চলন্ত ট্রেনে ঢিল, কেড়ে নিল নারী প্রকৌশলীর প্রাণ
প্রকাশ : ১১ আগস্ট ২০১৩, ২২:৪১
ঈদের ছুটি শেষে স্বামী ও তার দুই বন্ধুর সঙ্গে ঢাকায় ফিরছিলেন প্রকৌশলী প্রীতি দাশ (২৫)। চট্টগ্রাম রেল স্টেশন থেকে তারা উঠেছেন তূর্ণা এক্সপ্রেস ট্রেনে। রাতের ট্রেন। বসেছিলেন ট্রেনের ‘ড’ বগির ৪০ নম্বর সিটে, জানালার পাশে। তবে বন্ধ ছিল জানালাটি। ইতিমধ্যে ট্রেনটি চলতে শুরু করেছে, তবে তখনও পূর্ণ গতিতে ছুটতে শুরু করেনি। পাশেই বসা ছিলেন ব্যাংকার স্বামী মিন্টু দাশ। প্রীতি স্বামীকে জিজ্ঞেস করলেন, কখন ট্রেন ঢাকায় পৌঁছাবে? এমন সময় আকস্মিক অন্ধকার ভেদ করে জানালার কাঁচ ভেঙ্গে একটি ঢিল (পাথর) এসে সরাসরি প্রীতির মাথায় আঘাত করে। তার মাথা ফেটে রক্ত ঝড়তে থাকলে জরুরি চেইন টেনে থামানো হয় ট্রেন। প্রীতিকে নেয়া হয় স্থানীয় সীতাকুন্ড হাসপাতালে, পরে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। কিন্তু চিকিত্সকরা চিকিত্সা দেয়ার কোন সুযোগই পেলেন না। তার আগেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন সম্ভাবনাময় এই নারী প্রকৌশলী। নির্মম এ ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার রাতে, চট্টগ্রাম রেল স্টেশন থেকে ট্রেন ছাড়ার আধা ঘন্টা পর সীতাকুন্ড উপজেলার ভাটিয়ারি এলাকায়।
রেল পুলিশ-জিআরপি’র (চট্টগ্রাম) ওসি আহসান হাবিবের বরাত দিয়ে ইত্তেফাক চট্টগ্রাম অফিস জানায়, প্রীতি দাশ তূর্ণা এক্সপ্রেস ট্রেনে ঢাকায় ফিরছিলেন। সঙ্গে ছিলেন তার স্বামী মিন্টু দাশ ও তার বন্ধু বিচার ও প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) আব্দুল্লাহ আল মামুনসহ আরো একজন। ট্রেনটি রাত সাড়ে ১১টার দিক ভাটিয়ারি এলাকায় পৌঁছানোর পর বাইরে থেকে দুর্বৃত্তরা পাথর ছুঁড়ে মারে। উপর্যুপরি পাথরের আঘাতে ট্রেনের জানালা ভেঙে যায়। একটি পাথর প্রীতির কানের পাশে আঘাত করলে তিনি গুরুতর আহত হন। ট্রেন থামিয়ে প্রীতিকে প্রথমে সীতাকুন্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে এবং পরে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিত্সকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। স্বামীর সম্মতিতে গতকাল রবিবার প্রীতির মরদেহ ময়না তদন্ত ছাড়াই তার গ্রামের বাড়িতে শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হয়েছে। এ ঘটনায় চট্টগ্রাম রেল থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে।
প্রীতির স্বামী মিন্টু দাশ ঢাকায় একটি বেসরকারি ব্যাংকে মানবসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তা। মাত্র ষোল মাস আগে তাদের বিয়ে হয়। প্রীতির শ্বশুরবাড়ি চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ গেজেটেড অফিসার্স কলোনি এলাকায়। চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট) থেকে ইঞ্জিনিয়ারিং পাস করার পর প্রীতি ঢাকার একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে এমফিল গবেষণা করছিলেন। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের আনোয়ার উপজেলার জমাতলায়।
রেল পুলিশের ডিআইজি সোহরাব হাসান ইত্তেফাককে বলেন, ট্রেনযাত্রী প্রীতি দাশের মৃত্যুর জন্য যারা দায়ী তাদের শনাক্ত করে গ্রেফতারের জন্য পুলিশ অভিযান শুরু করেছে। তিনি বলেন, চলন্ত ট্রেনে ঢিল ছোঁড়া বন্ধ করার জন্য প্রয়োজন গণসচেতনতা। এ জন্য ট্রেন লাইন সংলগ্ন এলাকার সাধারণ মানুষকেই এগিয়ে আসতে হবে। তিনি আরো বলেন, ট্রেনে ঢিল ছোঁড়া বন্ধ করতে রেল কর্তৃপক্ষ অনেক বার পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়েছে। পাশাপাশি রেল পুলিশ বিভিন্ন এলাকায় প্রচারণাও চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু তার পরও চলন্ত ট্রেনে ঢিল ছোঁড়া বন্ধ করা যায়নি।