আমতলীতে কলেজ অধ্যক্ষের কক্ষে তালা

আমতলীতে বকুল নেছা মহিলা ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ মো. ফোরকান মিয়ার বিরুদ্ধে বিভিন্ন দুর্নীতি, অনিয়ম, চেক জালিয়াতি ও ছাত্রীদের উপবৃত্তির টাকা আত্মসাত্সহ অনৈতিক কাজের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগ এনে ওই কলেজের শিক্ষক-কর্মচারীরা অপসারণের দাবিতে রবিবার অধ্যক্ষের কক্ষে তাল ঝুলিয়ে দিয়েছেন এবং কলেজ পরিচালনা পরিষদের সভাপতি ও এমপির নিকট লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন। ফোরকান মিয়া আমতলী বকুল নেছা মহিলা ডিগ্রী কলেজে ২০১০ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে যোগদানের পর থেকে বিভিন্ন রকমের দুর্নীতি ও অনিয়ম করে আসছেন। তিনি ২০১৩ সালের ১২০ জন উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের নিকট থেকে কেন্দ্র ফি বাবদ এক হাজার টাকা করে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা আদায় করে আত্মসাত্ করেন। এছাড়া ঐবছর উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের নিকট থেকে বিনা রশিদে অতিরিক্ত টাকা আদায় করে তাও আত্মসাত্ করেন। ২০১২ সালে সানজিদা নামে একজন উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীর নিকট থেকে ফরম পূরণের টাকা নিয়ে ফরম পূরণ না করে সম্পূর্ণ টাকা আত্মসাত্ করেন। এজন্য ওই পরীক্ষার্থীর বাবা অধ্যক্ষকে লাঞ্ছিত করেন। এছাড়া অধ্যক্ষ মো. ফোরকান মিয়া ২০১২ সালে ৬ জন ছাত্রীর উপবৃত্তির ৯ হাজার ৯শ’ টাকা ব্যাংক থেকে তুলে আত্মসাত্ করেন। অধ্যক্ষ ২০১১ ও ২০১২ সালে আমতলী অগ্রণী ব্যাংক ও সোনালী ব্যাংকের শাখা থেকে কলেজ পরিচালনা পরিষদের সভাপতি জিএম দেলোয়ার হোসেনের স্বাক্ষর জাল করে ২ লাখ ২২ হাজার ৩শ’ টাকা উত্তোলন করে আত্মসাত্ করেছেন। তার প্রথম স্ত্রী থাকা সত্ত্বেও কলেজের এক ছাত্রীর সাথে অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তোলেন। পরবর্তীতে তাকে বিয়ে করতে বাধ্য হন। এভাবে তিনি অনেক ছাত্রীর সম্ভ্রম নষ্ট করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বকুল নেছা মহিলা ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষের এসকল অভিযোগ সম্পর্কে শিক্ষক সমিতির সম্পাদক বশির আহম্মেদ বলেন, অধ্যক্ষ ফোরকান মিয়া দীর্ঘদিন যাবত্ কলেজে অনৈতিক কাজ করে আসছেন। এ ব্যাপারে কলেজের সহকারী অধ্যাপক মোঃ মজিবুর রহমান অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে ২০টি অভিযোগ এনে কলেজ সভাপতি ও জাতীয় সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট ধীরেন্দ্র চন্দ্র দেবনাথ শম্ভুর কাছে অধ্যক্ষের অপসারণের দাবিতে আবেদন করেছেন। অধ্যক্ষ মো. ফোরকান মিয়ার নিকট তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি জানান, ১৮ আগষ্ট পর্যন্ত কলেজ বন্ধ। কলেজে কে বা কারা তালা লাগিয়েছে আমার জানা নেই। কলেজ পরিচালনা পরিষদের সভাপতি জিএম দেলোয়ার হোসেন বলেন- অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত চলছে। প্রমাণিত হলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।