যুক্তরাষ্ট্র ইইউ ও হিউম্যান রাইটস ওয়াচের উদ্বেগ
প্রকাশ : ১২ আগস্ট ২০১৩, ২২:৪৪
মানবাধিকার সংগঠন অধিকার-এর সেক্রেটারি আদিলুর রহমান খান শুভ্রকে গ্রেফতারে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)। তারা আদিলুর রহমান খানের মুক্তি দাবি করেছে। বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের মুখপাত্র বলেছেন, আমরা আদিলের গ্রেফতারের ব্যাপারে বাংলাদেশ সরকারের কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছি। অধিকার ও অন্যান্য মানবাধিকার সংগঠনের কার্যক্রম যেখানে ব্যাপকভাবে প্রশংসিত, সেখানে অধিকারের সম্পাদকের গ্রেফতারের ঘটনা নেতিবাচকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। মুখপাত্র আরো বলেন, আমরা অবিলম্বে আদিলকে মুক্তি দেয়ার অনুরোধ জানাই। কিন্তু সরকার বিচারিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে তার বিরুদ্ধে আইনগত ইস্যু দাঁড় করানোর চেষ্টা চালাচ্ছে। অধিকারের মতো সংগঠনগুলো যাতে নির্বিঘ্নে ও স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে সেজন্য পরিবেশ সৃষ্টি করা সরকারের দায়িত্ব বলে মুখপাত্র মন্তব্য করেন।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) এক বিবৃতিতে আদিলুর রহমান খানের গ্রেফতারে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। গ্রেফতারের পর থেকে তার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার বিষয়টি ইইউ ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। বিবৃতিতে বলা হয়, সার্বজনীন মানবাধিকার ঘোষণাপত্রে এবং বাংলাদেশ ও ইইউ-এর নীতিতে মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধা ও গণতান্ত্রিক রীতিসমূহ বিবৃত আছে। বাংলাদেশ ও ইইউ-এর মধ্যে সম্পাদিত উন্নয়ন ও অংশীদারিত্বমূলক সহযোগিতা চুক্তিতে মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধা ও গণতান্ত্রিক রীতি-নীতির প্রতি গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। বাংলাদেশে মানবাধিকার লংঘনের ক্ষেত্রে অধিকার ও আদিলুর রহমানের কার্যক্রম সম্পর্কে আমরা পরিচিত। এটাকে বাংলাদেশে মানবাধিকার উন্নয়নের জন্য আমরা সক্রিয় উদ্যোগ হিসাবে মনে করি। আদিলের আটকাদেশের ব্যাপারে আমাদের গভীর উদ্বেগের কথা সরকারকে বিস্তারিতভাবে জানিয়েছি। তার কোন ক্ষতি না হওয়াটা জরুরি। সকল পর্যায়ে আইনের উপযুক্ত ব্যবহার করতে হবে এবং মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে। বাংলাদেশে নরওয়ে ও সুইজারল্যান্ড দূতাবাস ইইউ-এর বিবৃতির সঙ্গে একমত পোষণ করেছে।
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ গতকাল এক বিবৃতিতে আদিলের মুক্তির ব্যাপারে দাতাসংস্থাগুলোকে চাপ প্রদানের এবং মানবাধিকার কর্মী ও সংশ্লিষ্টদের সোচ্চার হওয়ার আহবান জানিয়েছে। সংস্থাটির এশিয়া অঞ্চলের পরিচালক ব্র্যাড এডামস বিবৃতিতে বলেন, রাজনৈতিক কারণে আদিল বেশ আগেই গ্রেফতারের আশঙ্কা করেছিলেন। ঝুঁকি সত্ত্বেও তিনি দেশে থেকেই কাজ করে যাচ্ছিলেন। আদিলের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আইনজীবী নিয়োগ করতে হবে। জাতীয় নির্বাচনের আগে সরকারের বিরুদ্ধে সোচ্চার এক সমালোচকের মুখ বন্ধ করতেই আদিলকে গ্রেফতার করা হয় বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। আদিল কর্তৃপক্ষের নির্যাতন দুর্ব্যবহারের ঝুঁকিতে আছেন। তার উপর যাতে কোন নির্যাতন না হয় সেজন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিশ্চিত করা উচিত।