ট্রাইব্যুনালের ফাঁসির রায়ের বিরুদ্ধে মুজাহিদের আপিল
প্রকাশ : ১১ আগস্ট ২০১৩, ২২:৪৩
যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের ফাঁসির রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেছেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ। সুপ্রিম কোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় গতকাল রবিবার এ আপিল দায়ের করা হয়। আপিলে ট্রাইব্যুনালের রায় বাতিল করে মুজাহিদকে বেকসুর খালাস দেয়ার আবেদন জানানো হয়েছে। ৯৫ পৃষ্ঠার আপিলে ১১৫ টি যুক্তি তুলে ধরার পাশাপাশি নথিপত্র দাখিল করা হয়েছে প্রায় ৪ হাজার পৃষ্ঠার।
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে বুদ্ধিজীবী হত্যার পরিকল্পনা ও সহযোগিতা করার দায়ে গত ১৭ জুলাই যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ মুজাহিদকে মৃত্যুদণ্ড দেয়। তার বিরুদ্ধে আনীত মানবতাবিরোধী ৭টি অভিযোগের মধ্যে রাষ্ট্রপক্ষ ৫টি অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়। বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার ২৫ দিন পর এ আপিল করা হলো। মুজাহিদের পক্ষে অ্যাডভোকেট অন রেকর্ড জয়নুল আবেদিন তুহিন গতকাল এ আপিল দায়ের করেন।
আপিল দায়েরের পর মুজাহিদের অন্যতম আইনজীবী অ্যাডভোকেট এম তাজুল ইসলাম ইত্তেফাককে বলেন, প্রথম অভিযোগে মুজাহিদের বিরুদ্ধে সাংবাদিক সিরাজুদ্দীন হোসেন অপহরণ ও হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। অথচ এই অভিযোগের সাক্ষী সিরাজুদ্দীন হোসেনের ছেলে নিজেই স্বীকার করেছেন, তিনি ১৯৭২ সালে রমনা থানায় দালাল আইনে একটি মামলা করেছিলেন। ওই মামলায় তিনি সাক্ষ্যও দিয়েছিলেন। এই মামলায় আসামি জনৈক খলিল স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছিল এবং বিচারে তাদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়। তারপরও ট্রাইব্যুনাল মুজাহিদকে এই অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করেছেন । আইনের দৃষ্টিতে এটা সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য। এজন্য আমরা মৃত্যুদণ্ডের রায় বাতিল চেয়ে তাকে খালাস দেয়ার আর্জি জানিয়েছি।
তিনি বলেন, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জেরায় পরিষ্কারভাবে স্বীকার করেছেন যে, স্বাধীনতার পর থেকে আজ পর্যন্ত মুজাহিদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের ৬৫টি জেলার কোন থানায় ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে সংঘটিত কোন অপরাধের জন্য কোন মামলা হয়েছে, এমন তথ্য তিনি তার তদন্তে পাননি। তদন্তকারী কর্মকর্তা এটাও স্বীকার করেছেন যে, মুজাহিদ আল বদর, শান্তি কমিটি, রাজাকার, আলশামস বা এই ধরনের কোন সহযোগী বাহিনীর সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন, এমন কোন তথ্য তিনি তার তদন্তকালে পাননি। তারপরও ট্রাইব্যুনাল তাকে আলবদর বাহিনীর কমান্ডার হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। আমরা মনে করি মুজাহিদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগে গণহত্যা ও মানবতা বিরোধী অপরাধের কোন উপাদান নেই। আইনের দৃষ্টিতে ট্রাইব্যুনালের এ রায় কোন রায়ই নয়। আপিলে সর্বোচ্চ আদালতে আমরা ন্যায়বিচার পাব বলে আশা করি।