মঙ্গলের অধিবাসী হওয়ার আগ্রহ এক লাখ মানুষের
প্রকাশ : ১১ আগস্ট ২০১৩, ২২:৪৫
মঙ্গল গ্রহে বসতি গড়ার অভিযানে যোগ দিতে এক লাখের বেশি আবেদন জমা পড়েছে। যদিও আয়োজকরা জানিয়েছেন, যারা সেই গ্রহ যাবে তাদের প্রিয় এই পৃথিবীতে যে আর কখনো ফেরা হবে না। খবর এনডিটিভির।
গত বছর মঙ্গলে বসতি গড়ার ঘোষণা দিয়ে আলোচনায় আসে নেদারল্যান্ডস ভিত্তিক ‘মার্স ওয়ান’ নামের বেসরকারি মহাকাশ গবেষণা প্রতিষ্ঠানটি। যে পরিকল্পনা তারা সাজিয়েছে তাতে আবেদনকারীদের মধ্যে থেকে চল্লিশজনকে বেছে নেয়া হবে এবং ২০২৩ সালে চার নভোচারীর প্রথম দলটি মঙ্গলে যাবে। এরপর প্রতি দুই বছর পরপর নতুন অভিযাত্রীরা যোগ দেবেন তাদের সঙ্গে। ওয়ানওয়ে টিকেটে মঙ্গলে গমনকারীদের আর কোনোদিনই পৃথিবীতে ফেরা হবে না। বরং মহাকাশে মানুষের বসতি ছড়িয়ে দিতে লাল গ্রহ মঙ্গলে তাদের গড়তে হবে এক নতুন পৃথিবী। মঙ্গলে বেঁচে থাকার মতো উপযুক্ত পরিবেশও তাদেরই তৈরি করে নিতে হবে।
এ অভিযানে অংশ নিতে আবেদন করতে পারছে প্রাপ্তবয়স্ক অর্থাত্ ১৮ বা তার বেশি বয়সী এবং শারীরিকভাবে সক্ষম যে কেউ। তবে এজন্য নিজের দেশের মাথাপিছু আয়ের ভিত্তিতে পাঁচ থেকে ৭৫ ডলার ফি দিতে হয়েছে আবেদনকারীদের। ২০১৫ সালের জুলাইয়ে আবেদনকারীদের মধ্য থেকে প্রাথমিক বাছাইয়ের মাধ্যমে চার জন করে মোট ছয়টি দল গঠন করা হবে। এরপর মঙ্গল অভিযানের উপযুক্ত করে তুলতে ৮ বছর ধরে প্রশিক্ষণ দেয়া হবে তাদের।
মার্স ওয়ানের পরিকল্পনা অনুযায়ী মঙ্গল মিশন সফল করতে ২০১৪ সালে একটি যোগাযোগ উপগ্রহ পাঠানো হবে মঙ্গলের কক্ষপথে। ২০১৮ সালে রোবট পাঠিয়ে বসবাসের উপযুক্ত স্থান নির্ধারণ করা হবে। এরই মধ্যে খাবার, রসদ আর জীবনরক্ষাকারী সরঞ্জাম নিয়ে উড়ে যাবে একাধিক নভোযান। মঙ্গলের বুকে প্রথম বসতিস্থাপনকারীদের জন্য শক্তির যোগান দিতে সৌর প্যানেল বসানো এবং গ্রহের পরিবেশকে কাজে লাগিয়ে পানি ও অক্সিজেন তৈরির আয়োজনও সেরে ফেলা হবে। সব ঠিক থাকলে চারজন নভোচারী মঙ্গলের উদ্দেশ্যে যাত্রা করবেন ২০২২ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর। প্রায় ১০ মাস পর তারা পা রাখবেন মঙ্গলের মাটিতে।