মোজাহেদুল ইসলাম ঢেউ
ব্যবহারকারীদের জন্য নিরাপদ নয় জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের মেসেজিং অ্যাপ ‘হোয়াটসঅ্যাপ’ও। ইতোমধ্যে অনেক ব্যবহারকারী হ্যাকারদের কবলে পড়েছেন। হ্যাকারদের এ আক্রমণের কথা জানিয়ে ব্যবহারকারীদের সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে হোয়াটসঅ্যাপের স্বত্বাধিকারী প্রতিষ্ঠান ফেসবুক কর্তৃপক্ষ। এর আগে ইমো, ভাইবার, ফেসবুকের ম্যাসেঞ্জারের মতো অ্যাপগুলোর নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
ফিন্যান্সিয়াল টাইমের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হোয়াটসঅ্যাপে আক্রমণের এই প্রযুক্তিটি তৈরি করেছে ইসরাইলি নিরাপত্তা বিষয়ক সংস্থা এনএসও গ্রুপ। এ বিষয়ে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ বলেছে, হ্যাকাররা মেসেজিং অ্যাপটির একটি গুরুত্বপূর্ণ ত্রুটি খুঁজে পেয়েছে। সেই ত্রুটি ব্যবহার করে হ্যাকাররা দূর থেকে কিছু মোবাইল ফোনে বিশেষ নজরদারি সফটওয়্যার ইন্সটল করেছে। নির্দিষ্ট কিছু মোবাইল ফোনের হোয়াটসঅ্যাপকেই টার্গেট করা হয়েছিল বলেও জানায় প্রতিষ্ঠানটি।
আরো নতুন সম্ভাব্য আক্রমণ প্রতিহত করতে এর একটি সমাধান ইতিমধ্যে ব্যবহারকারীদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। হোয়াটসঅ্যাপের দেড়শ কোটি ব্যবহারকারীদের সাবধানতার জন্য দ্রুত অ্যাপটি আপডেট করে নিতে বলা হয়েছে। ফেসবুক কর্তৃপক্ষ আরো জানায়, আক্রমণকারী হ্যাকাররা ‘খুব দক্ষ এবং অগ্রসর’ একটি গোষ্ঠী।
যেভাবে হ্যাকাররা ত্রুটির সুবিধা নিয়েছে
চলতি মাসের শুরুতেই এই ত্রুটি ও আক্রমণ সম্পর্কে জানতে পেরেছে হোয়াটসঅ্যাপ। হ্যাকাররা এক্ষেত্রে হোয়াটসঅ্যাপের ভয়েস কল অপশন ব্যবহার করেছে। মোবাইল ডিভাইসে ভয়েস কলের রিং বাজার পর সেটি যদি কেউ রিসিভ না করে তবুও নজরদারি সফটওয়্যারটি তারা ইন্সটল করতে সক্ষম হয়। এমনকি অ্যাপটির ভয়েস কলের তালিকা থেকে কলটির ইতিহাস পর্যন্ত মুছে দিতে পারে তারা। এ বিষয়ে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ বিবিসিকে জানায়, তাদের নিরাপত্তা বিষয়ক কর্মীরা প্রথম এই আক্রমণের বিষয়টি শনাক্ত করে এবং তার পরপরই বিষয়টি নিয়ে মার্কিন বিচার বিভাগ, কিছু নির্দিষ্ট নিরাপত্তা সংস্থা ও মানবাধিকার সংস্থাকে এই আক্রমণ সম্পর্কে অবহিত করে।
সংস্থাটি সাংবাদিকদের দেওয়া একটি লিখিত বক্তব্যে জানিয়েছে, এটি যে কোনো সরকারের সঙ্গে কাজ করা বেসরকারি কোম্পানির কাজ, তা বোঝার মতো স্পষ্ট লক্ষণ রয়েছে এই আক্রমণে। যাদের কাজ ছিল স্পাইওয়্যার বসিয়ে দূর থেকে মোবাইল ফোনের অপারেটিং সিস্টেমের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া।