প্রকৃতির নয়নাভিরাম পর্যটন সমৃদ্ধ মৌলভীবাজার
নূরুল মোহাইমীন মিল্টন, কমলগঞ্জ সংবাদদাতা
প্রকাশ : ১৩ আগস্ট ২০১৩, ১৯:৫১
ইতিহাস, ঐতিহ্যের অনেক স্থান দখল করে রেখেছে মৌলভীবাজার জেলা। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এক অপার লীলাভূমি টিলাঘেরা সবুজ চা বাগান, কুলাউড়ার মাধবকুন্ড জলপ্রপাত, শ্রীমঙ্গলের বাইক্কা বিল, কমলগঞ্জের লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, ত্রিপুরা সীমান্তবর্তী ধলই চা বাগানে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের স্মৃতিসৌধ, ছায়া নিবিড় পরিবেশে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি মাধবপুর লেক, সীমান্তবর্তী ঝর্নাধারা হামহাম জলপ্রপাত, হ্রদ ও গলফ মাঠ, শিল্পকলাসমৃদ্ধ মণি-পুরীসহ ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বিভিন্ন জাতিসত্তার জীবন ধারা ও সংস্কৃতিসহ প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর এই জনপদ যে কোন পর্যটকের মন ও দৃষ্টি কড়ে নেবে।
লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান ঃ
দেশের ১০টি জাতীয় উদ্যানের মধ্যে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপার লীলাভূমি লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান সংরক্ষিত বনাঞ্চলের মাঝে সবচেয়ে দর্শনীয়, নান্দনিক ও আকর্ষণীয়। পশুপাখি, বন্য প্রাণীর নিরাপদ আবাসস্থল। এ উদ্যানে অপলক দৃষ্টিতে চেয়ে আছে সবুজ বৃক্ষরাজি। বিশ্বের বিলুপ্ত প্রায় জীব উল¬ুকসহ কয়েকটি জন্তু ও বিলুপ্তপ্রায় কয়েকটি মূল্যবান গাছ-গাছালির শেষ নিরাপদ আবাসস্থল হল লাউয়াছড়া। এই উদ্যান ভ্রমণ পিপাসুদের জন্য এখন একটি আকর্ষণীয় স্থান। ১৯৯৬ সালে ১২৫০ হেক্টর এলাকা নিয়ে লাউয়াছড়াকে ঘোষণা করা হয় জাতীয় উদ্যান হিসেবে। ঢাকা থেকে প্রায় সোয়া ২শ’ কিঃমিঃ উত্তর পূর্বে লাউয়াছড়ার অবস্থান। ঢাকা থেকে সরাসরি ট্রেন অথবা বাসযোগে শ্রীমঙ্গল নেমে খুব সহজেই আসতে পারেন। সময় লাগবে আনুমানিক ৫ থেকে সাড়ে ৫ ঘন্টা।
লাউয়াছড়ায় কি আছে ঃ লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের মোট এলাকার ৮৫০ হেক্টর জায়গা জুড়ে রয়েছে দীর্ঘ মেয়াদী বাগান, ১৭০ হেক্টর এলাকায় স্বল্প মেয়াদী বাণিজ্যিক প্রজাতির বাগান, ২১ হেক্টর এলাকায় বাঁশ ও বেত, ১৫০ একর এলাকায় মাগুরছড়া খাসিয়াপুঞ্জি ও ১০০ একর এলাকায় খাসিয়াদের পান জুম। এছাড়া জাতীয় উদ্যানে ৪৬০ প্রজাতির প্রাণ-বৈচিত্র্যের ভেতর ১৬৭ প্রজাতির উদ্ভিদ, ৪ প্রজাতির উভয়চর প্রাণী, ৬ প্রজাতির সরিসৃপ, ২৪৬ প্রজাতির পাখি, ২০ প্রজাতির অর্কিড, ২০ প্রজাতির স্তন্যপ্রায়ী প্রাণী এবং ১৭ প্রজাতির পোকামাকড় রয়েছে। আগর বাগান, বিরল প্রজাতির গাছ, নানা প্রজাতির পাখির ডাক, ছড়া, বনফুল, অর্কিড, চশমাবানর, বিশ্বের বিলুপ্ত প্রায় দুর্লভ উল¬ুক এগুলো এই বনের বিশেষ আকর্ষণ। এ বনের বিচিত্র পশু-পাখি ও পোকা মাকড়ের অদ্ভুত ঝিঝি শব্দ, বানরের ভেংচি, ভাল¬ুকের গাছে গাছে ছুটাছুটির দৃশ্য দেখতে ভাল লাগে। জাতীয় উদ্যান ঘোষণার পর ইউএসআইডি-র অর্থায়নে নিসর্গ সহায়তা প্রকল্প এই উদ্যানের জীববৈচিত্র্য ও বৃক্ষ রক্ষণাবেক্ষণ এবং পর্যটকদের আকর্ষণীয় করে তুলতে উদ্যান ভ্রমণে ১টি ৩ ঘন্টার, ১টি ১ ঘন্টার ও ১টি আধাঘন্টার প্রাকৃতিক ট্রেইল বা পায়ে হাঁটার পথ চিহ্নিত করেছে। নিসর্গ সহায়তা প্রকল্প তৈরি করেছে্ ইকো ট্যুরিস্ট গাইড।