রায়পুরায় আ’লীগ ও বিএনপির সমর্থকদের সংঘর্ষে আহত ৫০
নরসিংদী প্রতিনিধি ও রায়পুরা সংবাদদাতা
প্রকাশ : ১২ আগস্ট ২০১৩, ২৩:০২
গ্রামের মোড়লিপনাকে কেন্দ্র করে গতকাল সোমবার সকালে জেলার রায়পুরায় আওয়ামী লীগ ও বিএনপি সমর্থিত লাঠিয়াল বাহিনীর মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষ হয়েছে। উপজেলার নিলক্ষার চরের গোপীনাথপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। সকাল ৭টা থেকে দুপুর ৩টা পর্যন্ত স্থানীয় সব্দর আলী হাই স্কুল মাঠে দীর্ঘ ৮ ঘন্টার অব্যাহত এই সংঘর্ষে উভয় পক্ষের প্রায় ৫০ জন নারী, পুরুষ ও শিশু আহত হয়েছে। গোপীনাথপুর থেকে পার্শ্ববর্তী গ্রাম দড়িগাঁও, বীরগাঁও, হরিপুর, আমিরাবাদ ও সোনাকান্দী নামে ৬টি গ্রামে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করে। এ সময় উভয় পক্ষের প্রায় ৬শ লাঠিয়াল অংশ নেয়। এছাড়া প্রায় শতাধিক ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। ব্যবহার করা হয় কয়েক হাজার টেটা, এককাইট্টা, লাঠি, ছুরি ও রামদা।
এ পর্যন্ত আহতদের মধ্যে শাহজাহান (৪০), খলিল (৬০), লিয়াকত আলী (৩০), সুজন (১৮), সামদ আলী (৩০) ও হযরত আলীর (২৭) নাম জানা গেলেও বাকিদের নাম জানা সম্ভব হয়নি। গ্রেফতার এড়াতে আহতদের নৌকায় করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগরসহ বিভিন্ন হাসপাতাল ও প্রাইভেট ক্লিনিকে পাঠানো হয়েছে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসলেও ঘটনাস্থলে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। রায়পুরা থানা পুলিশ নিলক্ষায় পৌঁছলেও তারা ঘটনাস্থলে অভিযান চালাতে ‘সাহস’ পায়নি। পরে নরসিংদী থেকে ৬০ সদস্যের দাঙ্গা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পাঠানো হয় বলে নরসিংদীর এএসপি সার্কেল জানান। এদিকে ৬/৭টি গ্রামের মানুষ গ্রাম ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাচ্ছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, গোপীনাথপুর গ্রামের আওয়ামী লীগ সমর্থিত জজ মিয়া ও বিএনপি সমর্থিত আব্দুর রহিমের মধ্যে এলাকার মোড়লিপনা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। ঈদের আগের দিন সুধন মিয়া নামে জজ মিয়ার এক সমর্থক দড়িগাঁও নতুন বাজারে চুল কাটাতে গেলে প্রতিপক্ষের লোকজন তাকে মারধর করে। এ খবরে জজ মিয়ার সমর্থকরা টেটা ও ব¬ল্লম নিয়ে রহিম মিয়ার লোকদেরকে ধাওয়া করলে তারা পালিয়ে যায়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই ঈদের দিন ২ পক্ষের মধ্যে আবার সংঘর্ষ শুরু হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
এরপর গত রবিবার ‘রহস্যজনক’ কারণে পুলিশ এলাকা ছেড়ে চলে গেলে জজ মিয়ার কয়েকশ’ লাঠিয়াল টেটা, বল্লম ও ককটেল নিয়ে প্রতিপক্ষের ওপর হামলা চালায়। এতে আব্দুর রহিমের সমর্থক কয়েকশ’ লাঠিয়াল সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ খবর ছড়িয়ে পড়ার পর পার্শ্ববর্তী গ্রামগুলোর বিএনপি ও আওয়ামী লীগের সমর্থকরাও একে অপরের বিরুদ্ধে টেটা যুদ্ধে লিপ্ত হয়। নরসিংদীর এএসপি সার্কেল একেএম জহিরুল ইসলাম বলেন, পরিস্থিতি এখন পুলিশের নিয়ন্ত্রণে এসেছে। এলাকায় প্রচুর পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।