গত অর্থবছরে ২৯৩ কোটি
কালো টাকা সাদা
প্রকাশ : ১৩ আগস্ট ২০১৩, ২০:১৬
গত ২০১২-১৩ অর্থবছরে বহুল আলোচিত কালো টাকা বিনিয়োগের সুযোগ নিয়েছেন খুব অল্প সংখ্যক করদাতাই। শেয়ারবাজারসহ অন্যান্য খাত মিলিয়ে ৩৫২ জন মোট ২৯২ কোটি কালো টাকা বিনিয়োগ করে অর্থনীতির মূল স্রোতে এনেছেন। এই খাত থেকে সরকার কর পেয়েছে ৪৯ কোটি টাকা। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
গত অর্থবছরে শেয়ারবাজারে মাত্র ১০ শতাংশ টাকা দিয়ে কালো টাকা বা অপ্রর্দর্শিত অর্থ বিনিয়োগের সুযোগ ছিল। আর স্বাভাবিক হারে কর প্রদানের পর আরো ১০ শতাংশ জরিমানা দিয়ে সেবা উত্পাদনসহ অন্যান্য খাতে কালো টাকা বিনিয়োগের সুযোগ দিয়েছিল সরকার। এনবিআরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী শেয়ারবাজারে মাত্র ৭৯ জন গত অর্থবছরে ১৬৩ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছেন। এর বিপরীতে সরকার ১৬ কোটি ৩ লাখ টাকা কর পেয়েছে। সেবা ও উত্পাদনসহ অন্যান্য খাতে ২৭৩ জন ১৩০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছেন। সরকার কর পেয়েছে ৩৩ কোটি ৬ লাখ টাকা।
কালো টাকা বিনিয়োগের সুযোগ দেয়া সত্ত্বেও কাঙ্ক্ষিত পরিমাণ অপ্রদর্শিত টাকা অর্থনীতির মূল স্রোতে না আসায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন খোদ এনবিআর চেয়ারম্যান গোলাম হোসেন। সমপ্রতি সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি বলেন, সুযোগ দেয়া হলেও করদাতারা এ সুযোগ নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।
গত ২০১১-১২ অর্থবছর থেকে সরকার কালো টাকা বিনিয়োগের সুযোগ দিয়ে আসছে। চলতি বছরও কালো টাকা বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে। তবে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগে সাড়া না থাকায় গতবারের সুযোগটি প্রত্যাহার করা হয়েছে। অবশ্য আবাসন খাতে (ফ্ল্যাট) বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ১০ শতাংশ কর দিয়ে যথারীতি কালো টাকা বিনিয়োগের সুযোগ রাখা হয়েছে। এছাড়া অন্যান্য খাতে বিদ্যমান হারে কর দিয়ে ওই করের উপর আরো ১০ শতাংশ হারে জরিমানা দিয়ে এই অর্থ মূল স্রোতে আনা যাবে।
বর্তমানে দেশের অর্থনীতিতে কি পরিমাণ কালো টাকা রয়েছে তা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। বিভিন্ন গবেষণায় এটি মোট অর্থনীতির আকারের ৫০ থেকে ৮০ ভাগ বলে বলা হয়েছে। তবে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত মনে করেন, এটি ৪০ থেকে ৫০ শতাংশের বেশি হবে না।