প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা
প্রকাশ : ১৩ আগস্ট ২০১৩, ১৮:১৭
বাংলা
হিমন এডওয়ার্ড গমেজ
শিক্ষক, বাংলা
সেন্ট গ্রেগরী’জ হাই স্কুল, ঢাকা
দেখে এলাম নায়াগ্রা ক. জলপ্রপাতের কথা কোথায় পড়েছ ? জলপ্রপাত কী?
উত্তর : জলপ্রপাতের কথা বইয়ের পাতায় এবং সংবাদপত্রের পাতায় পড়েছি। জলপ্রপাত শব্দের অর্থ জলের পতন। উপর থেকে নিচে যে বিশাল জলরাশি পতিত হয় তাকে জলপ্রপাত বলে। বিশ্বের সবচেয়ে বড় জলপ্রপাত নায়াগ্রা।
খ. নায়াগ্রা কোথায় অবস্থিত?
উত্তর : বিশ্বের সবচেয়ে বৃহত্ জলপ্রপাত নায়াগ্রা কানাডায় অবস্থিত।
গ. নায়াগ্রার বিশেষত্ব কী?
উত্তর : কানাডায় অবস্থিত নায়াগ্রা জলপ্রপাত পৃথিবীর সবচেয়ে বড় জলপ্রপাত। অন্যান্য জলপ্রপাত থেকে এটা একেবারে ভিন্ন রকমের। সব জলপ্রপাত পাহাড় বা পর্বতের ওপর থেকে নিচে ধাবিত হচ্ছে। কিন্তু একমাত্র নায়াগ্রা তার ব্যতিক্রম। সমতল ভূমির ওপর দিয়ে বিশাল জলরাশি বিরাট একটা ফাটলের মধ্যে পতিত হচ্ছে । সমতলের ওপর দিয়ে একটি খরস্রোতা নদী বইছে। যে মাটির ওপর দিয়ে নদীটি প্রবাহিত হচ্ছে সেখানে হঠাত্ করেই এক বিশাল ফাটল। দুদিকের মাটির মধ্যে এক বিরাট ফাঁক। একটি নদী যতখানি চওড়া হতে পারে ততখানি ফাঁক । জল ঐ ফাঁকের মধ্যে চলে যাচ্ছে।
বিশ্ব ভূমণ্ডল বড়ই বিচিত্র। কত আজব ব্যাপার যে ঘটে। নায়াগ্রা জলপ্রপাত তার অন্যতম।
ঘ. নায়াগ্রার জল কোথায় যায়?
উত্তর: বিশ্বের সবচেয়ে বড় জলপ্রপাত নায়াগ্রার জল বিশাল একটা ফাটলের মধ্যে পতিত হয়। সমতলের ওপর দিয়ে প্রবাহিত খরস্রোতা নদীর হঠাত্ করেই এক বিশাল ফাটল। এই ফাটলের মধ্য দিয়ে পানি চলে যাচ্ছে। আর এ ফাটলের ভিতর দিয়ে পানি কোথায় যাচ্ছে তা কেউ বরতে পারে না।
‘দুই তীরে’
ক. ‘দুই তীরে’ কবিতায় কবি নদীতীরের যে দৃশ্য ত্রঁকেছেন তা বুঝিয়ে লেখ ।
উত্তর : বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর ‘দুই তীরে’ কবিতায় এদেশের চিরায়ত প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ফুটিয়ে তুলেছেন।
নদীতীরের দৃশ্য : নদীর এপারে বালুচর । শরত্কালে এ চরে চকাচকিরা বাসা বাধে। নদীর পাড়ে সাদা কাশফুল ফুটে অপরূপ দৃশ্যের অবতারণা করে। শীতের দিনে বিদেশি পাখি এসে ভীড় জমায় আর কচ্ছপরা রোদ পোহায়। সন্ধ্যে বেলায় ডিঙি নৌকা এসে তীরে ভিড়ে। ওপারের দৃশ্যটি আরো মনোরম। ঘন বনে ঢাকা ওপারের গ্রামটি। আঁকাবাঁকা একটি গলি পথ নদীতে এসে মিলেছে। সকাল সন্ধ্যায় মেয়েরা নদীর ঘাটে আসে। ছেলেরা সাঁতার কাটে আর ভেলা ভাসায়।
‘দুই তীরে’ কবিতায় কবি বাংলার অপরূপ সৌন্দর্যের যে চিত্র ত্রঁকেছেন তা আমরা উপভোগ করি।
খ. দু’জন মানুষের নদীকে ঘিরে ভালোবাসার বিভিন্ন দিকগুলো চিহূিত কর।
উত্তর : বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়াগায় এঁকেবেঁকে নদী বয়ে চলেছে। আর এ নদীর দু’ পাশে নানা রকম দৃশ্যের অবতারণা হয়।
কবিতায় কবি আমি ও তুমি কল্পনা করে দু’জনার নদীকে ঘিরে যে ভালোবাসা তৈরি হয়েছে তার দৃশ্য বর্ণনা করা হয়েছে। এক পাড়ের মানুষ ভালোবাসে নদীর বালুচর, শরত্কালে নির্জনে বাসা বাঁধা চকাচকিদের ঘর, নদীর পাড়ে কাশফুল, শীতের দিনে বিদেশি সব হাঁস, কচ্ছপের রৌদ্র পোহানোর দৃশ্য, সন্ধ্যেবেলা দু’একটা জেলের ডিঙি নৌকা। আর ওপাড়ের মানুষ ভালোবাসে পাতার ঘন আচ্ছাদনে ঘেরা সবুজ বন, নদীতে বেণুবনের শাখায় বাঁক নেওয়া মোড়, সকাল — সন্ধ্যায় ঘাটে বধূদের আনাগোনা ও ছেলেদের ভেলা ভাসানো।
পরিশেষে, তীরবাসী মানুষ নদীর সাথে একাত্ম হয়ে থাকে।
গ. নদীর বালুচরের নানা জীবজন্তু কী করে?
উত্তর : নদীর বালুচরে দেখা মেলে নানা বৈচিত্র্যময় জীবজন্তুর । নদীর বালুচরে শরত্কালে ঘর বাঁধে চকাচকি। শীতের দিনে সেখানে বিদেশি হাঁস বসবাস করে। কচ্ছপেরা রৌদ্র পোহায় তীরে।
ঘ. নদীর ঘাটে সকাল — সন্ধ্যাবেলায় কী দৃশ্য দেখা যায়?
উত্তর : নদীর ঘাটে সকাল — সন্ধ্যাবেলা জেলেদের ডিঙি ভেড়ে। বধূদের মেলা বসে। ছেলের দল ঘাটের জলে ভেলা ভাসিয়ে তাতে চড়ে নদীর বুকে ভেসে বেড়ায়।