতদের পিরোজপুর হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিত্সা দেয়ার পরে খুলনার ২৫০ শয্যার হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। বালিপাড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান জানান, বালিপাড়ার চন্ডিপুরের চৌমুহনী থেকে গাজীরহাট পর্যন্ত একটি রাস্তা নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরে মোস্তফা হাওলাদারের সাথে বিরোধ চলছিল। এই রাস্তার পাশে একটি খালের সাঁকো মেরামতের সময় মোস্তফার নেতৃত্বে ১৫/২০ জন লোক আগ্নেয়াস্ত্রসহ হামলা চালায়। তখন মোস্তফা তার লাইসেন্স করা বন্দুক থেকে প্রতিপক্ষকে গুলি করে। এ ঘটনায় মোস্তাফিজের ভাইয়ের ছেলে আছাদুল ও ভাই মহসিন গুলিবিদ্ধ হয়। মোস্তফা হাওলাদার জানান, তার সাথে মোস্তাফিজুরের কোন দ্বন্দ্ব নেই। গুলি করার ঘটনার সাথে তিনি জড়িত নন। তাদের নিজেদের গুলিতে তারা আহত হয়েছে। এদিকে এ ঘটনায় মোস্তফা হাওলাদারের ভাই রফিকুলকে (৪৫) গত শনিবার রাতে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। শত শত এলাকাবাসী গত শনিবার রাতে তার বাড়ি ঘেরাও করে রাখলে পুলিশ খবর পেয়ে তাকে থানায় নিয়ে আসে। এ সময় বিক্ষুব্ধ জনতা রফিকুলকে পুলিশের হাত থেকে ছিনিয়ে নেয়ারও চেষ্টা করে। এদিকে এলাকায় র্যাব ও পুলিশের টহল জোরদার করা হয়েছে। এছাড়া মোস্তফাকে প্রধান আসামি করে ইন্দুরকানী থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, কয়েক মাস পূর্বে বালিপাড়া ইউনিয়নের কমিটি গঠন নিয়ে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমানের সাথে আওয়ামী লীগ নেতা মোস্তফা হাওলাদারের শত্রুতার সৃষ্টি হয়। এছাড়াও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির সরাসরি মদদে উক্ত রাস্তা নিয়ে আগেও বন্দুক মোস্তফা নামে পরিচিত প্রতিপক্ষ মোস্তাফিজের সাথে বিভিন্ন বিরোধে লিপ্ত ছিল বলে এলাকাবাসী জানায়।