জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে উদ্ধারকর্মী ইউসুফ
প্রকাশ : ১১ আগস্ট ২০১৩, ২২:৪৫
রানা প্লাজা দুর্ঘটনায় হতাহতদের উদ্ধার করতে গিয়ে ইউসুফ আলী (৪৩) এখন জীবন মৃত্যুর সঙ্গে সিআরপিতে লড়াই করছেন। তার অবস্থা আশংকাজনক বলে চিকিত্সকরা জানিয়েছেন। জীবন বাজি রেখে সেনাবাহিনী, ফায়ার সার্ভিসসহ অন্যান্য সংস্থার উদ্ধারকারী কর্মীদের সঙ্গে ইউসুফ আলীও উদ্ধার কাজে অংশগ্রহণ করেন। ঘটনার দিন ৫ জনকে ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার করেন ইউসুফ আলী। এরপর তিন তলা থেকে একজনকে উদ্ধার করতে গেলে হঠাত্ একটি ভিম তার ওপর এসে পড়ে। তার ঘাঢ়ের হাড় ও মেরুদণ্ড ভেঙে যায়। তাকে ঐ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। ঢাকায় তার চিকিত্সাসেবা ও অস্ত্রোপচার হয়েছে। তার শরীর অবশ হয়ে গেছে। শরীরের ৯টি স্থানে ঘা হয়ে গেছে এবং এসব ঘা থেকে পুজ পড়ছে। চিকিত্সকরা বলেছেন অবস্থা আশংকাজনক ছিল। সিআরপিতে চিকিত্সাসেবা দেয়ার পর কিছুটা উন্নতি হয়েছে। তবে তার অবস্থা এখনো আশংকামুক্ত নয়। তার সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা কম বলে চিকিত্সকরা জানিয়েছেন।
দুঃখজনক হলেও সত্য ইউসুফ আলী ধ্বংসস্তূপ থেকে হতাহতের উদ্ধারে গিয়ে জীবন হারাতে যাচ্ছেন। অথচ তার চিকিত্সাসেবা কিংবা সাহায্য-সহযোগিতায় কেউ এগিয়ে আসেনি। তিনি সরকারি ও বেসরকারিভাবে অনুদান পাননি বলে জানান। ২ মাস ১৫ দিন রাজধানীর এ্যাপোলো হাসপাতালে চিকিত্সাসেবা দেয়া হয়েছিল। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিনামূল্যে তার চিকিত্সা করেছেন। সেখান থেকে তাকে সাভার সিআরপিতে স্থানান্তর করা হয়।
ইউসুফ আলী রাজবাড়ী জেলার মৌলদিয়া এলাকার বাসিন্দা। কৃষি কাজের পাশাপাশি ছোটখাটো ব্যবসা করে সংসার চালাতেন। ২ ছেলে ও ১ মেয়ে নিয়ে ছিল তার সুখের সংসার। এখন তার পরিবার অভাব-অনটনের মধ্যে এক দুর্বিষহ অবস্থা। স্ত্রী ঝরনা শুধু চোখের পানি ছাড়ছেন। আর বলছেন, আমাদের কি হবে? তার স্বামীর পাশে কেউ একবার এসে দাঁড়ালো না। ঘটনার আগেরদিন ইউসুফ আলী সাভার রাজ্জাক প্লাজা গার্মেন্টস শ্রমিক ভাগ্নে উজ্জলের বাসায় বেড়াতে আসেন। রানা প্লাজা দুর্ঘটনার সংবাদ পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। শুরু করেন উদ্ধার কাজ।