শোকাবহ আগস্ট
প্রকাশ : ১২ আগস্ট ২০১৩, ২২:৪৭
শোকাবহ আগস্টের ১৩তম দিন আজ। ১৯৭৫ সালের আগস্ট মাসের এই দিনে রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সিদ্ধান্ত নেন যে, ১৫ আগস্ট তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পরিদর্শন করবেন। বিশ্ববিদ্যালয় আচার্য হিসাবে ওইদিন ক্যাম্পাসে বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রম পরিদর্শন এবং ছাত্র-শিক্ষক-কর্মচারীদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখার কথা ছিল তার। রাষ্ট্রপতিকে সংবর্ধনা দিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সেজেছিল বর্ণিল সাজে, বিরাজ করছিল উত্সবমুখর পরিবেশ। কিন্তু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়ার আগেই ১৫ আগস্ট প্রত্যুষে স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতিকে সপরিবারে নির্মমভাবে হত্যা করে একদল বিপথগামী সেনা সদস্য।
বঙ্গবন্ধু প্রতিদিন সকাল ৯টায় অফিসে যেতেন। সারাদিন কাটতো অফিসে। বাসায় ফিরতেন রাত ৯টায়। ১৯৭৫ সালের ১৪ আগস্ট তিনি একটু সকাল সকাল বাসায় ফিরেন। যুগ্ম সচিব ফরাস উদ্দিন আহমেদ ও মনোয়ারুল ইসলাম পিএইচডি করতে বিদেশ যাবেন। গণভবনে তাদের ফেয়ারওয়েল ডিনারের আয়োজন করা হয়েছিল। রাত ১০টায় তোফায়েল আহমেদ বঙ্গবন্ধুর প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা মহিউদ্দিন আহমেদকে সঙ্গে নিয়ে ৩২ নম্বরের বাসায় যান। পরদিন বঙ্গবন্ধুকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে সংবর্ধনা দেয়া হবে। বিশ্ববিদ্যালয় জুড়ে উত্সবের আয়োজন চলছে। বঙ্গবন্ধু তোফায়েল আহমেদকে নিয়ে আলোচনায় বসেন। বঙ্গবন্ধু বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আমাকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। আজ আমি দেশের প্রেসিডেন্ট। সে বিশ্ববিদ্যালয় আমাকে সংবর্ধনা দিচ্ছে। জীবনে এরচেয়ে বড় পাওয়া আর কি হতে পারে’।
বঙ্গবন্ধু গোপনে দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের সাহায্য করতেন নিজস্ব তহবিল থেকে। এ তহবিল থাকতো তোফায়েল আহমেদের হাতে। তখনকার এসবির ডিআইজি ইএ চৌধুরীর মাধ্যমে সাহায্যের টাকা নেতাদের বাড়িতে পৌঁছে দেয়া হতো। মাস শেষে কাকে কাকে সাহায্য করা হয়েছে তা শুনতেন বঙ্গবন্ধু। একদিন তালিকায় দেশের দুইজন প্রথিতযশা রাজনৈতিক নেতার নাম দেখা যায়। এতে বঙ্গবন্ধু ক্ষুব্ধ হয়ে ধমক দিয়ে বলেন, এভাবে লিখবি না। কেউ জানতে পারলে উনারা অসম্মানিত হবেন। তাদের সাংকেতিক নাম লিখে রাখার পরামর্শ দেন তিনি। মুক্তিযুদ্ধে আহত মেজর শরিফুল হক ডালিম ও শমশের মবিন চৌধুরীকে বিদেশে উন্নত চিকিত্সার জন্য পাঠিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু। সেই বিশ্বাসঘাতক ও অকৃতজ্ঞ মেজর ডালিম বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে।
১৯৭৫ সালের ১৪ আগস্ট বৃহস্পতিবার বিকাল বেলা। বঙ্গবন্ধু প্রতিদিনের মত গণভবন সংলগ্ন অফিসের লনে পায়চারি করছেন। এ সময় তার সঙ্গে দেখা করতে যান সাংবাদিক এবিএম মূসা (বর্তমানে দেশের প্রবীণ সাংবাদিকদের অন্যতম)। বঙ্গবন্ধুর সাথে ছিলেন তার রাজনৈতিক সচিব তোফায়েল আহমেদ। আলাপচারিতার এক ফাঁকে মনের অজান্তে বঙ্গবন্ধু বলে ফেলেন, তার অবস্থা চিলির প্রেসিডেন্ট সালভাদর আলেন্দের মত হতে পারে। প্রেসিডেন্ট আলেন্দেকে ষড়যন্ত্র করে হত্যা করা হয়েছিল। এবিএম মূসা বিদেশ যাওয়ার জন্য বঙ্গবন্ধুর কাছে গিয়েছিলেন। তিনি এবিএম মূসাকে রসিকতা করে বলেন, ‘ভয় পেয়ে গেছিস। সেজন্য বিদেশে পালাচ্ছিস’। নিয়তির নির্মম পরিহাস এ আলাপচারিতার কয়েক ঘন্টা পরেই ষড়যন্ত্রকারীরা জাতির পিতাকে হত্যা করে।