ঈদের ছুটিতে নগর ছাড়িয়ে
প্রকাশ : ১২ আগস্ট ২০১৩, ২২:৫৬
ব্যস্ত নগরজীবনের বাইরে একটু বিনোদন আর প্রকৃতির কাছে যেতে মানুষ ক্রমেই ঈদের ছুটিতে ঢাকার বাইরে পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে ভিড় করছেন। গত শনিবার বগুড়ার মহাস্থানগড় ঘুরে দর্শনার্থীদের বেশ ভিড় দেখা যায়। ঢাকা থেকে বেশকিছু পরিবার মিলে, আবার কোন কোন পরিবার এককভাবে এই ঐতিহ্যবাহী স্থান দর্শনে আসে। দর্শনার্থীরা জানান, পরিবারের সাথে এমনস্থান দর্শন যেমন আনন্দদায়ক তেমন কোলাহলময় জীবনের বাইরে প্রকৃতির কাছে নির্মল এক বিনোদনের জন্য এই সময়টা ঈদের আমেজে অন্যমাত্রা যোগ করে। সংশ্লিষ্টরা জানান, ঈদের ছুটিতে একদিন বেড়াতে আসা পর্যটকদের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। আগে শুধু কক্সবাজারকেন্দ্রিক ঈদের এই বেড়ানো থাকলেও এখন তা মহাস্থানগড়সহ, কুমিল্লা, সিলেট, বান্দরবান, রাঙামাটি প্রভৃতি স্থানে ছড়িয়ে পড়ছে।
মহাস্থানগড়ে একদিন
বন্ধু-বান্ধবের পরিবার নিয়ে মহাস্থানগড়ে ঘুরতে আসা মগবাজারের বাসিন্দা রিয়াজ আহমেদ জানান, তিনি বরাবরই এই ছুটিতে পরিবার, বন্ধু-বান্ধবকে নিয়ে বেরিয়ে পড়েন। গতবার গিয়েছিলেন নাটোরে, বাচ্চারা বেশ আনন্দ উপভোগ করেছে। ওদের জীবনটা প্রকৃতি থেকে অনেক দূরে। তাই ঈদের ছুটিতে বাচ্চাদের দেশের ঐতিহ্যবাহী স্থান আর একটু প্রকৃতির সাথে পরিচয় করিয়ে দিতে চান। তার সাথে আসা সাজিদ হোসেন বললেন, স্ত্রী স্বর্ণা আর ছেলে বৃত্তের ঈদের অন্যতম আকর্ষণ ঈদের পরেরদিন ঢাকার বাইরে আসা। আমি ওদের এই আনন্দ থেকে বঞ্চিত করতে চাই না। পাশাপাশি একঘেঁয়ে জীবনের বাইরে ঈদের সময়টা একটু খোলা বাতাসে নিঃশ্বাস নেয়া আমার জন্যও উপভোগ্য। রাজশাহী বিভাগের আঞ্চলিক প্রত্নতত্ত্ব পরিচালক বদরুল আলম বলেন, ঈদে একদিনের টুরে এখন অনেকের উপভোগ্য বিষয় যখন হয়ে উঠছে এই নির্দশনগুলো। আগে এইসময় সরকারি ছুটি থাকলেও এখন দর্শনার্থীদের আগ্রহের জন্যই ঈদের পর দিন খোলা থাকে মহাস্থানগড়ের নিদর্শনগুলো। তিনি বলেন, বিশেষ এইসময়ে দর্শনার্থীদের আকর্ষণের জন্যই ২০১১ সাল থেকে এখানে ১০ টাকা দর্শনীর ব্যবস্থা করা হয়, যা আগে বিনা পয়সায় দেখা যেত। মহাস্থান জাদুঘর কাষ্টোডিয়ান সাদিকুজ্জামান জানান, ঈদের পরের দিন তাদের প্রায় সাত হাজার দর্শনার্থী ছিল।
