এমপি রনি ও ২ শ্যালকের বিরুদ্ধে গলাচিপা থানায় দুই মামলা দায়ের
প্রকাশ : ১২ আগস্ট ২০১৩, ২২:৫৮
চাঁদা দাবি, ছিনতাই ও হামলাসহ বিভিন্ন অভিযোগে পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা-দশমিনা) আসনের এমপি গোলাম মাওলা রনি, তার শ্যালক ডাকুয়া ইউপি চেয়ারম্যান মো. মকবুল হোসেন খান ও চাচাত শ্যালক মো. মাহজিব খানসহ অর্ধশতাধিক অনুসারীর বিরুদ্ধে রবিবার রাতে গলাচিপা থানায় আরো দু’টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। গলাচিপা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. সামসুজ্জামান লিকন ও ডাকুয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. বদরুল ইসলাম খান পৃথকভাবে বাদী হয়ে মামলা দুটি দায়ের করেন।
উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক পানপট্টি ইউনিয়নের গেরামর্দন গ্রামের মো. সামসুজ্জামান ওরফে লিকনের দায়েরকৃত মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০১০ সালের ১৫ আগস্ট বিকেলে জাতীয় শোক দিবসে শহীদদের স্মরণে এবং যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে পানপট্টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মিলনায়তনে পানপট্টি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সমাবেশ চলছিল। ঐ সমাবেশে গোলাম মাওলা রনি এমপির নেতৃত্ব্বে মো. মকবুল খান, মো. মাহাজিব খান, পানপট্টি ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান মো. মোয়াজ্জেম হোসেন খান, মো. লিটু পেয়াদা, মো. আসাদ, মো. আব্বাসসহ তার অনুসারী একদল ক্যাডার সমাবেশে হামলা চালায়। পিটিয়ে আহত করে সেখানে আসা অনেক লোককে। তারা পানপট্টি বাজারের জাহাঙ্গীরের মুদি দোকান ও আবুল কালাম আজাদের বাসায় হামলা চালিয়ে ভাংচুর ও মালামাল লুট করে।
ডাকুয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি পূর্ব পাড়ডাকুয়া গ্রামের মো. বদরুল ইসলাম খানের অপর মামলায় অভিযোগে বলা হয়, ২০১২ সালের ২৫ মার্চ বেলা ১১টার দিকে পূর্ব পাড়ডাকুয়া গ্রামে বাদির বাড়ির সামনে আসামি গোলাম মওলা রনি, তার শ্যালক ডাকুয়া ইউপি চেয়ারম্যান মো. মকবুল খান, চাচাতো শ্যালক মাহাজিব খান, শামিম বিশ্বাস, বাসু দাস, জসিম মৃধা, সান্টু আকন, হায়দার খাঁ, জালাল হাওলাদার, মো. মতলেব গাজী, উলানিয়া বন্দরের নিত্যহরি দেবনাথসহ আরো লোকজন এসে তার কাছে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। এ সময় আসামি গোলাম মাওলা রনি তার বুকে পিস্তল ঠেকিয়ে এবং অন্য আসামিরা তার কাছ থেকে নগদ ৩৬ হাজার ৭শ টাকা ও তিনটি মোবাইল ফোনসেট ছিনিয়ে নেয়।
গলাচিপা থানার ওসি এস.এম জিয়াউল হক চাঁদা দাবি, ছিনতাই, হামলা ও ভাংচুরসহ বিভিন্ন অভিযোগে এমপি গোলাম মাওলা রনিসহ তার লোকদের বিরুদ্ধে থনায় মামলা দায়েরের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, রবিবার রাত ৯-৪৫ মিনিটে ও ৯-৫০ মিনিটে এই মামলা দু’টি থানায় রেকর্ড করা হয়েছে।
এর আগে রবিবার একইদিনে পটুয়াখালী জেলা দায়রা জজ আদালতে দশমিনা উপজেলার ৬টি ইউনিয়নে বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ না করে ৭৯ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দুর্নীতি দমন আইনে গোলাম মাওলা রনি এমপিসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করা হয়। দশমিনার বাসিন্দা মো. জামাল হোসেনের দায়ের করা ঐ মামলার গ্রহণযোগ্যতা শুনানির জন্য আগামী ২০ আগস্ট দিন ধার্য রয়েছে।