লাশ শনাক্তে ব্যবহার করা হবে এফবিআই সফটওয়্যার
প্রকাশ : ১১ আগস্ট ২০১৩, ২২:৪১
সাভারের রানা প্লাজা ধসের ঘটনায় শনাক্ত করা যায়নি এমন ৩২১টি লাশের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যাবে আগামী অক্টোবরের মধ্যে। এর আগে পরিচয় শনাক্ত করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের এফবিআই (ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন) থেকে একটি সফটওয়্যার ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের ন্যাশনাল ডিএনএ ফরেনসিক প্রোফাইলিং ল্যাবরেটরিতে (এনএফডি-পিএল) স্থাপন করা হবে। এনএফডিপিএলের এ্যানালিস্ট আশীষ কুমার মজুমদার জানিয়েছেন, সফটওয়্যার স্থাপনের পর ল্যাবের গবেষকদের এটি ব্যবহারের জন্য ১৫ দিনের প্রশিক্ষণ দেয়া হবে। তারপর মাত্র ১৫ দিনেই ৩২১ লাশের পরিচয় শনাক্ত করা যাবে। সেপ্টেম্বরের মধ্যে এই সফটওয়্যার ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের ফরেনসিক ল্যাবে স্থাপনের জন্য কাজ চলছে বলে তিনি উল্লেখ করেছেন।
সরকারের পক্ষ থেকে রানা প্লাজা ধসে নিহতদের মধ্যে গত ১৯ জুন পর্যন্ত শনাক্ত করা যায়নি এমন ৩২১ লাশের দাঁত ও হাড় দেয়া হয়েছে ডিএনএ পরীক্ষার জন্য। অন্যদিকে মা-বাবা অথবা ভাই-বোন দাবি করে রক্ত নমুনা দিয়েছেন ৫৪৬ জন। গবেষণাগারে রাসায়নিক বিশ্লেষণ করে ইতিমধ্যে অর্ধেকের বেশি ডিএনএ রূপরেখা তৈরি করা হয়েছে। গত জুলাইয়ে চাকরি রাজস্ব খাতে স্থানান্তর, পদোন্নতি ও ইউজার ফি বন্টনের দাবিতে এনএফডিপিএল কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এক সপ্তাহ কর্মবিরতি পালন করলেও সে সময় এই লাশ শনাক্তের কাজ চলে। এরপরে আর্থিক সঙ্কটের কারণে কাজ বন্ধ হয়ে যায়।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ডিএনএ পরীক্ষার ব্যয় নির্বাহ করতে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে ৫০ লাখ টাকার যোগান দেয়া হচ্ছে। ফরেনসিক ল্যাব কর্তৃপক্ষ ঢাকা জেলা প্রশাসকের কাছে চিঠি দিয়ে অজ্ঞাত পরিচয় লাশের ডিএনএ পরীক্ষার ব্যয়ভার কে বহন করবে তা জানতে চেয়েছিল। এরপর জেলা প্রশাসন বিজিএমইএ কর্তৃপক্ষের কাছে ডিএনএ পরীক্ষা বাবদ আর্থিক সহায়তা চেয়ে চিঠি দিলেও সাড়া পাওয়া যায়নি। পরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে ফরেনসিক ল্যাবের জন্য ৫০ লাখ টাকা অনুদান দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
ল্যাব সূত্রে জানা গেছে, প্রতিটি লাশের বিপরীতে স্বজন দাবিদার ৫৪৬ জনের ডিএনএ রূপরেখার মিল-অমিল খুঁজতে হবে বা ফাইল হবে। অর্থাত্ ৩২১টি লাশের বিপরীতে ফাইল হবে এক লাখ ৭৫ হাজার ২৬৬টি। বর্তমানে পরীক্ষাগারে জেনো প্রুভ সফটওয়ারের মাধ্যমে রূপরেখা মিলানোর কাজ করা হচ্ছে। তবে এই সফটওয়ারের ক্ষমতা কম। এটা দিয়ে কাজ শেষ করতে কমপক্ষে এক বছর লাগার কথা।
এনএফডিপিএলের একজন বিশ্লেষক জানান, এ ধরনের কাজে সাধারণত ডিজাস্টার ভিকটিম আইডেন্টিফিকেশন বা ডিভিআই নামে উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন একটি নতুন সফটওয়ার ব্যবহার করা হয়ে থাকে। যুক্তরাষ্ট্রের এফবিআই লাশ শনাক্তের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বিনামূল্যে এই সফটওয়্যার ডিএনএ ল্যাবকে দিতে রাজি হয়েছে। আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যে এই সফটওয়্যারটি হস্তান্তর ও স্থাপন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে পারে। সূত্র আরো জানান, বর্তমানে ডিএনএ’র প্রোফাইলের কাজ শেষ হয়েছে। এখন মেলানোর কাজ করা হবে। যুক্তরাষ্ট্র থেকে সফটওয়্যারটি এলেই সেই কাজ শুরু হবে।