ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ছাত্রী উপমহাদেশের বিপ্লবী লীলা নাগ
প্রকাশ : ১৩ আগস্ট ২০১৩, ১৯:৫৮
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ছাত্রী, বাংলা ভাষায় মহিলা সম্পাদিত প্রথম পত্রিকা মাসিক জয়শ্রী সম্পাদিকা, ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের অগ্নিকন্যা বিপ্লবী লীলা নাগের মৌলভীবাজার জেলার রাজনগর উপজেলার পাঁচগাঁও ইউনিয়নের পাঁচগাঁও-এ অবস্থিত পৈতৃক বাড়িটি জবর দখল করে নিয়েছে একটি প্রভাবশালী মহল। একাত্তরের কুখ্যাত যুদ্ধাপরাধী রাজাকার মো. আলাউদ্দিন চৌধুরীর নেতৃত্বে ওই প্রভাবশালী মহল শত কোটি টাকার বাড়িটি দখলে নিয়ে লীলা নাগের স্মৃতিচিহ্ন মুছে ফেলছে। ইতোমধ্যে বাড়িটির একাধিক ঘর ভেঙ্গে ফেলেছে এবং লীলা নাগের মায়ের নামে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়, সাব-পোষ্ট অফিস এর ঐতিহ্যবাহী ভবন সম্পূর্ণ ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে। লীলা নাগের স্মৃতিচিহ্ন হিসেবে বাড়ির বৈঠকখানাটি জরাজীর্ণ অবস্থায় এখনো টিকে আছে। তাও ময়লা-আবর্জনায় পরিপূর্ণ। যে কোন সময় ওই প্রভাবশালী মহলটি লীলা নাগের শেষ স্মৃতিচিহ্ন বৈঠকখানাটিও ভেঙ্গে ফেলতে পারে। বাড়িটি প্রভাবশালী মহলের হাত থেকে দ্রুত উদ্ধার ও সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলের তত্ত্বাবধানে লীলা নাগের স্মৃতিচিহ্ন সংরক্ষণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
লীলা নাগ কে এটি বর্তমান প্রজন্মের অনেকেই জানেন না। তিনি ছিলেন উপমহাদেশের স্বাধীনতা ও নারী জাগরণের পথিকৃত, ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের বিপ্লবী নারী। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের প্রথম ছাত্রী এবং বাংলা ভাষায় মহিলা সম্পাদিত প্রথম পত্রিকা মাসিক জয়শ্রী সম্পাদিকা। তার পৈতৃক বাড়ি মৌলভীবাজার জেলার রাজনগর উপজেলার পাঁচগাঁও ইউনিয়নের পাঁচগাঁও গ্রামে। এলাকার প্রবীণ ব্যক্তিদের সাথে আলাপ, বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনাসহ একাধিক গ্রন্থ থেকে জানা যায়, উপমহাদেশের প্রথম বাঙালি মহিলা সাংবাদিক লীলা নাগের জন্ম ১৯০০ সালের ২১ অক্টোবর ভারতের আসাম প্রদেশের গোয়ালপাড়া গ্রামে। তাঁর পিতা গিরীশচন্দ নাগ আসাম সরকারের জেলা হাকিম হিসেবে কর্মরত ছিলেন। সেই সুবাদে চাকরি সূত্রে লীলা নাগের পরিবার আসামের বাসিন্দা হয়। মা কুঞ্জলতা নাগ ছিলেন সুগৃহিণী। ১৯০৫ সালে আসামের দেওগর বিদ্যালয়ে লীলা নাগের শিক্ষা জীবনের শুরু। সেখানে দুই বছর অধ্যায়নের পর ভর্তি হন কোলকাতার ব্রাহ্ম গার্লস স্কুলে। ১৯১১ সালে ঢাকার ইডেন হাই স্কুলে ভর্তি হন। ১৯১৭ সালে ওই স্কুল থেকে প্রবেশিকা পরীক্ষায় কৃতিত্বের সাথে উত্তীর্ণ হন। ১৯১৬ সালে লীলা নাগের পিতা গিরীশচন্দ নাগ চাকরি হতে অবসর গ্রহণের পর স্থায়ীভাবে সপরিবারে বাংলাদেশে চলে আসেন।