হাসিনা খালেদার মধ্যে সমঝোতার আভাস নেই
প্রকাশ : ১১ আগস্ট ২০১৩, ২২:৪৩
ব্রিটেনের প্রভাবশালী সাপ্তাহিক দ্য ইকোনমিস্ট বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিরোধী দলীয় নেত্রী খালেদা জিয়ার মধ্যে সমঝোতার ন্যূনতম আভাস নেই বলে মন্তব্য করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে এটা এক অপরিবর্তনীয় ঐতিহ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে যে, যখন কোনো দল ক্ষমতায় যায় তার বিরোধীদের যে কোনো দাবি-দাওয়াকে ভিত্তিহীন প্রতিপন্ন করে। বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিভিন্ন ইস্যুর প্রাধান্য থাকলেও শেষ বিচারে তা দিশাহীন হয়ে পড়ে। সমপ্রতি পত্রিকাটির অনলাইনে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়।
‘দ্য ব্যাটেলিং বেগমস’ শিরোনামের নিবন্ধটিতে বলা হয়, ঈদুল ফিতরের আগে বাংলাদেশের প্রধান দুই নেত্রী শুভেচ্ছাসূচক ঈদকার্ড বিনিময় করেছেন। তবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিরোধী দল বিএনপির নেত্রী খালেদা জিয়ার মধ্যে দৃশ্যত শান্তির ন্যূনতম আভাস নেই। বাংলাদেশের রাজনৈতিক অবস্থা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে সাপ্তাহিকটি এদেশে অবস্থানকারী বিদেশি কূটনীতিকদের উদ্ধৃত করেছে। পত্রিকার প্রতিবেদনে বলা হয়, একজন ইউরোপীয় কূটনীতিক বলেছেন, তিনি তার (দেশের) রাজধানীতে দুটি তারবার্তা পাঠিয়েছেন। প্রথম চিঠিতে তিনি আগামী জানুয়ারিতে অনুষ্ঠেয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগের পরাজয়ের ক্রমবর্ধমান সম্ভাবনার কথা আলোচনা করেছেন। দ্বিতীয়টিতে উত্তরাধিকার নির্ধারণ নিয়ে লড়াইরত দুই বেগমের পরিকল্পনার কথা আলোচনা করেছেন। জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন আদালত কর্তৃক অবৈধ ঘাষিত হওয়ায় নির্বাচনে দলটির অংশগ্রহণ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। ইকোনমিস্ট লিখেছে, নির্বাচনের মাত্র কয়েক মাস আগে দেয়া আদালতের এই রায় আসন্ন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের জয়ের দিকে নিয়ে গেলেও বাংলাদেশের অনেক মানুষের মধ্যে দলটির পুনর্নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে সন্দেহ দেখা দিয়েছে। এ সন্দেহ শুধু এ কারণে নয় যে বাংলাদেশে একই দলের পরপর দুবার ক্ষমতা গ্রহণের নজির নেই। বরং যুদ্ধাপরাধের বিচার করতে গিয়ে দলটি বিরোধীদের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে।
এ জন্য পত্রিকাটি জামায়াতের পাশাপাশি হেফাজতে ইসলামের উপস্থিতিকে প্রাধান্য দিয়েছে। পত্রিকাটি লিখেছে, হেফাজতে ইসলাম দ্বিতীয় বার ঢাকায় সমাবেশ করার সময় তাদের অন্তত ৫০ জন সমর্থক নিরাপত্তাকর্মীদের হাতে নিহত হন। সারা দেশে সরকারের জনপ্রিয়তার ওপর এর ধ্বংসাত্মক প্রভাব পড়ে। এর সুফল যায় বিএনপির ঘরে। গত জুন ও জুলাইয়ে অনুষ্ঠিত সিটি করপোরেশনের মেয়র নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ভরাডুবি হয়।
পত্রিকাটির প্রতিবেদনে বলা হয়, এ অবস্থার পরিবর্তন ঘটাতে সরকার পোশাককর্মীদের বেতন-ভাতা বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে। গত মে মাসে রানা প্লাজা দুর্ঘটনায় ১১০০ লোক নিহত হওয়ার পর শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হওয়ায় সরকারের ওপর এই খাতের শ্রমিকরা ক্ষুব্ধ হয়। বেতন বাড়ানোয় অনেক ভোটারের মধ্যে প্রণোদনা আসবে, যদিও কারখানার মালিকেরা সরকারের এই উদ্যোগের বিরোধিতা করবে বলেও মনে হচ্ছে।
এছাড়া রাজনৈতিক ময়দানে শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদকে উপস্থিত করানোকেও অন্যতম কৌশল বলে বর্ণনা করে পত্রিকাটি। বাংলাদেশের উত্তরাধিকারভিত্তিক রাজনীতিতে সজীবের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে তারেক রহমানকে উল্লেখ করেছে পত্রিকাটি। যদিও তারেক এখন দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের জন্য বিচারাধীন, তবুও সজীবকে মোকাবিলায় তিনি যে যে কোনো সময় লন্ডন থেকে বাংলাদেশে আসতে পারেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমান সরকার তত্ত্বাবধায়ক সরকার ইস্যুতে একমত না হলে এবং এরপরও তারেক বাংলাদেশে ফিরে আসলে হয়তো তাকে কারাগারে যেতে হবে। তবে আওয়ামী লীগের ওই সিদ্ধান্ত সাংবিধানিক সংকট তৈরি করতে পারে।
সামনের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মরিয়া হয়ে লড়বে। তবে নির্বাচনে হেরে গেলে বিএনপি তার মিত্র জামায়াতকে পুনর্বাসিত করবে।