ভোলা অন্ধকারে
আফসার উদ্দিন বাবুল, ভোলা দক্ষিণ প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১১ আগস্ট ২০১৩, ২২:৪২
রেন্টাল বিদ্যুত্ কেন্দ্র বিকল হওয়ার কারণে ঈদের পরদিন শনিবার রাত থেকে ভোলা জেলায় অনির্দিষ্টকালের জন্য বিদ্যুত্ সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে। এতে জেলার লাখো গ্রাহক ও পানিবন্দি মানুষ দুর্ভোগে পড়েছেন। স্থানীয় বিদ্যুত্ বিভাগ জানিয়েছে, গ্রিড লাইনের ৩৩ কে.ভি দুটি সোর্সের সাবমেরিন ক্যাবল বিপর্যয় ও রেন্টাল বিদ্যুত্ কেন্দ্র হঠাত্ করে বিকল হয়ে যাওয়ায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। কবে নাগাদ বিদ্যুত্ সরবরাহ স্বাভাবিক হবে তা বিদ্যুত্ বিভাগ নিশ্চিত করে বলতে পারছে না। ভোলার এমপি ও সাবেক মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ ইতিমধ্যে বিদ্যুত্ মন্ত্রী, সচিব, বিদ্যুত্ উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যানের সাথে সমস্যা সমাধানে কয়েক দফা যোগাযোগ করে ব্যবস্থা নেয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন। তবে গতকাল রবিবার রাত পর্যন্ত জেলায় বিদ্যুত্ ফিরে আসেনি।
এদিকে বিদ্যুত্ না থাকায় জেলায় পানি সরবরাহও প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে ঈদের সময় জেলার পানিবন্দি মানুষসহ ২০ লাখ মানুষের দুর্ভোগ এখন চরমে। চাপা ক্ষোপে ফুসছে মানুষ। শহরসহ কয়েকটি এলাকায় খণ্ড খণ্ড মিছিল করেছেন ভুক্তভোগীরা। জনরোষের কবল থেকে রক্ষার জন্য ভোলা পাওয়ার স্টেশন, রেন্টাল বিদ্যুত্ কেন্দ্র, চরফ্যাশন পাওয়ার স্টেশনে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
জানা গেছে, গত শনিবার সন্ধ্যায় হঠাত্ করে ৩৪.৫ রেন্টাল বিদ্যুত্ কেন্দ্রের জেনারেটরে ত্রুটি দেখা দেয়ায় ইঞ্জিনটি বিকল হয়ে পড়ে। ফলে সমগ্র ভোলা জেলা অন্ধকারে ডুবে যায়। জেলার পানি সরবরাহ ব্যবস্থ ভেঙ্গে পড়ে। বিশুদ্ধ পানির জন্য হাহাকার করছে লোকজন। ইলিশ মৌসুমে বিদ্যুতের অভাবে বেশিরভাগ বরফ কল ও ছোট ছোট কল কারখানা বন্ধ রয়েছে। বিদ্যুত্ কেন্দ্রটি মেরামতের জন্য ভারতের একজন বিশেষজ্ঞের সাথে যোগাযোগ করা হয়েছে বলে রেন্টাল বিদ্যুত্ কেন্দ্রের ম্যানেজার হাফিজুর রহমান জানান। আগামী মঙ্গলবারের মধ্যে ওই বিশেষজ্ঞ এলে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরে ক্ষতির বিষয়টি জানা যাবে। উল্লেখ্য, এর আগে গত ফেব্রুয়ারি মাসে রেন্টাল বিদ্যুত্ কেন্দ্রে এ রকম ত্রুটি হওয়ায় তা মেরামত করতে প্রায় দুই মাস সময় লেগেছিল।
ওয়েস্টজোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির (ওজোপাডিকো) আবাসিক প্রকৌশলী মো. আলী জানান, তেতুলিয়া ও কালাবাদর নদীর তলদেশ দিয়ে আনা সাবমেরিন ক্যাবল এক মাস যাবত্ বিকল। নদীর তলদেশে ভোলা-পটুয়াখালী লাইনের সাড়ে পাঁচ কিলোমিটার ও ভোলা-বরিশাল গ্রিড লাইনের ৭ কিমি সাবমেরিন ক্যাবল পুনঃস্থাপন করতে হবে। এ রির্পোট লেখা পর্যন্ত কোন মালামাল ভোলায় পৌঁছেনি। খুলনা খালিশপুরের বয়রা থেকে মালামাল আনার জন্য গতকাল লোক পাঠানো হয়েছে। দুই/এক দিনের মধ্যে মালামাল আসলেও ক্যাবলগুলো পুনঃস্থাপন করতে সপ্তাহ খানেক লাগতে পারে। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, ওজোপাডিকো ক্যাবলটি মেরামত অথবা পুনঃস্থাপনের ব্যবস্থা নেয় নাই। যার ফলে ভোলা-বরিশাল ও ভোলা-পটুয়াখালী ৩৩ কেভি গ্রিড লাইন দুটি এই দুঃসময়ে কোন কাজে আসছে না। এদিকে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য তোফায়েল আহমেদ এমপি জানান, ইতিমধ্যেই বিদ্যুত্ বিভাগকে পরিস্থিতি অবহিত করা হয়েছে। বিদ্যুত্ প্রতিমন্ত্রী, সচিব, বিদ্যুত্ উপদেষ্টার সাথে তিনি যোগাযোগ করছেন। বিদ্যুত্ বিভাগ যত দ্রুত সম্ভব ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছে। আগামী মঙ্গলবার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য বিদ্যুত্ মন্ত্রণালয়ের একটি উচ্চ পর্যায়ের টিম ভোলায় আসবে বলে তিনি জানান।