গ্রীন টি’র কদর দেশের থেকে বিদেশে বেশি

দেশের চা ভোক্তাদের কাছে ‘গ্রীন টি’ একটি অপরিচিত নাম। বাংলাদেশের একটি নিভৃত চা বাগানে গ্রীন টি এর উত্পাদন হলেও দেশের অভ্যন্ত্মরীন বাজারে ইহা বিক্রয় হয় না। উত্পাদিত গ্রীন টির সম্পূর্ণটাই রপ্তানী হয়ে যায় বিদেশে। পৃথিবীর গুটিকয়েক দেশে গ্রীন টি উত্পাদন হয় সীমিত পরিমানে এবং এর ভোক্তাত্ত নির্দ্দিষ্ট কয়েকটি দেশ। বাংলাদেশসহ পৃথিবীর সর্বত্র যে চা বহুল ব্যবহূত হয় তা ‘বস্নাক টি’। গ্রীন টি প্রস্তুত করার জন্য একই চা গাছ হতে পাতা আহরিত হলেও এই চা প্রক্রিয়াজাত করার পদ্ধতি ভিন্ন। এই কারনে উত্পাদিত চা এর বর্ণ এবং আকারও ভিন্ন এবং মূল্যও সাধারন বস্নাক টি এর চাইতে বেশি। সাধারণ চা গাছের পাতা হতে গ্রীন টি প্রস্তুত করা হলেও এই চা এর জন্য পাতা চয়ন পদ্ধতি ভিন্ন। বস্নাক টি এর জন্য একটি কুঁড়ির সাথে ৪টি পাতাও চয়ন করা যায় কিন্তু গ্রীন টি এর ড়্গেত্রে চয়নকৃত পাতার ৮০ ভাগ হতে হয় একটি কুঁড়ির সাথে দুটি পাতা। বস্নাক টি এর জন্য কাঁচা পাতা তোলা শুরম্ন হয় মার্চ হতে এবং তাহা ডিসেম্বর পর্যন্ত্ম চলে। কিন্তু বাগানের সর্বোত্কৃষ্ট মানের কঁচি পাতা সংগ্রহের জন্য গ্রীন টি এর পাতা চয়নকাল মে হতে অক্টোবর পর্যন্ত্ম সীমাবদ্ধ। ‘বস্ন্যাক টি’ প্রস্তুত প্রনালীতে কাঁচা পাতার জলীয় অংশ শুকাবার জন্য ২৪ ঘন্টার যে উইদারিং প্রক্রিয়া এবং ৫/৬ ঘন্টার ফার্মেন্টিং প্রক্রিয়ার প্রয়োজন গ্রীন টিরএর ড়্গেত্রে তাহা নাই। গ্রীন টি প্রস্তুত প্রনালীতে প্রথমে কাঁচা পাতাকে ১০০ ডিগ্রী সেলসিয়াস তাপমাত্রায় ‘বয়লারের’ ভিতর ৩ মিনিট বাস্পায়িত করা হয়। এর পর পাতাকে ঠান্ডা করার জন্য ৫মিনিট বিশেষভাবে তৈরি খোলা ফ্লোরে মেলে দেয়া হয়। পাতা ঠান্ডা হবার পর একটি নিদ্দিষ্ট পরিমান পর্যন্ত্ম পাতার জলীয় অংশ অপসারনের জন্য প্রতি মিনিটে ১০০০ বার ঘূর্ণায়মান ‘সেন্টিফিইজিং মেশিনে’ এই পাতাকে ৩ মিনিটের জন্য রাখা হয়। অতিরিক্ত পানি অপসারনের প্রক্রিয়া শেষ হবার পর ‘রোলিং টেবিলে’ দেয়া হয় যেখানে ১০/১২ মিনিট সময় নিয়ে পাতাকে কার্লিং করা (কুঞ্চিত ও পাকানো) হয়। কার্লিং করার পর এই পাতার ৬০/৬৫ ভাগ জলীয় অংশ শোষণের জন্য ‘ড্রায়ারের’ ভিতর ৯০ ডিগ্রী সেলসিয়াস তাপমাত্রায় ১৫-২০ মিনিট পর্যন্ত্ম শুকানো হয়। দ্বিতীয় পর্যায়ে এই পাতাকে পূণরায় ৩০ মিনিটের জন্য রোলিং এবং রোলিং টেবিল হতে আবার ২০-২৫ মিনিটের জন্য ‘ড্রায়ারে দেয়া হয়। সেখানে পাতা ১০০ ভাগ শুকাবার পর গ্রীন টি এর উত্পাদন প্রক্রিয়া শেষ হয়। উত্পাদিত চা কে তখন একাধিক সর্টিং মেশিন দ্বারা জটিল প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিভিন্ন ‘গ্রেড এ’ পৃথক করা হয়। বাংলাদেশে গ্রীন টি উত্পাদন করে একমাত্র জেমস ফিনলে চা কোম্পানীর’ জাগছড়া’ চা বাগান। এই কোম্পানীর ‘দারাগাও’ চা বাগানেও গ্রীন টি উত্পাদন করা হত কিন্তু বেশ কয়েকবছর ধরে তাহা বন্ধা গ্রীন টি উত্পাদন ব্যয়সাধ্য। চয়ন প্রক্রিয়ায় কাঁচা পাতা আহরনের পরিমান কম ও চয়নকলের সীমাবদ্ধ সময় এবং প্রক্রিয়াজাত করনের জটিলতার কারনে কাচাঁ পাতার ২১ শতাংশ তৈরী গ্রীন টি পাওয়া যায়। বস্নাক টি এর ড়্গেত্রে এই পরিমান ২৫ শতাংশ পর্যন্ত। গ্রীন টি এর তিনটি গ্রেড রয়েছে। এগুলি হল ‘হাইসন্স’, ‘ইয়াং হাইসন্স’ এবং ‘ফাইন ইয়াং হাইসন্স’। এই জাতের চা এর প্রধান ক্রেতা পাকিসত্মান। তবে পাকিসত্মান হতে চা আফগানিসত্মানেও যায়। এ ছাড়াও দুবাইসহ মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশেও গ্রীন টির চাহিদা রয়েছে। ইদানিং চীন, জাপান, তাইওয়ান, হংকং প্রভৃতি দেশেও গ্রীনটির কদর বাড়ছে।