চা বাগান দেখতে :ঈদে একদিনের টুরে দর্শনার্থীদের জন্য অন্যতম আকর্ষণ সিলেটের চা বাগান। আমাদের সিলেট প্রতিনিধি হুমায়ূন রশিদ চৌধুরী জানান, শহরের অদূরে এয়ারপোর্ট রোডে লাক্কাতুরা চা বাগান, মৌলভীবাজার, শ্রীমঙ্গল, জাফলং প্রভৃতি চাবাগানে একদিনের দর্শনার্থীদের ভিড় থাকে। সিলেটের মাধবকুন্ড ও হামহাম জলপ্রপাত, টাঙ্গুয়ার বিল ও হাকালুকি হাওরেও এই সময়টা লোক সমাগম বেশি থাকে। আবার ঈদের ছুটিতে সিলেটে হযরত শাহজালাল ও শাহপরাণের মাজার শরিফ দর্শনে আসেন অনেকে। এই সময় প্রতিদিন ৬ থেকে ৮ হাজার দর্শনার্থী এই সকল স্থান পরিদর্শন করেন। তবে এবার হরতালের কারণে দর্শনার্থী কিছু কম বলে জানান আমাদের সিলেট প্রতিনিধি।
কুমিল্লার নিদর্শন :ঈদের ছুটিতে একদিনে ঘুরে যেতে জেলার লালমাই পাহাড়, কোটবাড়িতে বার্ড, ময়নামতি বৌদ্ধ বিহার, চন্ডিমুড়া মন্দিরকে বেছে নেন দর্শনার্থীরা। আমাদের কুমিল্লা প্রতিনিধি মো. লুত্ফুর রহমান জানান, ঈদের কয়েকদিনের মধ্যে ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলা থেকে হাজার হাজার দর্শনার্থী কুমিল্লা জেলার প্রাচীন স্থাপত্য নিদর্শন ও দৃষ্টিনন্দন স্থাপনা দেখতে ভিড় করেন।
কক্সবাজারে পর্যটকদের ঢল :কক্সবাজার প্রতিনিধি আহমদ গিয়াস জানান, ঈদুল ফিতরের ছুটিতে দেশের পর্যটন রাজধানী খ্যাত কক্সবাজারে পর্যটকদের ঢল নামে। ঈদের তৃতীয় দিন রবিবার অর্ধলক্ষাধিক পর্যটক কক্সবাজারে বেড়াতে এসেছেন। এরফলে কক্সবাজার শহর, সমুদ্র সৈকত, বিপণীকেন্দ্র, রাস্তাঘাটসহ জেলার অন্যান্য পর্যটন স্পট প্রাণচঞ্চল হয়ে ওঠেছে। আগামী শনিবার পর্যন্ত শহর ও শহরতলীর ৩ শতাধিক আবাসিক হোটেল, গেস্টহাউস ও কটেজের আশিরভাগ কক্ষই আগাম বুকিং হয়ে আছে। বেড়াতে আসা ঢাকার দম্পতি রাশিদুজ্জামান ও সারা জামান তাদের প্রতিক্রিয়ায় জানান, অনুকূল পরিবেশে কক্সবাজারে বেড়াতে তাদের খুবই ভাল লাগছে। তবে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে পর্যটকদের জন্য আরো সুব্যবস্থা থাকা উচিত্ বলে মনে করেন তারা। কক্সবাজার ট্যুর অপারেটর এসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি এসএম কিবরিয়া খান জানান, শীতকালীন পর্যটন মৌসুম না হওয়া সত্ত্বেও ঈদের ছুটিতে বিপুলসংখ্যক পর্যটক কক্সবাজারে বেড়াতে এসেছেন এবং সেন্টমার্টিনসহ বিভিন্ন পর্যটন স্পটে স্বাচ্ছন্দ্যে ঘোরাঘুরি করেছেন। বর্তমানে টেকনাফ-সেন্টমার্টিন রুটে দুটি জাহাজ চালু রয়েছে বলে জানান তিনি। কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বাবুল আক্তার জানান, ঈদের ছুটিতে কক্সবাজারে অতিরিক্ত পর্যটকদের চাপ থাকায় তাদের নিরাপত্তা বিধানে পর্যটন স্পটসমূহে অতিরিক্ত পুলিশ ফোর্স মোতায়েন করা হয়েছে। তবে হরতালের কারণে দর্শনার্থীদের সংখ্যা কিছু কম বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।